স্মার্ট মিটার নিয়ে বিধানসভায় বিস্ফোরক মোস্তাফিজুর র
আজকাল | ২৩ জুলাই ২০২৬
আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্য বিধানসভার বাজেট অধিবেশনে বিদ্যুৎ দপ্তর ও সাম্প্রতিক বিতর্কিত ‘স্মার্ট মিটার’ ইস্যুতে রাজ্য সরকারের নীতির কড়া সমালোচনা করলেন ডোমকলের সিপিআই(এম) বিধায়ক মোস্তাফিজুর রহমান। বাজেট বরাদ্দের ৪৩ নম্বর দাবির ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি রাজ্যের বিদ্যুৎ সংকট, আর্থিক অনিয়ম এবং সাধারণ মানুষের ভোগান্তির চিত্র তুলে ধরেন।
বক্তব্যের শুরুতেই বিধায়ক অভিযোগ করেন, রাজ্য সরকারের খামখেয়ালিপনার কারণে পশ্চিমবঙ্গ আজ বিদ্যুৎ ঘাটতির রাজ্যে পরিণত হয়েছে। রাজ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৬,২৫০ মেগাওয়াট হলেও বাস্তবে মাত্র ১৮,৪২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হচ্ছে। দুর্গাপুর, মেজিয়া এবং কোলাঘাট তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলি তাদের নির্ধারিত মেয়াদের সীমা পেরিয়ে জরাজীর্ণ অবস্থায় চলছে বলে জানান তিনি। উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, দুর্গাপুর তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে দৈনিক ৮,৫০০ মেট্রিক টন কয়লার জায়গায় সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ৬,২০০ মেট্রিক টন, অর্থাৎ প্রায় ২৭% ঘাটতি রয়েছে। এর ফলে ঘন ঘন যন্ত্রাংশ বিকল হচ্ছে এবং রক্ষণাবেক্ষণ খরচ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।
বিধানসভায় সিএজি (CAG) রিপোর্টের প্রসঙ্গ তুলে বিস্ফোরক দাবি করেন বিধায়ক। তিনি জানান, ২০২১ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ দপ্তরের প্রায় ২.২৯ লক্ষ কোটি টাকার ব্যবহারিক প্রশংসাপত্র (Utilization Certificate) বা হিসাবের কোনও খোঁজ মিলছে না। এই বিশাল অঙ্কের আর্থিক দুর্নীতির নিরপেক্ষ তদন্তে রাজ্য সরকারের কাছে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (SIT) গঠনের জোর দাবি জানান তিনি।
বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা ডব্লিউবিএসইডিসিএল (WBSEDCL)-এর আর্থিক পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, সংস্থাটি বর্তমানে চরম ঋণের ফাঁদে পড়েছে এবং তাদের স্থগিত ঋণের পরিমাণ প্রায় ২২,৩৬৮ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এই দেনার বোঝা সরাসরি সাধারণ গ্রাহকদের ওপর চাপানোয় প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৮ টাকা ছাড়িয়ে গেছে। বাজেটের মাধ্যমে এই ঋণ মকুব করে সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার প্রস্তাব দেন তিনি। এছাড়া সৌর শক্তির ক্ষেত্রে রাজ্য পিছিয়ে রয়েছে উল্লেখ করে বিধায়ক বলেন, গুজরাট যেখানে ৬,৮৮২ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন করছে, সেখানে পশ্চিমবঙ্গে 'রুপটপ সোলার' তৈরি হয়েছে মাত্র ৬৭ মেগাওয়াটের।
'স্মার্ট মিটার' চালুর বিরোধিতা করে মোস্তাফিজুর রহমান স্পষ্ট জানান, এটি কোনও বাধ্যতামূলক আইন নয়, বরং কেন্দ্রীয় সরকারের একটি স্কিম মাত্র। তিনি সতর্ক করে বলেন যে, সার্ভার ডাউন বা নেটওয়ার্ক সমস্যার কারণে গ্রামীণ ও বহুতল ভবনের গ্রাহকরা রিচার্জ করতে না পেরে অন্ধকারে দিন কাটাতে বাধ্য হবেন। এছাড়া 'ডাইনামিক প্রাইসিং'-এর সুযোগ নিয়ে বেসরকারি সংস্থাগুলি পিক-আওয়ারে ইচ্ছেমতো বিদ্যুতের দাম বাড়াবে। হঠাৎ করে ৩ মাসে অতিরিক্ত ও অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিলের কারণে সাধারণ মানুষ ও প্রবীণ নাগরিকরা মারাত্মক হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
বক্তব্যের শেষে তিনি বলেন, গ্রামীণ এলাকায় একটু ঝড়-বৃষ্টি হলেই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। গ্রাহক পরিষেবায় দপ্তরের এই চরম গাফিলতি ও হয়রানি বন্ধে রাজ্য সরকারকে দ্রুত কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।