• রেলগেটে দুর্ঘটনায় গেটম্যানের ‘ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট যেন হয়’, কড়া অবস্থান শুভেন্দুর
    এই সময় | ২৩ জুলাই ২০২৬
  • মুর্শিদাবাদের গোবিন্দপুরে ট্রেনের ধাক্কায় মৃতদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ওই দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তার চেক তুলে দেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘রেল ও পুলিশ প্রাথমিক তদন্তের পরে আমাকে জানিয়েছে, গেটম্যানের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার কথা। আমি এই রাজ্যের পুলিশমন্ত্রীও। আমি কথা দিয়ে যাচ্ছি, আইন মেনে ওই গেটম্যানের চূড়ান্ত শাস্তি হবে। এটা ক্ষমার অযোগ্য।’

    গত ১৭ জুলাই খাগড়াঘাট স্টেশন ও কর্ণসুবর্ণ স্টেশনের মাঝে গোবিন্দপুরে ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। সকাল ৬টা ৪১ মিনিট নাগাদ এই দুই স্টেশনের মাঝে গোবিন্দপুর রেলগেটে নিমতিতা-কাটোয়া প্যাসেঞ্জার ট্রেনের ধাক্কায় দুমড়েমুচড়ে যায় একটি পুলকার। মৃত্যু হয় চার পড়ুয়ার। তাদের কারও বয়স ৫, কারও ৭, কারও ৮ বছর। মৃত্যু হয় এক সাইকেল আরোহীরও।

    এ দিন মৃতদের পরিবারের হাতে ৫ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। আহতদের এক লক্ষ টাকা করে দেওয়া হয়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমার বলার কিছু নেই। অত্যন্ত ব্যথাতুর হৃদয় নিয়ে আমি এখানে এসেছি। একেবারে ছোট ফুলের মতো বাচ্চাগুলো যে ভাবে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে, শোক প্রকাশের ভাষা নেই। এ টুকু বলতে পারি, পরিবারগুলির পাশে আছি। অর্থ দিয়ে কখনও এই ধরনের ক্ষতিপূরণ হয় না। তবু সরকারের দায়িত্ব রয়েছে। সরকার মানবিক।’

    মৃত জেসিকা শবনমের মা শেফালি খাতুন জানান, মেয়ে বড় হয়ে অনেক কিছু করতে পারত। মেয়েটাই শেষ হয়ে গেল। গেটম্যানের যেন কঠোর শাস্তি হয়। ইশানুর রহমানও এই দুর্ঘটনায় মারা গিয়েছে। তার মা আজিজা খাতুন বলেন, ‘স্যরকে হাত ধরে বললাম, আপনি তো সবই জানেন। তিনিও বললেন, ‘আমার সান্ত্বনা দেওয়ার কোনও ভাষা নেই। আমি তোমার পাশে আছি’।’

    এ দিন দুর্ঘটনাস্থল থেকে একেবারে কাছেই মঞ্চ করা হয়েছিল। সেখান থেকেই চেকগুলি বিতরণ করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘আমার ক্ষমতার মধ্যে যা করার, ১৫ দিনের মধ্যে করব। অপরাধী গেটম্যান। পুলিশকে স্পষ্ট নির্দেশ দিয়ে যাচ্ছি, জেলে থাকাকালীন তদন্ত শেষ করে চার্জশিট দিতে হবে। কাস্টডি ট্রায়াল করিয়ে যেন ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট হয় তা ডিআইজি, পুলিশসুপার, ডিএমকেও দেখতে হবে। স্থানীয় বিধায়ক ভরত ঝাকে দায়িত্ব দিলাম। তিনি আমার সঙ্গে টাইম টু টাইম যোগাযোগ করবেন।’

    কর্ণসুবর্ণ রেলগেটে আরও সুরক্ষা বৃদ্ধির জন্য জেলাশাসক রেলের সঙ্গে কথা বলবেন, সে নির্দেশও দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, প্রয়োজনে তিনিও রেলমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলবেন।

    সে দিনের দুর্ঘটনায় আহত ৪ জনকে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। ছিলেন পুলকার চালকও। পুলকার চালক-সহ ২ জনকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এক ছাত্রী এখনও সেখানে চিকিৎসাধীন। এ দিন হাসপাতালে ওই ছাত্রীকে দেখতে যান মুখ্যমন্ত্রী।

    মুখ্যমন্ত্রী কেন গোবিন্দপুরে যান?

    রেলগেটে দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁদের হাতে ৫ লক্ষ টাকা করে এবং আহতদের ১ লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণের চেক তুলে দিয়েছেন।

    দুর্ঘটনাটি কবে ও কোথায় ঘটেছিল?

    গত ১৭ জুলাই সকাল ৬টা ৪১ মিনিট নাগাদ খাগড়াঘাট ও কর্ণসুবর্ণ স্টেশনের মাঝে গোবিন্দপুর রেলগেটে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

    দুর্ঘটনায় কতজন মারা গিয়েছে?

    চার স্কুল পড়ুয়ার মৃত্যু হয়। একজন সাইকেল আরোহীরও মৃত্যু হয়।

    দুর্ঘটনায় আহতদের বর্তমান অবস্থা কী?

    আহত ৪ জনের মধ্যে পুলকার চালক-সহ ২ জনকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। একজন ছাত্রী এখনও চিকিৎসাধীন।

    গেটম্যানের ভূমিকা নিয়ে কী বললেন মুখ্যমন্ত্রী?

    তিনি জানিয়েছেন, আইন মেনে গেটম্যানের চূড়ান্ত শাস্তি হবে এবং কাস্টডি ট্রায়াল করিয়ে ক্যাপিটাল পানিশমেন্ট নিশ্চিত করতে পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন।

  • Link to this news (এই সময়)