: সুস্বাদু মাংসের লোভেই বিপত্তি! রাতের অন্ধকারে গোয়াল থেকে উধাও হয়ে যাচ্ছে আস্ত গরু, বাছুর! কখনও আবার চোখের পলকে গায়েব হয়ে যাচ্ছে পোষা ছাগল। কে এই রহস্যময় ‘ছাগল চোর’? তা কিছুতেই বুঝে উঠতে পারছিলেন না ডুয়ার্সের গয়েরকাটা চা বাগান ও পার্শ্ববর্তী গ্রামের বাসিন্দারা। পাহারা দিয়েও মিলছিল না সুরাহা। অবশেষে জট খোলে গয়েরকাটা চা বাগানের ১১ নম্বর লাইনের বাসিন্দা ঝিমু ওঁরাওয়ের ছাগল উধাও হওয়ার পর। ঝিরিঝিরি বৃষ্টিতে অবশেষে খাঁচাবন্দি গয়েরকাটার ত্রাস ‘মাংসপ্রেমী’ লেপার্ড। চা বাগানের একপাশে ছোপ ছোপ রক্তের দাগ দেখে বাসিন্দারা নিশ্চিত হন, গ্রামে নিঃশব্দে হানা দিচ্ছে আস্ত এক লেপার্ড। আর তাতেই আতঙ্কে রাতের ঘুম ওড়ে গোটা এলাকার।অবশেষে সেই ‘মাংসপ্রেমী’ লেপার্ড খাঁচাবন্দি হওয়ায় যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন গ্রামবাসীরা।
জানা গিয়েছে, লেপার্ডের আতঙ্ক ছড়াতেই বন দফতরের দ্বারস্থ হয় গয়েরকাটা চা বাগান কর্তৃপক্ষ। তাদের আরজির ভিত্তিতেই এলাকায় খাঁচা বসানোর সিদ্ধান্ত নেয় বন দফতরের বিন্নাগুড়ি স্কোয়াড। কিন্তু ধুরন্ধর লেপার্ডকে বাগে আনা তো সহজ নয়! তাই টোপ হিসেবে খাঁচায় রাখা হয় হাজার টাকা কিলো দরের আস্ত খাসি! আর তাতেই হল কেল্লাফতে। টানা বৃষ্টির রাতে খাসির মাংসের গন্ধ এড়াতে পারেনি এই লেপার্ড। রাতে ঝিরিঝিরি বৃষ্টির মধ্যেই মাংসের লোভ সামলাতে না পেরে সোজা খাঁচায় ঢুকে পড়ে সে। আর তখনই সশব্দে বন্ধ হয়ে যায় খাঁচার দরজা। সকালে খাঁচাবন্দি লেপার্ড দেখতে ভিড় জমান চা বাগানের শ্রমিকরা।
মরাঘাট রেঞ্জের আধিকারিক চঞ্চল ভট্টাচার্য বলেন, “চা বাগান কর্তৃপক্ষের অনুরোধে আমরা ওই এলাকায় খাঁচা বসিয়েছিলাম। টোপ হিসেবে ছাগল দেওয়া হয়েছিল। তাতেই লেপার্ডটি খাঁচাবন্দি হয়েছে। আপাতত তার শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। পশু চিকিৎসকদের সবুজ সংকেত মিললে লেপার্ডটিকে পুনরায় জঙ্গলে ছেড়ে দেওয়া হবে।”
পরিবেশপ্রেমীদের মতে, জঙ্গল এবং লোকালয়ের মধ্যবর্তী দূরত্ব এখন অনেকটাই কমে গিয়েছে। জঙ্গল লাগোয়া এলাকায় জঙ্গল ও চা বাগান প্রায় মিলেমিশে যাওয়ায় সহজেই শিকারের খোঁজে জঙ্গল ছেড়ে লোকালয়ে বা চা বাগানে ঢুকে পড়ছে লেপার্ডরা। আর এতেই দিন দিন বাড়ছে বন্যপ্রাণী ও মানুষের সংঘাত, যা নিয়ে কপালে ভাঁজ বনদফতরেরও। তবে লেপার্ডটি ধরা পড়ায় আপাতত স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন গয়েরকাটার বাসিন্দারা।