• ‘অসুখের’ নাম মিড-ডে মিল! সারাতে সক্রিয় সরকার
    এই সময় | ২৩ জুলাই ২০২৬
  • জয় সাহা

    সরকারি ও সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলে মিড-ডে মিল এবং অন্যান্য সুযোগ–সুবিধে যাতে প্রকৃত প্রাপকরাই পায়, তা নিশ্চিত করতে কঠোর পদক্ষেপ করল রাজ্য সরকার। স্কুলশিক্ষা দপ্তরের এক নির্দেশিকায় সমস্ত সরকারি ও সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের বলা হয়েছে — ছাত্রছাত্রীদের রেকর্ড বিশদে যাচাই করে ভুয়ো পড়ুয়াদের নাম বাদ দিতে হবে। মুর্শিদাবাদ-সহ বেশ ক’টি জেলায় নির্দেশিকা পাঠানোও হয়েছে।

    বিভিন্ন মহলের দীর্ঘদিনের অভিযোগ, স্কুলের খাতায় বা রাজ্যের ‘বাংলার শিক্ষা’ পোর্টালে এমন বেশ কিছু পড়ুয়ার নাম থেকে গিয়েছে, যারা আদতে কোনও বেসরকারি বা আন-এডেড স্কুলের স্টুডেন্ট। এ বাদে মিড–ডে মিলে আরও নানা অভিযোগ উঠেছে, কিছু ক্ষেত্রে প্রমাণও পেয়েছে দপ্তর। রাজ্যের শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী কৌশিক চৌধুরী জানান, বিকাশ ভবনে এক বৈঠকে এ ব্যাপারে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। তাঁর কথায়, ‘পশ্চিমবঙ্গে দীর্ঘদিনের অসুখ এই মিড–ডে মিল। বেশি সংখ্যা দেখিয়ে অল্প ছাত্রকে খাবার দেওয়া, চাল চুরি থেকে ভুয়ো পড়ুয়াদের নামে মিড–ডে মিলের বরাদ্দ ইস্যু করা, এমনকী ইউনিক আইডি–তে নামের বানান বদলে এক জন স্টুডেন্টের জন্য একাধিক ইউনিক আইডি–ও তৈরি করা হয়েছে। সবকিছুর তদন্ত হবে। কেউ ছাড় পাবে না।’

    ভুয়ো স্টুডেন্ট চিহ্নিতকরণের প্রক্রিয়ায় ফোকাস করা হচ্ছে সেই পড়ুয়াদের উপরে, যারা কোনও এক সময়ে সরকারি বিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও পরে বেসরকারি স্কুলে চলে গিয়েছে। কিন্তু তাদের নাম সরকারি পোর্টাল থেকে কাটা হয়নি। ফলে খাতায়–কলমে এদের জন্যও মিড-ডে মিল, স্কুলের ইউনিফর্ম ও অন্যান্য সরকারি প্রকল্পের সুযোগ–সুবিধে বরাদ্দ হচ্ছে, যেটা তারা পাচ্ছে না। অথচ কেউ না কেউ অবৈধ ভাবে এই টাকা পাচ্ছে। সরকারি তহবিলের এই অপচয় রুখতে কার্যত চিরুনি তল্লাশির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে স্কুলগুলিকে।

    ‘পশ্চিমবঙ্গ প্রধান শিক্ষক সমিতি’র সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণাংশু মিশ্রও জানান, তিন-চার ভাবে মিড–ডে মিলের ফান্ড নয়ছয় হয়েছে। তবে তাঁর প্রশ্ন, ‘মিড–ডে মিলের দায়িত্ব ইসকনকে দেওয়া বা ডিম বন্ধ করার থেকে অনেক বেশি জরুরি হলো যথাযথ তদন্ত। সেই তদন্ত কি ঠিকঠাক হবে?’ প্রধান শিক্ষকদের অন্য একটি সংগঠন ‘অ্যাডভান্সড সোসাইটি’র তরফে চন্দন মাইতি বলেন, ‘প্রাক্তন নেতা, মন্ত্রী, সাংসদ–বিধায়কদের চাপে বেসরকারি স্কুলের পড়ুয়াদের নামও মিড–ডে মিলের তালিকায় ঢোকানো হয়েছে। বেশ কিছু বেসরকারি স্কুলকেও মিড–ডে মিলের তালিকাভুক্তও করা হয়েছে! আমরা চাই, এর তদন্ত হোক।’

    প্রধান শিক্ষকদের বলা হয়েছে, কোনও স্টুডেন্টের নাম একাধিক বার নথিভুক্ত থাকলে বা ভুয়ো পড়ুয়ার হদিশ পেলে ‘বাংলার শিক্ষা’ পোর্টাল এবং পিএম পোষণ বা মিড-ডে মিল প্রকল্পের তালিকা থেকে সঙ্গে সঙ্গে তা কেটে দিতে হবে। কে ‘আসল’ ছাত্র আর কে ভুয়ো, তা নিখুঁত ভাবে যাচাইয়ের দায়িত্ব পুরোপুরি স্কুল কর্তৃপক্ষের উপরে বর্তেছে। যাকে স্বাগত জানাচ্ছেন, বঙ্গীয় শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মী সমিতির নেতা স্বপন মণ্ডল।

    সুবিধাভোগীদের তথ্যে ১০০ শতাংশ স্বচ্ছতা রাখা এবং অন্যায্য ভাবে কেউ যাতে সরকারি সুযোগ–সুবিধে না পায়, সেটা নিশ্চিত করাই দপ্তরের লক্ষ্য। তাই এ সংক্রান্ত নির্দেশকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে পালন করতে বলা হয়েছে স্কুলগুলিকে। অবৈধ পড়ুয়াদের চিহ্নিত করতে স্কুল কী পদক্ষেপ করল, সে ব্যাপারে দ্রুত ‘অ্যাকশন টেকন রিপোর্ট’ জমারও নির্দেশ দিয়েছে দপ্তর।

  • Link to this news (এই সময়)