• পুজো নিয়ে সবাই ‘ধীরে চলো’ পথে, সরকারি নির্দেশের প্রতীক্ষায় কমিটিগুলি
    এই সময় | ২৩ জুলাই ২০২৬
  • কুবলয় বন্দ্যোপাধ্যায়

    পুজো–সংক্রান্ত কোনও সার্কুলার কি আসবে? এলে কবে? আপাতত এই প্রশ্নেরই উত্তর পাওয়ার প্রতীক্ষায় শহরের বেশির ভাগ পুজো কমিটির উদ্যোক্তারা। সার্কুলার না এলে তো পুজোর প্রস্তুতি শুরুই করা যাচ্ছে না। তাই আটকে আছে সব কিছু।

    কোনও বছরই জুলাইয়ের শেষ সপ্তাহে সাধারণত এমন হয় না। রথের পর থেকে শুরু হয়ে যায় পাড়ায় পাড়ায় পুজোর মণ্ডপ তৈরির প্রস্তুতি। মণ্ডপশিল্পীদের নির্দেশে এই সময় থেকে হাতুড়ির ঠকাঠক শব্দ ক্রমশ প্রবল হতে শুরু করে। কিন্তু এ বছর যেন ব্যতিক্রম। ভরসা করে কেউই জমিয়ে কাজ শুরু করতে পারছেন না। স্থানীয় প্রশাসনের তরফে কোনও নির্দেশ — এমনকী, গত বছরের সার্কুলার মেনেই পুজো হবে, এমন একটা আশ্বাস চাইছেন বিভিন্ন কমিটির উদ্যোক্তারা।

    'মণ্ডপের মাপ কেমন থাকবে? রাস্তা ছাড়ের বিষয়ে কি প্রশাসন নতুন করে কিছু ভাবছে? নাকি পুরোনো নিয়ম অনুযায়ী ছাড় দিলেই হবে? অন্তত একটা লিখিত কোনও নির্দেশের অপেক্ষায় আমরা সবাই', এমন প্রশ্ন শহরের সব দুর্গাপুজো উদ্যোক্তাদের নিয়ে তৈরি সংগঠন ফোরাম ফর দুর্গোৎসব কমিটির সাধারণ সম্পাদক অঞ্জন উকিলের।

    একশো বছরেরও বেশি পুরোনো টালা বারোয়ারির পক্ষ থেকে অভিষেক ভট্টাচার্য বলছেন, 'মহালয়া থেকে লক্ষ্মীপুজো পর্যন্ত সময়ে রাস্তায় যে বিজ্ঞাপনের হোর্ডিং লাগানো হয়, তার জন্য পুরসভাকে এতদিন কোনও ট্যাক্স দিতে হতো না। এর পর পুজোয় যে বিদ্যুৎ খরচ হয়, তার উপরেও একটা রিবেট পাওয়া যেত। এ বার রাজনৈতিক পালাবদলের পর কী সেই নীতি বজায় থাকবে? এই বিষয়ে পুজোর স্পনসরদের কাছে এখনও কোনও খবর নেই। ফলে বেশির ভাগ কাজ তো শুরুই করা যাচ্ছে না।'

    সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কপালে চিন্তার ভাঁজ গভীর হচ্ছে মণ্ডপশিল্পীদেরও। সুশান্ত পাল জানাচ্ছেন, রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদলের পরে পুজো নিয়ে নতুন কোনও নিয়ম জারি হবে কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, 'অনেক কমিটি নতুন করে গড়া হয়েছে। ফলে অনেক সিদ্ধান্ত বদলেছে। এ বছর জানুয়ারিতে আমার সঙ্গে বালিগঞ্জ কালচারাল, কেন্দুয়া শান্তি সঙ্ঘ, সন্তোষপুর এভিনিউ (সাউথ) এবং দক্ষিণদাঁড়ি ইয়ুথ যোগাযোগ করেছিল মণ্ডপ তৈরির জন্য। কিন্তু পরে কেন্দুয়া শান্তি সঙ্ঘ ও দক্ষিণদাঁড়ি পিছিয়ে যায়। এমনটা অনেকের সঙ্গেই হয়েছে বলে শুনেছি।' রাজনৈতিক পট পরিবর্তনকে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে উল্লেখ করেছেন আর এক নামী শিল্পী ভবতোষ সুতারও। তিনি বলেন, 'মণ্ডপ ইনস্টলেশনের সময় কমে যাচ্ছে। আগে যে কাজ জুলাইতে শুরু হয়ে যেত, এবার হয়তো সেটা অগস্টে শুরু হবে। তাড়াতাড়িতে কাজও ভালো হয় না।' তবে ফোরামের সাধারণ সম্পাদকের আশা, 'আমরা আশা করছি উল্টোরথ মিটে গেলেই হয়তো ইতিবাচক কিছু হবে।'

  • Link to this news (এই সময়)