১৯৮৫ সালের ২২ জুলাই। বাংলা সিনেইন্ডাস্ট্রির বুকে নেমে আসে এক অন্ধকার, নিঃস্তব্ধতা! ভোররাতে শোনা যায়, মহুয়া রায়চৌধুরী আর নেই। নাহ, স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। বাংলা সিনেইন্ডাস্ট্রির দাপুটে নায়িকার বয়স তখন মাত্র ২৬ বছর। অগ্নিদগ্ধ হয়ে পুড়ে গিয়েছিল তাঁর শরীরের প্রায় ৮০ শতাংশ। আর শেষরক্ষা হয়নি। সেই ঘটনার ৪১ বছর বাদে, একইদিনে ২২ জুলাই ফিরে এলেন মহুয়া। প্রকাশ্যে এল অভিনেত্রীর জীবন অবলম্বনে তৈরি ছবি ‘গুন গুন করে মহুয়া’র প্রথম লুক।
মহুয়া রায়চৌধুরী, টলিউডের এক উজ্জ্বল ব্যাক্তিত্ব। তাঁকে ক্ষণজন্মা বললেও ভুল হবে না! কয়েক দশক বাদে আজও তাঁর অভিনয়ে বুঁদ তাঁর দর্শক। তবে মহুয়ার জীবনযাপন ঘিরে যেমন আজও বহু রহস্য দানা বেঁধে রয়েছে, তেমনই অভিনেত্রীর মৃত্যু নিয়ে আজও কৌতূহল দর্শক, অনুরাগীমহলে। কারণ মাত্র ছাব্বিশ বছর বয়সে তৎকালীন সিনেইন্ডাস্ট্রির এক দাপুটে নায়িকার আকস্মিক প্রয়াণ চার দশক বাদেও বাঙালির মনে অজস্র প্রশ্নের উদ্রেক করে। ‘গুন গুন করে মহুয়া’য় সেই হদিশ কি মিলবে? এহেন কৌতূহল উসকেই মহুয়ার প্রয়াণ দিবসে মুক্তি পেল বায়োপিকের পয়লা লুক। রাণা সরকারের প্রযোজিত তথা রাজদীপ ঘোষ পরিচালিত এই সিনেমার নামভূমিকায় ‘জগদ্ধাত্রী’ খ্যাত জনপ্রিয় অভিনেত্রী অঙ্কিতা মল্লিক।
বুধবার মহুয়া রায়চৌধুরীর প্রয়াণদিবসে ‘গুন গুন করে মহুয়া’র প্রথম লুক প্রকাশ্যে এনে নির্মাতারা জানালেন, “আজ ২২শে জুলাই। ৪১ বছর আগে ঠিক এই সময়ে বৃষ্টিস্নাত কলকাতার এক হাসপাতালের বিছানায় শেষবারের মতো নিঃশ্বাস নিয়েছিলেন বাঙালির প্রিয় মহুয়া। শ্রীমান পৃথ্বীরাজের মহুয়া, পারাবত প্রিয়ার মহুয়া, অনুরাগের ছোঁয়ার মহুয়া। মহুয়ার জীবনটাই রহস্যে মোড়া। জন্ম রহস্য, সম্পর্ক রহস্য, অর্থ রহস্য, পরিবার রহস্য আর মৃত্যু রহস্য। আর ৪১ বছরের জমে থাকা সব রহস্যের উত্তর খুঁজতেই বড় পর্দায় আবার ফিরছেন মহুয়া।” ছবির পয়লা পোস্টারে অঙ্কিতা মল্লিকের লুক প্রায় তাক লাগিয়ে দেওয়ার মতো! জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত রূপটান শিল্পী সোমনাথ কুণ্ডুর হাতের ম্যাজিকে টেলিনায়িকা যেন আদ্যন্ত মহুয়া হয়ে উঠেছেন। এবার অপেক্ষা ছবিমুক্তির।