এক অবিবাহিতা শিক্ষিকাকে খুনের অভিযোগ। সম্পত্তি হাতাতে ৫৩ বছর বয়সি ওই শিক্ষিকাকে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। হত্যার আগে অভিযুক্তরা ওই শিক্ষিকাকে দিয়ে সম্পত্তির ভুয়ো নথিপত্র ও একটি জাল উইলে সই করিয়ে নিয়েছিল বলেও দাবি পুলিশের। মহারাষ্ট্রের থানে এলাকার এই ঘটনায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে তিন জনকে।
পুলিশ জানিয়েছে, মৃতের নাম সঙ্গীতা মারুতি চন্দনশিবে (৫৩)। অবিবাহিতা ওই মহিলা শিক্ষকতার পাশাপাশি এলআইসি (LIC) এজেন্ট হিসেবেও কাজ করতেন। গত ১৪ জুলাই দপ্তরের কিছু কাজের জন্য শাহাপুরে গিয়েছিলেন তিনি। তবে বাড়ি ফিরে না আসায় ১৫ জুলাই নিখোঁজের অভিযোগ দায়ের করেন পরিবারের লোকজন।
থানের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) অমরসিং যাদব জানিয়েছেন, এর পরেই তদন্ত শুরু হয়। গত ১৬ জুলাই নাসিক জেলার ওয়াদিভারহে (Wadivarhe) থানা এলাকার সিন্নার-ঘোটি সড়কের পাশে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। তার পরেই হত্যা ও প্রমাণ লোপাটের অভিযোগে একটি মামলা দায়ের করা হয়। ওই খুনের ঘটনায় তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে বুধবার জানিয়েছেন পুলিশ আধিকারিকরা।
পুলিশ জানিয়েছে, সিসিটিভি ফুটেজ, কারিগরি বিশ্লেষণ এবং তদন্তের অন্যান্য সুত্রকে কাজে লাগিয়ে ওই তিন জনকে ধরা হয়েছে। ক্রাইম ব্রাঞ্চের সমান্তরাল তদন্তের সূত্র ধরে পুলিশ আসানগাঁওয়ের রিয়েল এস্টেট ব্রোকার দিগম্বর ভাগুজি আওহাদ এবং আম্বিভলির চালক তুষার মুরলিধর রত্নপারখির সন্ধান পায়। ওই দুজনকে জেরা করেই নাসিকের সন্তোষ রমেশ যাদব এবং আম্বিভলির বিনোদচন্দ্র ওরফে সন্তোষ পান্ডের বিষয়ে জানতে পারে। পুলিশের দাবি, সন্তোষ এবং রমেশ দু’জনে মিলে সঙ্গীতা মারুতি চন্দনশিবেকে হত্যার ষড়যন্ত্র করেছিলেন বলেও জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছিল তারা।
পুলিশ জানিয়েছে একটি এলআইসি (LIC) পলিসি করিয়ে দেওয়ার নাম করে আসানগাঁওয়ের একটি ভাড়া করা ফ্ল্যাটে ওই মহিলাকে নিয়ে যায় অভিযুক্তরা। অভিযোগ, তারা তাঁর সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হিসেবে আওহাদ ও রত্নপারখির নাম উল্লেখ করে একটি ভুয়ো উইল তৈরি করে। ওই মহিলাকে মারধর করে সেই জাল নথিপত্রে সই করতে বাধ্য করে । এর পরেই শ্বাসরোধ করে তাঁকে হত্যা করা হয়।
থানের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) জানিয়েছেন, খুনের পরে অপরাধ আড়াল করতে একটি গাড়ি করে ওই মহিলার দেহ সিন্নার-ঘোটি সড়কের ( Sinnar-Ghoti road) পাশে একটি কলেজের কাছে ফেলে যায় অভিযুক্তরা।
পুলিশ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এখনও বিনোদচন্দ্র ওরফে সন্তোষ পলাতক। ওই ব্যক্তিকে ধরার জন্য চেষ্টা চালচ্ছেন তাঁরা।
এক নজরে:
FAQ
কাকে খুন করা হয়েছে?
সঙ্গীতা মারুতি চন্দনশিবে নামে এক শিক্ষিকাকে শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়। অবিবাহিতা ওই মহিলা এলআইসির এজেন্ট ছিলেন
কোথায় খুন করা হয়?
এলআইসি পলিসি করিয়ে দেওয়ার নাম করে আসানগাঁওয়ের একটি ভাড়া করা ফ্ল্যাটে ওই মহিলাকে নিয়ে যায় অভিযুক্তরা।
কোথা থেকে উদ্ধার হয় দেহ?
নাসিক জেলার ওয়াদিভারহে থানা এলাকার সিন্নার-ঘোটি সড়কের পাশে একটি কলেজের কাছ থেকে তাঁর মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
কেন খুন করা হয়?
ওই মহিলার সম্পত্তি হাতাতে একটি জাল উইলে সই করতে বাধ্য করা হয়। তার পরেই খুন করা হয় ওই মহিলাকে।
কাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ?
এই খুনের ঘটনায় চার জন যুক্ত বলে জানিয়েছেন থানের ডেপুটি পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) । অভিযুক্তদের মধ্যে তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। চতুর্থ জনের খোঁজ চলছে।