নিয়ম না মেনে মুড়ি-মুড়কির মতো ভর্তি! নার্সিং কলেজে বেনিয়মে কড়া রাজ্য
প্রতিদিন | ২৩ জুলাই ২০২৬
টাকার জন্য গণ্ডা গণ্ডা ছাত্রী ভর্তি করছেন। কিন্তু আদৌ কোনও পরিকাঠামো নেই নার্সিং কলেজে। নেই কোনও পরিচিত বিশ্ববিদ্যালয়ের অনুমোদন। ফলে কোর্স শেষে অথৈ জলে নার্সিং পড়ুয়ারা। বাংলায় এমন বেসরকারি নার্সিং কলেজ অলিতে গলিতে। বুধবার রাজ্যের বেসরকারি নার্সিং কলেজ কর্তৃপক্ষর সঙ্গে বৈঠকে বসলেন স্বাস্থ্য দপ্তরের রাষ্ট্রমন্ত্রী সুমনা সরকার। বৈঠক শেষে মন্ত্রী জানিয়েছেন, বাংলায় হাজার হাজার মেয়ে পেশার তাগিদে নার্সিং পড়ছেন। রাজ্যে নার্সের চাহিদাও বিপুল। কিন্তু ছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে কাউকে ছিনিমিনি খেলতে দেব না। প্রতিটি বেসরকারি নার্সিং কলেজের পরিকাঠামো খতিয়ে দেখা হবে।
সূত্রের খবর, রাজ্যে পালাবদলের পর রাশি রাশি চিঠি জমা পড়েছিল স্বাস্থ্যভবনে। লক্ষাধিক টাকা দিয়ে নার্সিং পড়েও চাকরি না মেলায় আত্মহত্যা করতে গিয়েছিলেন এক ছাত্রী। সেই অভিযোগও জমা পড়ে সুমনা সরকারের এজলাসে। বৈঠকে বেসরকারি নার্সিং কলেজ কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে, একাধিক কলেজের প্রশাসনে গন্ডগোল রয়েছে। রাজ্যে তৃণমূল সরকারের আমলে ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়েছে নার্সিং কলেজ। বছর দুয়েক আগেও চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে নার্সিং পড়ুয়াদের কয়েক লক্ষ টাকা প্রতারণার অভিযোগ সামনে এসেছিল। সে সময় অভিযোগের তির উঠেছিল গড়িয়ার বেসরকারি নার্সিং কলেজের দিকে।
অভিযোগ, এমন বহু কলেজ রয়েছে, কয়েক লক্ষ টাকা নিয়ে প্লেসমেন্টের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ছাত্রী ভর্তি করে। প্রশিক্ষণ শেষে মেলে না শংসাপত্রও। মন্ত্রী সুমনা সরকার বুধবার জানিয়েছেন, নার্সিং নিয়ে পড়তে গেলে একাদশ দ্বাদশ শ্রেণিতে সায়েন্স নিয়ে পড়া বাধ্যতামূলক। কিন্তু আর্টস নিয়ে পড়া ছাত্রীদেরও ভুল বুঝিয়ে ভর্তি করেছেন অনেকে। ছাত্রীরা আশা নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। কোর্স শেষে করে পাচ্ছেন না সার্টিফিকেটও। শুধুমাত্র ব্যবসায়িক মুনাফার জন্য যাঁরা ছাত্রীদের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেবে নতুন সরকার। এই প্রসঙ্গে মন্ত্রীর স্পষ্ট হুঁশিয়ারি, কোনও মেয়ের চোখের জল দেখতে চাই না।