• পুর-পঞ্চায়েত প্রধানরা আর জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র দিতে পারবেন না, ‘দুর্নীতি’ ধরতে পুলিশি অভিযান রাজ্য জুড়ে
    এই সময় | ২৩ জুলাই ২০২৬
  • জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্রে জালিয়াতি রুখতে আগেই নতুন নিয়ম জারি করেছিল রাজ্য সরকার। এ বার জন্ম-মৃত্যুর ভুয়ো শংসাপত্র বিতরণে দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে জেলায় জেলায় শুরু হলো পুলিশি অভিযানও। তার মধ্যেই বৃহস্পতিবার মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়ালও জানিয়ে দিলেন, এ বার থেকে জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র দিতে পারবেন না রাজ্যের পুরপ্রধান বা পঞ্চায়েত প্রধানরা। অর্থাৎ, কোনও নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরই আর সেই ক্ষমতা থাকবে না। এ বার এই ধরনের শংসাপত্র দিতে পারবেন দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকেরাই।

    বৃহস্পতিবার মুখ্যসচিব জানিয়েছেন, জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র বিতরণে বিস্তর গরমিলের প্রমাণ মিলেছে। আর এই ধরনের ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর-এর সময়ে। মুখ্যসচিব বলেন, ‘পুলিশের কাছেও অনেক অভিযোগ এসেছে। অনেক জায়গায় নকল জন্ম শংসাপত্র ধরা পড়েছে। অনেকে সুযোগসুবিধা নিয়েছেন। নিয়ম থাকলেও বহু অনিয়ম হয়েছে।’ রাজ্য সরকার জানিয়ে দিয়েছে, ১৯৯৭ সাল থেকে নথিবদ্ধ হওয়া সব শংসাপত্র আবার যাচাই করবে সরকার। বাড়ি বাড়ি গিয়ে সমীক্ষা হবে। কারও কাছে ভুয়ো শংসাপত্র থাকলে তা বাতিল হবে।

    তবে মুখ্যসচিবের আশ্বাস, ‘কারও ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এই জন্ম শংসাপত্র যাচাই শুধুমাত্র একটা নিয়ম। দুর্নীতিমুক্ত করতেই এই পদক্ষেপ। সরকারি আধিকারিকেরাই এটা যাচাই করবেন। কোনও চুক্তিভিত্তিক কর্মী যাচাই করবেন না।’ পাশাপাশি মনোজ জানিয়েছেন, ভবিষ্যতে যে সরকারি আধিকারিকের হাতে এই ধরনের শংসাপত্র বিতরণের দায়িত্ব থাকবে, তাঁর কাজে যদি বেনিয়ম ধরা পড়ে, তা হলে কড়া পদক্ষেপ করা হবে।

    ঘটনাচক্রে, মুখ্যসচিবের এই বার্তার আগেই শংসাপত্র বিলিতে দুর্নীতি খুঁজতে রাজ্য জুড়ে অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। কলকাতা-বিধাননগর পুরসভার পাশাপাশি অভিযান চলে রাজ্যে বিভিন্ন পুরসভা এবং পঞ্চায়েতে। বীরভূমের ১৬৭টি পঞ্চায়েত ও ৬টি পুরসভায় অভিযান চালিয়েছে জেলা পুলিশ৷ পুলিশ সূত্রে খবর, সংশ্লিষ্ট দপ্তরে গিয়ে কর্তব্যরত আধিকারিক-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্রের রেজিস্টার সংগ্রহ করা হয়েছে।

    হুগলির চুঁচুড়া এবং বৈদ্যবাটি পুরসভায় অভিযান চালায় চন্দননগর পুলিশ। পুলিশ সূত্রে খবর, যে দপ্তর থেকে জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্র দেওয়া হয়, সেই দপ্তরের নথিপত্র খতিয়ে দেখা হয়েছে। বাঁকুড়ার বিভিন্ন পুরসভা এবং পঞ্চায়েতেও হানা দিয়েছে পুলিশ। একই ভাবে দুর্গাপুর এবং আসানসোল পুুরসভায় পুলিশি অভিযান নিয়ে রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল বলেন, ‘মন্ত্রিসভায় এই সিদ্ধান্ত হয়েছে। রাজ্যের প্রতিটি পুরসভা ও পঞ্চায়েত থেকে দেওয়া জন্ম-মৃত্যুর শংসাপত্রের নথি খতিয়ে দেখা হবে।’

    পুরসভায় পুলিশের অভিযান। জন্ম মৃত্যুর শংসাপত্র প্রদানের ক্ষেত্রে দুর্নীতি খুঁজতে অভিযান বলে খবর। চুঁচুড়া পুরসভা বৈদ্যবাটি পুরসভায় অভিযান চালাচ্ছে চন্দননগর পুলিশ। জন্ম মৃত্যুর শংসা পত্র দেওয়া হয় যে দপ্তর থেকে সেই দপ্তরের খাতা পত্র খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তৃনমূল জামানায় ওবিসি শংসা পত্র দেওয়া থেকে এসআইআর পর্বে জন্মের শংসাপত্রে বেনিয়মের অভিযোগ রয়েছে।

    মালদার ইংরেজবাজার পুরসভায় পুলিশি অভিযান নিয়ে পুরপ্রধান তথা তৃণমূল নেতা কৃষ্ণেন্দু নারায়ণ চৌধুরী বলেন, ‘জন্ম-মৃত্যুর সার্টিফিকেট সংক্রান্ত বিষয়ে পুর-নগরন্নোয়ন দপ্তরে অভিযোগ হয়েছিল। দপ্তরের তরফে জানানো হয়েছিল যে, তদন্তকারী দল আসবে। পুরসভা তদন্তের কাজে সাহায্য করতে প্রস্তুত। কোনও অনিয়ম থাকলে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

    দক্ষিণ দিনাজপুরের সমস্ত পুরসভা এবং পঞ্চায়েতেই অভিযান চলছে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার অভিষেক গুপ্তা। বালুরঘাট পুরসভার চেয়ারম্যান সুরজিৎ সাহা বলেন, ​‘রাজ্য সরকারের নির্দেশ অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত পঞ্চায়েত ও পুরসভায় ১৯৫১ সাল থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত জন্ম-মৃত্যুর যাবতীয় নথি দিতে বলা হয়েছে। আমরা সরকারের সেই নির্দেশকে মান্যতা দিয়ে সমস্ত নথি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দিচ্ছি। কারণ এই বিষয়ে নিশ্চয়ই সরকারের নির্দিষ্ট কোনও পরিকল্পনা রয়েছে।’

  • Link to this news (এই সময়)