• কম বাজেটেও ভালো ছবি তৈরি হয়
    এই সময় | ২৩ জুলাই ২০২৬
  • রাত দুটো-আড়াইটের আগে ঘুম আসে না। মাঝে-মাঝে তিনটেও পেরিয়ে যায়। সকালে ঘুম ভাঙতে অনেক দেরি হয়। সঠিক সময়ে অফিস ঢোকা হয় না। বসের চোখরাঙানি তাই নিত্যসঙ্গী। জেন জ়ি এবং লেট মিলেনিয়ালদের অনেকেরই গল্প এটা। মনের ভিতরের নিঃশব্দ অস্থিরতা, সংকট এবং আত্ম-অন্বেষণের সেই গল্প নিয়েই তৈরি হয়েছে ‘গেট আপ কিংশুক’। ছবিটি পরিচালনা করেছেন নব্য পরিচালক নন্দন ঘোষ।

    ছবির কেন্দ্রীয় চরিত্র কিংশুক। একটি ছোট শহরের মধ্যবিত্ত পরিবারের ছেলে, যে কর্মসূত্রে কলকাতায় থাকে। তার সমস্যাটি আপাতদৃষ্টিতে খুব সাধারণ। সে সময় মতো ঘুমোতে পারে না, আবার ভোরে উঠতেও পারে না। কর্মজীবনে সে সফল। প্রেমিকার ভালোবাসা আর সুন্দরী রুমমেটের যত্নে মোড়া জীবনে ইনসমনিয়াই তার একমাত্র শত্রু। আর অনিদ্রা ধীরে-ধীরে তার ব্যক্তিগত জীবন, কর্মজীবন এবং আত্মবিশ্বাসকে গ্রাস করতে শুরু করে।

    নিত্য যাঁরা এই সমস্যার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের একবার হলেও ছবিটি দেখা উচিত। সমস্যার সামনে দাঁড়ালে সমাধান পেলেও পেতে পারেন। সমাধানের পথ হিসেবে অনেকেরই মনে হতে পারে চিকিৎসকের কাছেই আছে সেই জাদুকাঠি, যা দিয়ে সব বদলে যাবে। তবে পরিচালক এই বিষয়টিকে শুধুমাত্র শারীরিক সমস্যার গণ্ডিতে আটকে রাখেননি। বরং এক প্রজন্ম নিজেদের জৈবিক ছন্দের সঙ্গে সমাজের নির্ধারিত সময়সূচির সংঘাতে প্রতিনিয়ত যে লড়াই করে চলেছে, সেটাই তুলে ধরা হয়েছে ছবিতে।

    ফিল্মটি তৈরি করতে ইয়ং ব্রিগেডের যে প্রচেষ্টা, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। অভিনেতাদের অনেকেই ক্যামেরার সামনে প্রথম অভিনয় করলেন। তাই সংলাপ বলার ধরন কিংবা অভিব্যক্তি আরও পরিণত হতে পারত। কিন্তু সেই খামতিগুলি খুব বেশি গুরুত্ব পায় না। প্রত্যেকের অভিনয়ের মধ্যেই একটি আন্তরিক চেষ্টা রয়েছে। চরিত্রগুলিকে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলার জন্য যে ভাবনা, তা পর্দায় স্পষ্ট ধরা পড়ে। এই ছবি দেখতে-দেখতে আরও একটি বিষয় বারবার মনে হয়। ভালো সিনেমা তৈরি করতে সব সময়ে বিশাল বাজেট, বড় তারকার প্রয়োজন হয় না। তার থেকেও বেশি প্রয়োজন ভালো ভাবনা, গল্প বলার সৎ সাহস এবং সেই গল্পকে বিশ্বাসযোগ্য ভাবে পর্দায় উপস্থাপন করা। ‘গেট আপ কিংশুক’ সেই বিশ্বাস থেকেই তৈরি। সীমিত সামর্থ্য নিয়েও যে প্রাসঙ্গিক বিষয় নিয়ে ছবি তৈরি করা যায়, তারই একটি উদাহরণ এই সিনেমা। ছবির নির্মাণে কোথাও অযথা চাকচিক্যের চেষ্টা নেই, বরং গল্পটাকেই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেই সততাই ছবির সবচেয়ে বড় শক্তি।

    কিংশুকের চরিত্রে সাহির রাজ সংযত অভিনয় করেছেন। কিংশুকের মানসিক ক্লান্তি ও ভেতরের ভাঙনকে নিখুঁত ভাবে ফুটিয়ে তোলার যে চেষ্টা, সেটা প্রশংসনীয়। পাশাপাশি ভাগ্যশ্রী রায়চৌধুরী, দীপান্বিতা তৃণা দাসেরাও পরিমিত অভিনয় করেছেন।
  • Link to this news (এই সময়)