বাইরের পৃথিবীর কাছে নিজেদের প্রমাণ করতে চাই না: উজান গঙ্গোপাধ্যায়
এই সময় | ২৩ জুলাই ২০২৬
এই সময় অনলাইন: কাতুকুতু বুড়ো’ কে নিয়ে প্রথম স্মৃতি কী?
উজান: স্কুলে অ্যানুয়াল ফাংশানে প্রতিবছর আবৃত্তি করতাম। অধিকাংশ কবিতা পড়া, মুখস্থ করা অনুষ্ঠানের তাগিদেই। তবে ‘কাতুকুতু বুড়ো’ স্কুলে কখনও আবৃত্তি করিনি। তবে ছোটবেলায় পড়েছি বহুবার।
রাপূর্ণা: আমার তখন ৫ বছর বয়স। মা আমাকে ‘আবোল তাবোল’ দিয়ে বলেছিল কবিতাগুলো পড়তে। মাঝে মাঝে মা পড়ে শোনাত। তার পরে আর কাতুকুতু বুড়ো পড়া হয়নি। তবে শুটিংয়ের আগে পড়েছি।
এই সময় অনলাইন: নাম ছাড়া, এই সিনেমার সঙ্গে আর কী ভাবে জড়িয়ে আছেন সুকুমার রায়?
উজান: আমাদের নানা কাজেই সাহিত্য এবং অন্যান্য ক্ষেত্রের যাঁরা আইকন, তাঁদের ছোঁয়া নানা কাজে থাকে। তবে এই ছবির ক্ষেত্রে সুকুমার রায় জড়িয়ে আছেন আরও গভীর ভাবে। ছবির টাইটেল তার বড় প্রমাণ। এ ছাড়াও ‘বি বি ডি বাগ’ গানেও ‘আবোল তাবোল’-এর চেনা কিছু শব্দ রয়েছে।
এই সময় অনলাইন: গায়িকা থেকে নায়িকা হওয়ার জার্নিতে কতটা পরিশ্রম হলো?
রাপূর্ণা: ভীষণ পরিশ্রম হয়েছে। খুবই শক্ত কাজ। অফারও এসেছে হঠাৎ করে। একদিন স্টেজে শো করছিলাম। সেই সময়ে আমাকে কে.জি (কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়) ফোন করেন। প্রথমে ভেবেছিলাম বোধহয় গান করার জন্য ডাকা হচ্ছে। তখনও কে.জি খোলসা করে কিছু বলেননি। তার পরে কথা বলতে গিয়ে পুরোটা জানতে পারি। চরিত্রটির জন্য অডিশন দেওয়া শুরু করলাম। প্রায় ৫-৬ বার অডিশন দিয়েছি। ২২তম জন্মদিনের আগের দিন জানতে পারলাম কাজটা আমি করছি।
এই সময় অনলাইন: পরিচালক না কো-অ্যাক্টর, কোন ভূমিকায় উজান বেশি ভালো?
রাপূর্ণা: দুটো ভূমিকায় ও দু’রকম। পরিচালক হিসেবে একটু স্ট্রিক্ট। কো-অ্যাক্টর হিসেবে বেশ কুল।
উজান: এ ব্যাপারে আমি একটু বলি। পর্দায় আমাদের দু’জনের সম্পর্কে যে সফটনেস আছে, সেটাই অফ ক্যামেরায়ও ধরে রাখতে হচ্ছিল। ফলে খুব বেশি বকাবকি করা যায়নি। রাপূর্ণা ভীষণই পরিশ্রমী।
এই সময় অনলাইন: পরিচালনা এবং অভিনয় একসঙ্গে, কতটা চাপ হলো?
উজান: একই সঙ্গে একাধিক দায়িত্ব সামলাতে বাবা-মাকে দেখেছি। আমি সাবস্টিটিউট হিসেবে নেমেছি। অমানুষিক পরিশ্রম করেছি। অক্লান্ত খাটনির ফলে আমাদের যে ক্লান্ত লাগছে, সেটা বোঝার অবকাশটুকুও থাকত না। পায়ের লিগামেন্ট ছিঁড়ল। এমআরআই করে এসে যন্ত্রণা নিয়ে শুটিং করেছি।
এই সময় অনলাইন: দর্শকের প্রত্যাশা পূরণের চাপ কি অস্বস্তিতে ফেলছে উজানকে?
উজান: অস্বস্তি কিংবা চাপ কোনওটাই নেই। আমার বাবা কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায় এবং মা চূর্ণী গঙ্গোপাধ্যায় অভিনীত-পরিচালিত ছবি লক্ষ-লক্ষ দর্শক দেখেছেন। জাতীয় স্তরেও স্বীকৃত হয়েছে। বাবা-মায়ের কাজের ধরন একেবারে আলাদা। ফলে তুলনা করাটা কঠিন। আমি একটা গল্প ভেবেছি। নিজের মতো করে বলতে চেয়েছি। তার পরেও যদি তুলনা টানা হয়, সেটাও সম্মানের সঙ্গেই গ্রহণ করব।
এই সময় অনলাইন: বলা হয় জেন জ়ি খামখেয়ালি, আপনভোলা! আপনাদের কী মনে হয়?
উজান: আমি আর রাপূর্ণা দু’জনেই জেন জ়ি। আমি বর্ডার লাইনে আছি। রাপূ্র্ণা পুরোপুরি জেন জ়ি। নতুন প্রজন্মকে নিয়ে অনেক ভুল ধারণা রয়েছে। ইয়ং ব্রিগেড মানেই দায়িত্বজ্ঞানহীন, ফ্রাস্টেটেড ধরে নেওয়া হয়। আগেও হয়েছে, পরেও হবে।
রাপূর্ণা: খামখেয়ালি তো আমরা সকলেই। কিন্তু জেন জ়ি-র দিকে বেশি আঙুল ওঠে কারণ আমরা অনেক বেশি সতর্ক। আমরা চারিদিকে নজর রাখছি। কোথায়, কী ঘটছে সেই বিষয়গুলি জানার চেষ্টা করি। আর তাই প্রশ্নও বেশি করি। প্রশ্ন করি বলেই হয়তো আমাদেরই সব দোষ।
এই সময় অনলাইন: আড়ালে অনেকেই বলেন উজানের ক্ষেত্রে স্বজনপোষণ হয়
উজান: জানি এই কথা আমাকে সারাজীবন শুনে যেতে হবে। কিছু করার নেই। তবে এই ছবির ক্ষেত্রে আমার সুযোগ পাওয়ার গল্পটা বলতে পারি। চিত্রনাট্য নিয়ে একদিন শ্রীকান্ত মোহতার কাছে গিয়েছিলাম। তাঁর গল্প ভালোলাগে। তিনি আমাকে ছবির দায়িত্ব দেন। এই ভাবেই সুযোগ পাই। আমার বাবা-মা দীর্ঘ ১৫ বছর কিন্তু এসভিএফ-এর সঙ্গে কাজ করেননি। তাই আমার সুযোগ পাওয়ার সঙ্গে পারিবারিক পরিচয় সত্যিই জড়িয়ে নেই।
এই সময় অনলাইন: দু’জনের ক্ষেত্রেই এই ছবি কি নিজেদের প্রমাণ করার প্রথম ধাপ?
উজান: প্রমাণ করার দায়িত্ব নেই। তাই চাপও নেই। তবে হ্যাঁ, দর্শকের যদি ভালোলাগে তা হলে আগামী দিনে কাজ করার আগ্রহ পাব।
রাপূর্ণা: বাইরের পৃথিবীকে কোনও প্রমাণ দিতে চাই না। আমার নিজের কাছে নিজেকে প্রমাণ করার আছে। প্রথম বার এতবড় সুযোগ পেয়েছি। তাই আমি পারলাম কি না, সেই প্রমাণ নিজেকেই দিতে চাই।
এই সময় অনলাইন: নতুন প্রজন্মের শিল্পী হিসেবে ইন্ডাস্ট্রির জন্য সরকারের থেকে কী প্রত্যাশা?
উজান: সকলে কাজ করুক। নিজের মতো করে গল্প বলার সুযোগ পাক। কাজ নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনা এবং বাক স্বাধীনতার সুযোগ যেন থাকে। সেটা হলেই ইন্ডাস্ট্রির জন্য সবচেয়ে ভালো।
রাপূর্ণা: কাজের স্বাধীনতা থাকলে সত্যিই ইন্ডাস্ট্রির উন্নতি হবে।