সংসদের বাদল অধিবেশনের মাঝেই বৃহস্পতিবার উত্তপ্ত হয়ে উঠল সংসদ ভবনের মকর দ্বার (Makar Dwar)। একদিকে, ‘জীবন বাঁচাও, নিট বন্ধ করো।’ অন্যদিকে,গলা চড়িয়ে লাগাতার স্লোগান—‘যুবসমাজকে ঘেঁটে দিও না। রাহুল গান্ধী দ্রুত সেরে ওঠো। জেগে ওঠো।’ এমনই জোড়া স্লোগানে কানপাতা দায় সংসদ চত্বরে। NEET প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে বিরোধী INDIA-র সাংসদরা এ দিন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ শুরু করলে, পাল্টা স্লোগান দেন শাসক NDA-র সাংসদরা। একে অন্যের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে গলা চড়ানোর প্রতিযোগিতা দুই পক্ষের। সরকার-বিরোধী যুযুধান দুই টিমের স্লোগান, পোস্টার এবং পাল্টা প্রতিবাদে সংসদ চত্বরে তীব্র উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
এ দিন INDIA-র সাংসদরা কালো পোশাক পরে সংসদে এসে NEET প্রশ্নফাঁস, বিভিন্ন প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় অনিয়ম এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভে সামিল হন। তাঁদের অভিযোগ, সরকারের ব্যর্থতার কারণেই লক্ষ লক্ষ ছাত্রছাত্রীর ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
অন্যদিকে, NDA সাংসদরা বিরোধীদের বিরুদ্ধে সংসদে আলোচনা এড়িয়ে যাওয়ার অভিযোগ তোলেন। তাঁদের দাবি, সরকার NEET-সহ সমস্ত বিষয়েই সংসদে কোনও শর্ত ছাড়াই আলোচনার জন্য প্রস্তুত, কিন্তু বিরোধীরাই রাজনৈতিক কারণে বারবার অধিবেশন অচল করার চেষ্টায় এমন হট্টগোল-গোলমাল করছে।
এদিন সংসদের মকর দ্বারে নজিরবিহীন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। দুই পক্ষের সাংসদরা মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন। তাঁর ফলে মুহূর্তে শাসক-বিরোধীদের এমন অবস্থানে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বিক্ষোভের এক পর্যায়ে পোস্টার কেড়ে নেওয়া এবং ধাক্কাধাক্কির ঘটনাও ঘটে। নিরাপত্তারক্ষীরা দ্রুত হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
বিরোধীদের উদ্দেশে NDA সাংসদদের তোপ, রাজনৈতিক স্বার্থে দেশের যুবসমাজকে প্ররোচিত করছেন রাহুল গান্ধী। বিজেপির সর্বভারতীয় সভাপতি নীতিন নবীন বলেন, ‘যদি সত্যিই ছাত্রছাত্রীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বিগ্ন হন, তা হলে সংসদে এসে NEET নিয়ে আলোচনায় অংশ নিন। বিতর্ক থেকে পালিয়ে যাবেন না।’ তাঁর দাবি, আলোচনায় বসলে বিরোধীদের ‘দ্বিচারিতা’ প্রকাশ্যে আসবে।
অন্যদিকে, সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজুও বলেন, ‘সরকার NEET ইস্যুতে বিস্তারিত আলোচনার জন্য প্রস্তুত। বিরোধীরা কোন দিন এবং কতক্ষণ আলোচনা চান, সেটাও তারা ঠিক করে দিতে পারেন।’
কংগ্রেস ও INDIA- দাবি, শুধু আলোচনার আশ্বাস নয়। সরকারকে প্রথমে প্রশ্নফাঁসের দায় স্বীকার করতে হবে। তা না হলে আলোচনায় বসতে নারাজ বিরোধীদের একাংশ। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার দাবিতে তারা অনড়। এ দিন বিরোধীদের মিছিলে সামিল হন সোনিয়া গান্ধী থেকে অখিলেশ যাদব।
এ দিকে গোটা বাদল অধিবেশনের জন্য বুধবারই সাসপেন্ড হয়েছেন তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এ দিন তাঁকেও দেখা যায় সংসদ চত্বরে। গলায় প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে বিক্ষোভে সামিল হন তিনি। পরে সংসদের সিঁড়িতে বসেও স্লোগানিং দিতে থাকেন। তিনি NEET-র পাশাপাশি NCPI-এ মিশে যাওয়া তৃণমূলের ২০ জন সাংসদকে কটাক্ষ করে স্লোগান দেন, ‘বিজেপির সঙ্গে সংসদে ২০ গদ্দার রয়েছে।’
সংসদের অচলাবস্থা কাটাতে বৃহস্পতিবার লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, সমাজবাদী পার্টির নেতা অখিলেশ যাদব, তৃণমূল কংগ্রেসের মহুয়া মৈত্র ও সৌগত রায় লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে বিরোধীরা NEET ইস্যুতে পূর্ণাঙ্গ আলোচনার দাবি জানায়। স্পিকার জানান, নিয়ম মেনেই এই বিষয়ে আলোচনার জন্য তিনি প্রস্তুত।
প্রশ্নফাঁস বিতর্কে ইতিমধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দ্রুত বিচারের জন্য ফাস্ট ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণা করেছেন। কিন্তু বিরোধীদের দাবি, শুধুমাত্র আদালত গঠন যথেষ্ট নয়; সরকারের জবাবদিহি এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ ছাড়া আন্দোলন থামবে না। সংসদের ভিতরে ও বাইরে এই ইস্যু ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে।
NEET প্রশ্নফাঁস, বিভিন্ন পরীক্ষায় অনিয়ম এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে INDIA জোটের সাংসদরা বিক্ষোভে সামিল হন। এর পাল্টা প্রতিবাদ করে NDA সাংসদরা।
বিরোধীদের দাবি, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ, প্রশ্নফাঁসের দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং পরীক্ষা ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে হবে।
NDA-র দাবি, সরকার NEET-সহ সব বিষয়েই সংসদে আলোচনার জন্য প্রস্তুত। বিরোধীরাই রাজনৈতিক কারণে সংসদের কাজ ব্যাহত করছে।
দুই পক্ষের স্লোগান, পোস্টার প্রদর্শন, পাল্টা বিক্ষোভ এবং ধাক্কাধাক্কির অভিযোগে সংসদ চত্বরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে নিরাপত্তারক্ষীরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
রাহুল গান্ধী, অখিলেশ যাদব, মহুয়া মৈত্র ও সৌগত রায় স্পিকার ওম বিড়লার সঙ্গে বৈঠক করে NEET ইস্যুতে পূর্ণাঙ্গ আলোচনার দাবি জানান। স্পিকার নিয়ম মেনে আলোচনা করাতে প্রস্তুতির কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী প্রশ্নফাঁস মামলার দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য ফাস্ট-ট্র্যাক আদালত গঠনের ঘোষণা করেছেন। তবে বিরোধীদের দাবি, শুধু আদালত গঠন নয়, সরকারের জবাবদিহিও জরুরি।