সিকিমে টানেল বিপর্যয়ে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২২, গভীর সুড়ঙ্গে এখনও চলছে প্রাণের খোঁজ
প্রতিদিন | ২৩ জুলাই ২০২৬
সিকিমের তিস্তা স্টেজ-৬ টানেল দুর্ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ২২। টানেলে আটকা পড়া বাকি শ্রমিকদের খুঁজে বের করতে বিভিন্ন সংস্থা জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। বুধবার সারারাত উদ্ধারকাজ চলেছে। রাত আনুমানিক ১০টার সময় আসানসোলের ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড-এর একটি বিশেষ উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। টানেলের ভেতরে অত্যন্ত প্রতিকূল কাজের পরিবেশ সত্ত্বেও উদ্ধারকর্মীরা মধ্যরাত পর্যন্ত চেষ্টা চালিয়ে যান। সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, টানেল থেকে উদ্ধার করা মৃতদেহের সংখ্যা বেড়ে ২২-এ দাঁড়িয়েছে। এটি সিকিমে অন্যতম ‘ভয়াবহ শিল্প দুর্ঘটনা’ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এখনও নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান ও উদ্ধারের জন্য বিশেষ সরঞ্জাম সহ উদ্ধারকারী দলগুলো কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে সিকিমের অভিশপ্ত টানেলের ভিতরে ঢুকে জমে থাকা জল বের করতে বুধবার ন্যাশনাল ডিজাস্টার রেসপন্স ফোর্স, মাইনস সেফটি-র উদ্ধারকারী দল এবং নির্মাণ সংস্থার কর্মীদের নিয়ে বিশেষ উদ্ধারকারী দল গঠন করে এনএইচপিসি। দলটি রাতভর কাজ করে টানেলে প্রবেশের জন্য বাতাস চলাচলেরও ব্যবস্থা করে। ইতিমধ্যে জল নিষ্কাশন পাম্প সচল করা সম্ভব হয়েছে। সোমবার দুপুর নাগাদ দক্ষিণ সিকিমের সামারডুং-এ পাচশো মেগাওয়াট ক্ষমতার তিস্তা স্টেজ-৬ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের ‘হেড রেস টানেল’-এ ওই দুর্ঘটনা ঘটে। এনডিআরএফ, এসডিআরএফ, এনএইচপিসি, প্যাটেল ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড, ইস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড, ওয়েস্টার্ন কোলফিল্ডস লিমিটেড যৌথভাবে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এনএইচপিসি-র শীর্ষ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে উদ্ধারকাজ তদারকি করছেন। ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে এনএইচপিসি ৫ লক্ষ টাকা এককালীন আর্থিক সাহায্যের কথা ঘোষণা করেছে।
এদিকে সিকিমের মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং জানিয়েছেন, সার্বিক পরিস্থিতির পর্যালোচনা চলছে৷ কোথায় গাফিলতি ছিল এবং আগামীদিনে কি পদক্ষেপ নেওয়া উচিত সেটা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তে যদি দেখা যায় কোম্পানির গাফিলতি ছিল তবে উপযুক্ত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুধু তাই নয়, মুখ্যমন্ত্রী প্রেম সিং তামাং নিজে গোটা পরিস্থিতির উপর কড়া নজর রাখছেন বলে জানা গিয়েছে।