সূর্যকান্ত কুমার, কালনা
বিদ্যালয়ের একটি ঘরেই চলছে দোকান। তবে লাভের জন্য নয়, ছাত্রছাত্রীদের শেখানোর উদ্দেশ্যে। পূর্ব বর্ধমানের কালনার নাদনঘাটের জাহান্নগর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালু হয়েছে অভিনব ‘পাঠশালা স্টোর’। এখানে খাতা, পেন, পেন্সিল, পেন্সিল বক্স, জলের বোতল সমেত প্রয়োজনীয় শিক্ষা সামগ্রী কেনা যায়। একইসঙ্গে এই দোকানের মাধ্যমেই ছাত্রছাত্রীরা হাতে-কলমে শিখছে যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগের বাস্তব প্রয়োগ।
বিদ্যালয়ের শিশু সংসদের সদস্যরাই পালা করে এই স্টোর পরিচালনা করে। প্রতিদিন তিন জন করে ছাত্রছাত্রী দোকানের দায়িত্বে থাকে। তারা ক্রেতাদের প্রয়োজনীয় সামগ্রী দেয়, টাকা নেয়, হিসেব রাখে এবং দিনের শেষে বিক্রির সব হিসাব শিক্ষকদের বুঝিয়ে দেয়। ফলে ছোটবেলা থেকেই তাদের মধ্যে দায়িত্ববোধ, শৃঙ্খলা ও আর্থিক হিসাব-নিকাশের প্রাথমিক ধারণা গড়ে উঠছে।
পড়াশোনায় যাতে কোনও ব্যাঘাত না ঘটে, সেই কারণেই নির্দিষ্ট সময়ে দোকান খোলা রাখা হয়। স্কুল শুরুর আগে সকাল ১০টা থেকে ১১টা, দুপুরে মিড-ডে মিলের সময় দুপুর ১টা ২০ মিনিট থেকে ২টো ২০ মিনিট এবং স্কুল ছুটির পরে বিকেল সাড়ে ৩টে থেকে ৪টে পর্যন্ত স্টোর খোলা থাকে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অমরেশ দেবনাথ জানান, এক শুভানুধ্যায়ীর পাঁচ হাজার টাকার অনুদানে খাতা, পেন সমেত বিভিন্ন শিক্ষা সামগ্রী কিনে এই স্টোরের সূচনা হয়েছিল। পরে আরও দু’জনের অনুদানে দোকানে সামগ্রীর পরিধি বাড়ানো সম্ভব হয়েছে। এখানে কোনও লাভ রাখা হয় না। ছাত্রছাত্রীরা সামগ্রী পায় কেনা দামে। ফলে বাইরে যে খাতার দাম ২০ টাকা, সেটি স্কুলের স্টোরে ১৭ টাকায় পাওয়া যায়। ভবিষ্যতে মোজা, টাই সমেত স্কুল সংক্রান্ত আরও প্রয়োজনীয় সামগ্রী রাখার পরিকল্পনাও রয়েছে।
প্রধান শিক্ষক বলেন, ‘স্কুলের মধ্যেই প্রয়োজনীয় শিক্ষা সামগ্রী পাওয়ায় ছাত্রছাত্রীদের আর বাইরে যেতে হয় না। একইসঙ্গে কেনাবেচার মাধ্যমে তারা বাস্তবে যোগ, বিয়োগ, গুণ ও ভাগের ব্যবহার শিখছে। এতে অঙ্কের প্রতি আগ্রহও বাড়ছে।’
এই উদ্যোগে খুশি পড়ুয়ারাও। বিদ্যালয়ের তিতাস রায়, ঋতম দাস, মিমি দেবনাথ ও সৃজা দাস জানায়, খাতা বা পেন শেষ হয়ে গেলে আর বাইরে যেতে হয় না। স্কুলের মধ্যেই সহজে প্রয়োজনীয় জিনিস পাওয়া যায়। তাই এই স্টোর তাদের কাছে খুবই উপকারী।
বিদ্যালয়ের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ ইতিমধ্যেই ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। শিক্ষার সঙ্গে বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার মেলবন্ধন ঘটিয়ে ‘পাঠশালা স্টোর’ হয়ে উঠেছে বিদ্যালয়ের এক অনন্য শিক্ষাকেন্দ্র।