বারুইপুরের টার্মিনাসে দেখা নেই বাসের, জঙ্গলে ভরে গিয়েছে গোটা এলাকা
বর্তমান | ২৩ জুলাই ২০২৬
সংবাদদাতা, বারুইপুর: ২০১৯ সালে কয়েক কোটি টাকা ব্যয়ে তৎকালীন পরিবহণ মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হাত দিয়ে বারুইপুর ফুলতলায় উদ্বোধন হয়েছিল অত্যাধুনিক বাস টার্মিনাস। সেই টার্মিনাস এখন ধুঁকছে। ভিতরে একদিকে জঙ্গলে ঢেকেছে। সকালে গুটিকয়েক সরকারি বাস চলাচল করে। কিন্তু অফিস টাইমে নেই কোনো সরকারি বাস। টার্মিনাসের হাল ফেরার পাশাপাশি বেশি সরকারি বাস চালু হোক দাবি বাসিন্দাদের। এই ব্যাপারে বারুইপুর মহকুমা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, আমরা বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি।
বারুইপুর বিডিও অফিসের সন্নিকটে এই বাস টার্মিনাস। বারুইপুর পশ্চিমের বিধায়ক তথা বিধানসভার প্রাক্তন অধ্যক্ষ বিমান বন্দ্যোপাধ্যায়ও ২০১৯ সালের মার্চ মাসে উদ্বোধন অনুষ্ঠানে ছিলেন। যাত্রীদের অপেক্ষা করার জায়গা থেকে শুরু করে অফিস রুম, চালকদের বিশ্রাম ঘর, থাকার জায়গা, ক্যান্টিন সবই নির্মিত হয়েছিল দোতলা ভবনে। এখন এই ভবনের ভগ্ন দশা। জানালা, দরজা ভাঙা। বিবর্ণ হয়েছে গোটা ভবন। অভিযোগ, টার্মিনাসের উদ্বোধনের পরে বেশ কয়েকটি সরকারি বাস চলেছিল। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে তা কিছুদিন পর বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে একেবারে সকালে সাপুরজি, বারাসত, করুণাময়ী যাওয়ার বাস চলে। কিন্তু তার সংখ্যা যথেষ্ট কম। দুপুরের পরে বাস আর পাওয়া যায় না। হাওড়া যাওয়ার বাস অনিয়মিত। অভিযোগ, বাস ঠিকমত চলছে কি না, কোনো নজরদারি পর্যন্ত নেই। কোনো কর্মীর দেখা নেই। এখান থেকে ধর্মতলা, নিউ টাউন যাওয়ার বাস পর্যন্ত চলে না। দীঘা যাওয়ার বাস চালু হলেও তা বন্ধ হয়ে গিয়েছে। ক্যানিং যাওয়ার বাস পর্যন্ত নেই। সেখানে যেতে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে মানুষজনের ভরসা অটো।
ধর্মতলা যাওয়ার জন্য শিবানী পীঠ থেকে ২১৮ ও পদ্মপুকুর থেকে বারাসত যাওয়ার বেসরকারি বাস শুধু রয়েছে। অগত্যা এলাকার মানুষ যাতায়াতে ভরসা ভিড় ট্রেন। স্থানীয় বাসিন্দা সন্দীপ বসু আক্ষেপ করে বলেন, এককালে বারুইপুরে ৮০, ৮০ এ, ৯৭ রুটে বাস চলত। কিন্তু তা বন্ধ হয়ে গিয়ে অটোর দাপট বাড়ে। পরিবহণ ব্যবস্থা খুব খারাপ বারুইপুরে। যে যে জায়গা যাওয়া প্রয়োজন বাস টার্মিনাস থেকে সেই সরকারি বাসগুলি চলুক এটাই আরজি রাজ্য সরকারের কাছে। বাসিন্দা স্বপন চট্টোপাধ্যায় বলেন, বাস টার্মিনাসে সরকারি বাস চালুর ব্যাপারে বিধায়ক থেকে শুরু করে বিগত সরকার কোনো উদ্যোগ নেয়নি। তাই এই অবস্থা। অবিলম্বে পর্যাপ্ত সরকারি বাস চালু করে টার্মিনাসের হাল ফিরুক এটাই চাই।