এই সময়, আসানসোল: জলের তোড়ে ভেসে গিয়েছে দামোদর নদ পারাপারের কাঠের সেতু। চরম দুর্ভোগে পশ্চিম বর্ধমান ও বাঁকুড়া জেলার কয়েক হাজার বাসিন্দা। দামোদর পারাপার করতে গিয়ে মাথায় হাত তাঁদের, কিন্তু উপায় তো নেই। কাজের প্রয়োজনে গন্তব্যে পৌঁছতে ৩৫ কিলোমিটার পথ বেশি ঘুরতে হচ্ছে বলে জানাচ্ছেন তাঁরা। নতুন করে সেতু তৈরি না–হওয়া পর্যন্ত খেয়া পারাপারের ব্যবস্থা হচ্ছে।
পশ্চিম বর্ধমান ও বাঁকুড়া জেলার ২৫টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ নিয়মিত দামোদর পারাপার করেন। দামোদরের এই অংশ বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের অধীনে। তাই পারাপারের জন্য বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের তরফে স্থানীয়দের নৌকো চালানোর অনুমতি দেওয়া হয়। গ্রীষ্মে দামোদরে থাকে হাঁটু সমান জল, ফলে খেয়া পারাপার করা সম্ভব হয় না বলে জানাচ্ছেন নৌকোর চালকরা। তাঁরাই নদের উপরে একটি কাঠের সেতু নির্মাণ করে যাত্রী পারাপারের ব্যবস্থা করেন। এই সেতুটি পশ্চিম বর্ধমানের বার্নপুরের ভূতাবুড়ি থেকে বাঁকুড়ার সালতোড়ের মধ্যে সংযোগ রক্ষা করে। মঙ্গলবার রাতে ওই কাঠের সেতু জলের তোড়ে ভেসেছে।
বুধবার সকাল থেকে শুরু হয় দুর্ভোগ। বার্নপুর ইস্কো কারখানার ঠিকাশ্রমিক জিতেন বাউড়ি জানালেন, মঙ্গলবার রাতের ডিউটি সেরে এ দিন সালতোড়ে নিজের বাড়ি ফেরার সময়ে দেখতে পান, সেতুর অস্তিত্ব নেই। তিনি বলছেন, ‘এখন প্রায় ৩৫ কিমি পথ বেশি ঘুরে ডিসেরগড় সেতু ধরে ফিরতে হবে।’ বাঁকুড়ার ইশ্বরদা গ্রামে দরকারি কাজে যাওয়ার পথে বার্নপুর কালাঝরিয়ার বাসিন্দা শান্তনু লোহারও পড়েছেন বিপদে।। তাঁর কথায়, ‘১০ মিনিটের রাস্তা এখন ঘুরপথ দিয়ে যেতে প্রায় আড়াই ঘণ্টা সময় লাগবে।’ তবে স্থানীয়রা এ–ও মানছেন, মধ্যরাতে জলের তোড়ে বাঁশের সেতু ভেসে যাওয়ায় বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। সেতুর ভাঙা অংশ পরিষ্কারের কাজ চলছে। দু’দিন সময় লাগবে। তার পরে আবার শুরু হবে নৌকো চলাচল।
কাঠের সেতু ভেসে যাওয়ায় ফের পাকা সেতু নির্মাণের দাবিতে সরব হয়েছে দামোদর বিহারীনাথ সেতু বন্ধন কমিটি। সংগঠনের সভাপতি সুবল চক্রবর্তী বলেনন, ‘দুই জেলার বাসিন্দাদের স্বার্থের কথা ভেবে গত কয়েক দশক ধরে দামোদর নদের উপরে পাকা সেতু নির্মাণের দাবি জানানো হচ্ছে। আশা করি, এ বার সরকারি উদ্যোগে তা তৈরি হবে।’ সম্প্রতি রাজ্যের পুরমন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পালও জানিয়েছিলেন, দামোদরের উপরে পাকা সেতু নির্মাণ করা হবে। এ বার দেখার, তা কত দিনে বাস্তবায়িত হয়!