• আদালত চত্বরে আর পার্কিং নয়, নির্দেশ ট্র্যাফিক বিভাগের
    এই সময় | ২৩ জুলাই ২০২৬
  • এই সময়, দুর্গাপুর: দুর্গাপুর মহকুমা আদালত চত্বরে মোটরবাইক ও স্কুটার আর পার্কিং করা যাবে না। পার্কিং করলে দিতে হবে জরিমানা। রেয়াত করা হবে না আইনজীবীদেরও।

    বুধবার আদালত চত্বরে ঘুরে মোটরবাইক ও স্কুটার আরোহীদের সতর্ক করে দিলেন ট্র্যাফিক গার্ডের কর্মী ও আধিকারিকরা। ট্র্যাফিক গার্ডের উদ্যোগের প্রশংসা করেছেন আইনজীবী থেকে আদালতে আসা বিচারপ্রার্থীরাও। তবে তাঁদের প্রশ্ন, আদালত চত্বরে মোটরবাইক ও স্কুটার পার্কিংয়ের পর্যাপ্ত জায়গা নেই। তা হলে বিকল্প জায়গার ব্যবস্থা করবে কে এবং সেটা কোথায়? সেই প্রশ্নের উত্তর এখনও মেলেনি।

    দুর্গাপুর মহকুমা আদালত চত্বরের পাশে দু’টি পার্কিং প্লেস আছে। কিন্তু যতটা জায়গা রয়েছে, তা গাড়ি, মোটরবাইক ও স্কুটার রাখার জন্য পর্যাপ্ত নয়। বর্তমানে মহকুমা আদালতে বার অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের মধ্যে ৮০ জন নিয়মিত গাড়ি নিয়ে আসেন। বাকিদের ৪০ শতাংশ মোটরবাইক ও স্কুটার নিয়ে যাতায়াত করেন। এ ছাড়া ল’ক্লাক ও বিচারপ্রার্থীদের একাংশ মোটরবাইক ও স্কুটার নিয়েই আদালতে আসেন। তাঁদের গাড়ি রাখার কোনও ব্যবস্থা নেই। ফলে অনেকে রাস্তার উপরেই গাড়ি পার্কিং করেন।

    বুধবার ট্র্যাফিক গার্ডের আধিকারিক ও কর্মীরা আদালত চত্বরে এসে প্রত্যেককে সতর্ক করে দেন, ‘এখন থেকে নির্দিষ্ট জায়গায় গাড়ি, মোটরবাইক ও স্কুটার পার্কিং করতে হবে। না–হলে জরিমানা হবে।’ একই সঙ্গে ট্র্যাফিক গার্ডের এক আধিকারিক মোটরবাইক ও স্কুটার আরোহীদের বোঝান যে, রাস্তার উপরে রাখা গাড়ি চুরি হয়ে গেলে বীমা সংস্থা থেকে ক্ষতিপূরণ মিলবে না। এক মহিলা আইনজীবীকেও সতর্ক করা হয়। তাঁকে নির্দিষ্ট জায়গায় স্কুটার পার্কিং করতে বলেন ট্রাফিক গার্ডের আধিকারিক।

    এমন নির্দশিকার পরেই আইনজীবীরা প্রশ্ন তুলেছেন, আদালতে চত্বরে কেন পর্যাপ্ত পার্কিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়নি? কোর্ট লক–আপের কর্মীদের একাংশ আসামীদের নিয়ে আসার করিডরে তাঁদের মোটরবাইক ও স্কুটার রেখে দেন আদালত চত্বরে এডিডিএ অনুমোদিত একটি স্ট্যান্ড আছে। সেই স্ট্যান্ডের পরিচালক নিতাই ত্রিবেদী বলছিলেন, ‘স্ট্যান্ডের শেডের ভিতরে আইনজীবীদের মোটরবাইক এবং স্কুটার থাকে। বিচারপ্রার্থীদের মোটরবাইক বা স্কুটার রাখার জায়গা না–থাকলে সেটা রাস্তার ধারেই রাখতে হয়।

    দুর্গাপুরে বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সঞ্জীব কুণ্ডুর মন্তব্য, ‘ট্র্যাফিক বিভাগের তরফে এই বিষয় সম্পর্কে সবাইকে সচেতন করার প্রয়োজন ছিল। প্রয়োজন পড়লে অ্যাম্বুল্যান্স ও দমকলের গাড়িও ঢুকতে পারবে না গাড়ি পার্কিংয়ের কারণে। রাস্তা ক্রমশ সরু হয়ে গিয়েছে। তবে এটাও ঠিক যে, এখানে পর্যাপ্ত পার্কিং প্লেস নেই। পার্কিংয়ের জন্য জেলা জজ–সহ হাইকোর্টের কাছেও আবেদন করা হয়েছে।’

  • Link to this news (এই সময়)