Big Breaking: NEET প্রশ্ন ফাঁস থেকে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা চেয়ে ক্রমশই বাড়ছে বিক্ষোভের আঁচ। এই আবহে প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় এ বার আরও কড়া অবস্থান নিল কেন্দ্র। দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে কোনও আপস হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৃহস্পতিবার আন্দোলনকারীদের আশ্বস্ত করতে তাঁর ঘোষণা, পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস সংক্রান্ত মামলায় অভিযুক্তদের বিচারের দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য গঠন করা হবে বিশেষ ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত। একইসঙ্গে তাঁর হুঁশিয়ারি, ‘যারা দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার চেষ্টা করবে, তাদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না।’
বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের তরুণ প্রজন্মের স্বপ্ন ও ভবিষ্যতের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু হতে পারে না। তাই প্রশ্নফাঁসের মতো অপরাধে জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে কেন্দ্র ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
মোদীর কথায়, ‘যারা দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নষ্ট করার চেষ্টা করবে, তাদের কাউকেই রেয়াত করা হবে না। অভিযুক্তদের দ্রুত বিচার হবে এবং কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।’ প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এখানেই শেষ নয়, পোস্টে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করে লিখেছেন, ‘আমাদের তরুণদের ভালো রাখা এবং তাঁদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করাই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এর থেকে কোনও কিছুই বড় নয়।’ শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সুরক্ষায় ধারাবাহিক উদ্যোগেরই একটি অংশ এই ফাস্ট ট্র্র্যাক আদালতে বিচার বলে ব্যাখ্যা করেছেন মোদী।
প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন আদালতে প্রশ্নফাঁস মামলাগুলির দ্রুত শুনানি হবে। তদন্ত থেকে বিচার—সব প্রক্রিয়াই নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে শেষ করার উপর জোর দেওয়া হবে, যাতে অপরাধীরা দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি পায় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ আটকানো যায়।
বাদল অধিবেশন শুরুর আগেও NDA সাংসদদের বৈঠকেও প্রধানমন্ত্রী প্রশ্নফাঁসকে ‘ঘোর পাপ’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘এটি কোনও রাজনৈতিক বিষয় নয়, বরং জাতীয় সমস্যা। কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারকে একযোগে কাজ করে এই চক্র ভাঙতে হবে।’ পাশাপাশি, যারা প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে জড়িত, দেশের সেরা আইনজীবীদের সাহায্যে তাদের কঠোরতম শাস্তি নিশ্চিত করার নির্দেশও দিয়েছিলেন তিনি।
NEET প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা-সহ কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ইস্তফা চেয়ে বিক্ষোভে উত্তাল দিল্লি। রাজধানীতে আন্দোলনে নেমেছেন হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী। সামিল হয়েছেন সাধারণ মানুষে থেকে সেলেব। যন্তর মন্তরে প্রতিদিনই বাড়ছে জমায়েতের বহর। এ দিন সকাল থেকেই অরাজনৈতিক সংগঠনের ধারাবাহিক আন্দোলনকে সমর্থন করে যন্তর মন্তরে হাজির হয়েছেন প্রচুর মানুষ। পড়ুয়াদের এই দাবির সমর্থনে ২৮ দিন ধরে অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষাবিদ ও পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুক। এই পরিস্থিতিতেই কেন্দ্রের তরফে পরীক্ষা ব্যবস্থার উপর আস্থা ফেরাতে প্রধানমন্ত্রী এই বড় ঘোষণা করলেন।
বিরোধী দলগুলি সংসদে NEET প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের দাবি তুলেছে। যদিও সরকারপক্ষ ইতিমধ্যেই সংসদে এই বিষয়ে আলোচনায় সম্মতি জানিয়েছে। এর মধ্যেই মোদীর এই ঘোষণা রাজনৈতিকভাবেও তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। সরকারের দাবি, পরীক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা বজায় রাখতে ইতিমধ্যেই একাধিক পদক্ষেপ করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে প্রশ্নফাঁস রুখতে আরও কঠোর ব্যবস্থা কার্যকর হবে। তবে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা প্রশ্নে নীরব বিজেপি সরকার।