এই সময়: ট্র্যাফিক পুলিশের টাকা তোলা সম্পূর্ণ বন্ধ করতে রাজ্যজুড়ে নজরদারির নেটওয়ার্ক তৈরি করা হচ্ছে বলে ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকরী। এই নজরদারির জন্য বড় কন্ট্রোল রুম তৈরি হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। কোথাও পুলিশ টাকা চাইলে, সেই অভিযোগ জানানোর জন্য বিশেষ ফোন নম্বর ঘোষণা করা হবে। ট্র্যাফিক পুলিশের টাকা তোলার পাশাপাশি বৈধ কাগজ (চালান) ছাড়া কয়লা, বালি, পাথর, পশু পরিবহণ বন্ধ করতেও উদ্যোগী হচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। এই সংক্রান্ত অভিযোগ জানানোর জন্যও নির্দিষ্ট ফোন নম্বর ঘোষণা করা হবে বলে বিধানসভায় বুধবার স্বরাষ্ট্র দপ্তরের বাজেট বিতর্কের জবাবি ভাষণে তিনি জানিয়েছেন।
বিধানসভায় শুভেন্দু বলেন, ‘এখানে সব জেলার বিধায়ক আছেন। হাত পাতছে কেউ রাস্তায়? যদি দেখতে পান, বলবেন। আমরা তিনটি হেল্পলাইন নম্বর কাল (বৃহস্পতিবার) ঘোষণা করছি। যেখানে রাস্তায় হাত পাতবে, জানাবেন। অবৈধ ভাবে কয়লা, বালি, পশু, সুপারি— কোনও কিছু পরিবহণের খবর কারও কাছে এলে, ডেডিকেটেড নম্বর দেবো, সেখানে জানাবেন। বিরাট কন্ট্রোল রুম করা হচ্ছে।’
স্বাস্থ্য দপ্তর যে ধরনের কন্ট্রোল রুম তৈরি করেছে, সেই মডেলেই ট্র্যাফিকের এই কন্ট্রোল রুম কাজ করবে বলে শুভেন্দুর বক্তব্য। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, ‘ফরাক্কায় কেউ হাত পাতলে ভবানী ভবনে ডিজি দেখতে পাবেন। কালিয়াচকে হাত পাতলে কলকাতায় আমরা জানতে পারব। কাউকে করতে দেবো না, নিশ্চিন্ত থাকুন।’
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ ১৫ বছরের জমানায় বিধানসভায় স্বরাষ্ট্র দপ্তরের বাজেট নিয়ে আলোচনা এক রকম শিকেয় তুলে দেওয়া হয়েছিল। স্বরাষ্ট্র দপ্তর নিয়ে কোনও প্রশ্নোত্তরও বিধানসভায় হতো না। যদিও বাম জমানায় নিয়মিত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জোতি বসু, বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য স্বরাষ্ট্র বাজেট বিতর্কে অংশ নিতেন। তৃণমূল জমানায় স্বরাষ্ট্র দপ্তর নিয়ে বাজেট গিলোটিনে পাঠিয়ে দিতেন মমতা।
সেই জায়গায় বুধবার শুভেন্দুর উপস্থিতিতে তিন ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বাজেট বিতর্ক হয়েছে। রাজ্য পুলিশের শূন্যপদ পূরণের প্রতিশ্রুতির পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র দপ্তরের বাজেটে পরিকাঠামো উন্নয়নের দিকেও জোর দিয়েছেন শুভেন্দু। খড়্গপুর, ব্যারাকপুর, কল্যাণী, মুর্শিদাবাদ, সিঙ্গুর ও মালদায় নতুন ছ’টি আঞ্চলিক ফরেন্সিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি নির্মাণেরও পরিকল্পনা করেছে সরকার। এই ল্যাবগুলি বাস্তবায়িত হলে অপরাধের তদন্তের গতি আরও বাড়বে বলে নবান্ন মনে করছে। ভ্রাম্যমাণ ফরেন্সিক ইউনিটের সংখ্যা বৃদ্ধি এবং আধুনিকীকরণের পরিকল্পনাও করা হয়েছে।
অনুপ্রবেশের মোকাবিলায় রাজ্যের ১২টি জেলার ৩১৯টি গ্রামকে সীমান্তরক্ষী বাহিনীর ‘চোখ ও কান’ হিসেবে গড়ে তোলার দিশাও রয়েছে এই বাজেটে। জঙ্গলমহলে মাওবাদী কার্যকলাপ মোকাবিলায় ঝাড়গ্রাম জেলার জন্য বিশেষ প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। রাজ্যের গোয়েন্দা নেটওয়ার্ককে ন্যাশনাল ইনটেলিজেন্স গ্রিডের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনাও করেছেন শুভেন্দু। পুলিশের দক্ষতা বাড়াতে ইতিমধ্যে একাধিক ট্রেনিং কর্মসূচি চালু হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘দক্ষতা আনার জন্য কিছু পুলিশকর্মী গুজরাটের রক্ষা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছেন। অসমের তেজগাঁওতে বিএসএফের ইনস্টিটিউশনে পুলিশকে পাঠাতে শুরু করব। কোস্টাল পুলিশের জন্য বিএসএফের সঙ্গে চুক্তি হচ্ছে, বিএসএফ ট্রেনিং দেবে।’ পশ্চিমবঙ্গে কোনও ঘটনা ঘটলে পুলিশ যেতে যে সময় লাগে, সেই টাইম–ফ্রেম কমানোর রূপরেখাও তৈরি করা হচ্ছে।