সুপ্রিম কোর্টে পিছিয়ে গেল ডিএ (DA) মামলার শুনানি। বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও তা হচ্ছে না। বিচারপতি সঞ্জয় কারোল ও বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্রের ডিভিশন বেঞ্চে এই মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল এ দিন। তবে সুপ্রিম কোর্টের তরফে বিজ্ঞপ্তি জারি করে জানানো হয়েছে, বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের ৭ নম্বর আদালতে বেলা ২টোর সময়ে এই বেঞ্চ বসছে না। ডিএ মামলার পরবর্তী শুনানি কবে হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কারোল ও বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্রের বিশেষ বেঞ্চে এ দিন ডিএ মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল। বুধবার রাতে জানানো হয়েছে বিশেষ বেঞ্চ এ দিন বসছে না। ৭ নম্বর আদালতে বেলা ২টোর সময়ে বিচারপতি সঞ্জয় কারোল ও বিচারপতি অগস্টিন জজ মসিহর রেগুলার বেঞ্চ বসবে।
রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া মহার্ঘ ভাতার ৮৫ শতাংশ চার কিস্তিতে মিটিয়ে দিতে চায় পশ্চিমবঙ্গ সরকার। মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে জমা দেওয়া স্টেটাস রিপোর্টে এমনটাই জানানো হয়েছে রাজ্যের তরফে। এরই মধ্যে এ দিন রাজ্যের সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ সংক্রান্ত মামলার শুনানি হওয়ার কথা ছিল। তবে বেঞ্চ না–বসায় এ দিন মামলার শুনানি হচ্ছে না।
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সরকারি কর্মচারীদের বকেয়া ডিএ ক’দফায়, কী ভাবে মেটানো হবে, তা খতিয়ে দেখতে অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি ইন্দু মালহোত্রার নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠিত হয়েছিল পূর্বতন সরকারের আমলেই। বিজেপি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরে কমিটির সঙ্গে বৈঠক করেছে। তার পরে একটি স্টেটাস রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়েছে শীর্ষ আদালতে। সূত্রের দাবি, বকেয়া ১৫ শতাংশ ডিএ–র ক্ষেত্রে ছাড় দেওয়ার জন্য আবেদন জানানো হয়েছে।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, বিপুল সামাজিক কল্যাণমূলক প্রকল্প, জিএসটি বাবদ আয় হ্রাস এবং অন্যান্য খরচের কারণে রাজকোষের উপরে ব্যাপক চাপ আছে। এই পরিস্থিতিতে সম্পূর্ণ বকেয়া ডিএ মেটাতে গেলে রাজ্যের আর্থিক ঘাটতি ৫ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে, যা এফআরবিএম আইনের অনুমোদিত সীমার চেয়ে অনেকটাই বেশি। পাশাপাশি, সর্বভারতীয় মূল্য সূচকের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে মূল্যবৃদ্ধির হার ধারাবাহিক ভাবে কিছুটা কম বলেও রাজ্যের তরফে যুক্তি দেওয়া হয়েছে।
ইতিমধ্যে আদালতের নির্দেশ মেনে বকেয়া মেটানোর কাজ যে অনেকটাই এগিয়েছে, রিপোর্টে রাজ্য সেটাও জানিয়েছে। রাজ্যের দাবি, ১০০ শতাংশ হারে হিসেব করলে মোট বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১১,৯৮৩ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০২৬–এর ১৪ জুলাই পর্যন্ত প্রায় ৭,৭৭১ কোটি টাকা সাড়ে সাত লক্ষেরও বেশি কর্মী ও অবসরপ্রাপ্তদের মেটানো হয়েছে। ২০১৬ থেকে ২০১৯–এর বকেয়া, কর্মীদের প্রভিডেন্ট ফান্ডে এবং গ্রুপ–ডি কর্মীদের ক্ষেত্রে সরাসরি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে জমা করা হয়েছে। বাকি টাকা আগামী বছর জানুয়ারি, জুলাই এবং শেষ কিস্তি ২০২৮–এর জানুয়ারিতে মেটানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
মৃত কর্মীদের বকেয়া আইনি উত্তরাধিকারীদের কাছে পৌঁছে দিতে একটি নির্দেশিকা এবং হেল্পলাইনও চালু করা হয়েছে। ২০০৮-২০১৫ এর ডেটা ডিজিটাইজ় করার জন্য ই-সার্ভিস বুক পোর্টালের কাজও দ্রুতগতিতে চলছে। এ সবের মধ্যে বৃহস্পতিবার সুপ্রিম-শুনানির কথা থাকলেও তা পিছিয়ে গেল।
বৃহস্পতিবার ডিএ মামলার শুনানি কেন হলো না?
বিচারপতি সঞ্জয় কারোল ও বিচারপতি প্রশান্তকুমার মিশ্রের ডিভিশন বেঞ্চ এ দিন না বসায় শুনানি হয়নি।
পরবর্তী শুনানি কবে হবে?
এখনও পর্যন্ত ডিএ মামলার পরবর্তী শুনানির দিন স্পষ্ট নয়।
এখনও পর্যন্ত মোট কত বকেয়া ডিএ মেটানো হয়েছে?
২০২৬-এর ১৪ জুলাই পর্যন্ত প্রায় ৭,৭৭১ কোটি টাকা সাড়ে সাত লক্ষেরও বেশি কর্মী ও অবসরপ্রাপ্তদের মেটানো হয়েছে।
মোট বকেয়ার পরিমাণ কত?
১০০ শতাংশ হারে হিসেব করলে মোট বকেয়ার পরিমাণ দাঁড়ায় প্রায় ১১,৯৮৩ কোটি টাকা।
বাকি বকেয়া কবে মেটানো হবে?
বাকি টাকা আগামী বছর জানুয়ারি, জুলাই এবং শেষ কিস্তি ২০২৮-এর জানুয়ারিতে মেটানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।