প্রশান্ত ঘোষ'
গত বছর বিজ্ঞপ্তি জারি হয়েছিল জনগণনার। ডিরেক্টর অফ সেন্সাসের নির্দেশে অন্যান্য রাজ্য প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ করে দিলেও পশ্চিমবঙ্গ এখনও গণনা শুরু করতে পারেনি। এ বার রাজ্যে পালাবদলের পর বিজেপি সরকারের হাত ধরে জনগণনা কর্মসূচি শুরু হলো বাংলায়। প্রথম পর্যায়ে ইতিমধ্যেই প্রশিক্ষণের কাজ শুরু হয়েছে বিভিন্ন ব্লক ও পুরসভা এলাকায়। প্রশিক্ষণ শেষে গণনাকাররা ফিল্ডে বেরিয়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরে তথ্য সংগ্রহ করবেন। জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, এখন জনগণনাকারী ও সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ চলছে। তিন দিনের এই প্রশিক্ষণে এলাকার প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক, আইসিডিএসের কর্মীরা প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন।
প্রশাসন সূত্রে খবর, প্রতিটি ব্লকের গ্রাম পঞ্চায়েত বা পুরসভার এলাকার ওয়ার্ড ভিত্তিক গণনাকারী নিয়োগ করা হবে। সাধারণত ৭০০-৮০০ বাসিন্দা প্রতি একজন গণনাকার কাজ করবেন। এইচএলবি অর্থাৎ হাউস লিস্টিং ব্লক অনুযায়ী এক একজন গণনাকারী কাজ করবেন এবং সমস্ত তথ্য পোর্টালে আপলোড করবেন। সার-এর মতো এখানেও কর্মীদের অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল সেট ও ইন্টারনেট সংযোগ বাধ্যতামূলক। আগামী ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে সমস্ত প্রশিক্ষণ শেষ করার নির্দেশ দিয়েছেন সেন্সাস কর্তৃপক্ষ।
এর পর ১ অগস্ট থেকে ১৫ অগস্ট পর্যন্ত সেলফ এনুমারেশন বা নিজের নাম নিজেই নথিভুক্তিকরণ কর্মসূচি চলবে। সেন্সাসের ওয়েবসাইটে বা পোর্টালের মাধ্যমে নাম ও পরিবারের সব তথ্য আপলোড করা যাবে। ১৬ অগস্ট থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত গণনাকারীরা প্রত্যেকের বাড়িতে যাবেন তথ্য সংগ্রহের জন্য। তথ্য সংগ্রহ করে তা পোর্টালে আপলোড করবেন তাঁরা। এরপর ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাস জুড়ে জনগণনার দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ শুরু হবে। মৌজাভিত্তিক কত মানুষ আছেন তা খতিয়ে দেখে ফাইনাল লিস্ট তৈরি হবে।
ভারতে শেষ পূর্ণাঙ্গ জনগণনা হয়েছিল ২০১১ সালে। এর পর ২০২১ সালে হওয়ার কথা থাকলেও করোনা অতিমারীর জন্য তা স্থগিত হয়। এ বারই প্রথম ডিজিটাল পদ্ধতিতে জনগণনা হচ্ছে এবং নাগরিকদের জন্য স্ব-নথিভুক্তির সুযোগও রাখা হয়েছে। বিভিন্ন রাজ্যে এই কর্মসূচি চলছে এবং ২০২৭ সালের ১ মার্চকে চূড়ান্ত গণনার সময়সীমা ধার্য করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক জনগণনার তথ্য দেশের পরিকল্পনা প্রণয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনসংখ্যার প্রকৃত চিত্র, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান, আবাসন, পরিকাঠামো ও সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্পের বরাদ্দ নির্ধারণে এই তথ্য ব্যবহৃত হবে। পাশাপাশি সংসদীয় ও বিধানসভা কেন্দ্র পুনর্বিন্যাস, উন্নয়ন পরিকল্পনা, দুর্যোগ মোকাবিলা এবং সরকারি পরিষেবা কার্যকর করতে জনগণনার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘ ১৫ বছর পর নতুন করে তথ্যভাণ্ডার তৈরি হওয়ায় নীতিনির্ধারণ আরও বাস্তবভিত্তিক ও কার্যকর হবে বলেই প্রশাসনিক মহলের আশা।