এই সময়: বিদ্যুৎ গ্রাহকদের জন্য স্বস্তির বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার বিধানসভায় বিদ্যুৎ দপ্তরের বাজেট বরাদ্দ নিয়ে আলোচনায় মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন, জানুয়ারি থেকে রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদ এলাকায় তিন মাস অন্তর বিদ্যুৎ বিলের ব্যবস্থা তুলে দেওয়া হচ্ছে। এ বার থেকে মাসের বিল মাসেই আসবে গ্রাহকের কাছে।
প্রসঙ্গত, সিইএসসির গ্রাহকরা প্রতি মাসের বিল হাতে পেলেও রাজ্য বিদ্যুৎ পর্ষদ এলাকায় গ্রাহকরা তিন মাস অন্তর তা পান। এ নিয়ে গ্রাহকদের মধ্যে ক্ষোভ-বিক্ষোভ রয়েছে। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন, ডোমেস্টিক ক্ষেত্রে অর্থাৎ গৃহস্থের বাড়িতে স্মার্ট মিটার বাধ্যতামূলক নয়।
বিদ্যুৎ নিয়ে বিরোধী ও শাসকদলের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে শুভেন্দু বামপন্থী ও এসইউসিআই-এর আন্দোলন নিয়ে কটাক্ষ করে বলেন, ‘এ বার বামপন্থীরা কী নিয়ে আন্দোলন করবে? আপনাদের আর মিছিল করার কোনও সুযোগ দেব না।’ এখানেই শেষ নয়, রাজ্যের উৎপাদনকারী সংস্থা বিদ্যুৎ উন্নয়ন নিগম (ডব্লিউবিপিডিসিএল)কে লাভজনক করতে মুখ্যমন্ত্রী শেয়ার বাজারে তালিকাভুক্ত করার কথাও ঘোষণা করেন।
উল্লেখ্য, ডব্লিউবিপিডিসিএলকে ‘পাবলিক লিস্টেড কোম্পানি’ হিসেবে শেয়ার বাজারে নিয়ে আসা হচ্ছে। এর অনুমোদিত শেয়ার মূল্য ১২ হাজার কোটি টাকা। এই সংস্থার লভ্যাংশ সরাসরি রাজ্যের অর্থনৈতিক বৃদ্ধি ও সিএসআর তহবিলে ব্যবহার করা হবে। একই সঙ্গে রাজ্যের ৬টি কয়লাখনি থেকে উৎপাদিত ৩০ লক্ষ টন অতিরিক্ত কয়লা স্বচ্ছতার ভিত্তিতে আর্ন্তজাতিক বাজারমূল্যে নিলাম করা হবে। এর থেকে রাজস্ব পাবে বিদ্যুৎ দপ্তর।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়ে দেন, সাঁওতালডিহির পাশাপাশি বক্রেশ্বর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন একটি ইউনিট তৈরি করা হবে। যার আনুমানিক খরচ ১০ হাজার ৯৭০ কোটি টাকা। এ ছাড়াও বক্রেশ্বরে ফ্লোটিং সোলার সেন্টার নামে ২ হাজার ১৪ কোটি টাকা খরচ করে ২০০ মেগাওয়াটের ভাসমান সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং ৮০ মেগাওয়াট ও ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতার ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ সিস্টেম গড়ে তোলা হবে। কোলাঘাটেও ১ হাজার ২৩৮ কোটি টাকায় ব্যাটারি এনার্জি স্টোরেজ এবং ১৮৩ কোটি টাকার সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প তৈরি হবে।
শুভেন্দু জানান, মেয়েদের ১ হাজার উচ্চমাধ্যমিক স্কুল ও কলেজে স্যানিটারি ন্যাপকিন ভেন্ডিং মেশিন বসাবে বিদ্যুৎ দপ্তর। এ দিনের আলোচনায় সিপিএমের মুস্তাফির রহমান, আইএসএফের নওশাদ সিদ্দিকি, বিজেপির শঙ্কর গুছাইত অংশ নেন।