• অন্ধকারে মিথেন গ্যাসে দমবন্ধ..ঘরে ফিরল নিথর দেহ! সিকিম টানেল দুর্ঘটনায় ভেঙে চুরমার ৯টি পরিবার
    News18 বাংলা | ২৩ জুলাই ২০২৬
  • একদিকে সদ্য বিয়ে। ভাঙা ঘরের ছাদ দিয়ে বর্ষায় টুপটাপ জল পড়ে। স্ত্রীকে কথা দিয়ে গিয়েছিলেন, ‘‘তিন’মাস পর ফিরব, তারপর নতুন করে ঘর তুলব।’’ অন্যদিকে, ছোট্ট মেয়ে সকালেই বাবার সঙ্গে কথা বলেছিল। বাবা বলেছিলেন, ‘‘বিকেলে টাকা পাঠাব মেলায় গিয়ে খেলনা কিনে নিস।’’ কিন্তু সেই বিকেল আর এল না… সিকিমের নির্মীয়মাণ টানেলের অন্ধকারে মিথেন গ্যাস কেড়ে নিল একের পর এক প্রাণ। আর সেই মৃত্যুর মিছিলের সবচেয়ে ভারী বোঝা এসে পড়ল মালবাজার মহকুমার চালসার কিলকোট চা বাগানের ১১ নম্বর লাইনে।

    চালসার কিলকোট চা বাগানের ১১ নম্বর লাইনে একই পাড়া থেকে হারিয়ে গিয়েছে তিন তিনটি তরতাজা প্রাণ। শিবা লোহারের স্বপ্ন ছিল বাড়ি ফিরে স্ত্রীয়ের সঙ্গে নতুন করে ভাঙা ঘর গড়বেন। বিকেশ্বর ওঁরাওয়ের স্বপ্ন ছিল ছেলে-মেয়ের মুখে হাসি ফোটাবেন, সংসারের অভাব ঘোচাবেন। কিন্তু দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করতে ভিনরাজ্যে যাওয়া এই শ্রমিকদের কাছে আর ফেরা হল না। বাড়ি ফিরল শুধু নিথর দেহ।

    কিলকোট চা বাগানের মানুষ বলছেন, ‘‘বাগানে নিয়মিত কাজের অভাব। তাই প্রায় প্রতিটি পরিবারের একজন না একজনকে পেটের দায়ে ছুটতে হয় ভিনরাজ্যে। কেউ নির্মাণ শ্রমিক কেউ টানেলে কাজ করেন। রোজগারের আশায় যাওয়া সেই পথই অনেকের কাছে মৃত্যুর পথে পরিণত হয়েছে।’’

    জলপাইগুড়ি নাগরাকাটা ও চালসা এলাকার মোট নয়জনের মৃত্যুর খবর শুধু একটি দুর্ঘটনার পরিসংখ্যান নয়। পেছনে রয়েছে ভেঙে যাওয়া সংসার, অপূর্ণ প্রতিশ্রুতি অপেক্ষায় থাকা স্ত্রী আর মেলায় খেলনা কেনার স্বপ্ন দেখা এক শিশুর অশ্রুসিক্ত গল্প।

    পেটের দায়ে ঘর ছেড়ে যাওয়া মানুষগুলোর জীবন কি এতটাই সস্তা? নাকি তাদের স্বপ্নগুলোও মিথেন গ্যাসের অন্ধকারেই চাপা পড়ে যাবে? সরকারের কাছে তাদের একটাই অনুরোধ, যদি ডুয়ার্স চা বাগানগুলো সঠিকভাবে পরিচালনা করে মালিকপক্ষ বা সঠিক মজুরি পাওয়া যায়, তাহলে তাদের সুবিধা হয়। তাহলে ভিনরাজ্যের উপর নির্ভর করতে হবে না অঞ্চলের মানুষদের।
  • Link to this news (News18 বাংলা)