কোনও কাউন্সিলর গ্রেফতার, কেউ আত্মঘাতী, কেউ নিষ্ক্রিয়, দঃ দমদমে পুর পরিষেবা বেহাল, ঠিক কী অভিযোগ?
আজ তক | ২৩ জুলাই ২০২৬
দক্ষিণ দমদম পুরসভায় অদ্ভুত অচলাবস্থা। এই পুরসভা এখনও খাতায় কলমে তৃণমূলের দখলে। কিন্তু ২০২৬-এর বিধানসভা ভোটে ভরাডুবির পর অধিকাংশ ঘাসফুলের কাউন্সিলররা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ করছেন এলাকাবাসী। যার ফলে সাধারণ নাগরিক পরিষেবা পেতেও বড়সড় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে বলে দাবি উঠছে।
আসলে ৩৫টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত দক্ষিণ দমদম পুরসভা। তার মধ্যে ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সঞ্জয় দাস আত্মহত্যা করেছেন। নানা অভিযোগে গ্রেফতার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর দেবাশিস বন্দ্যোপাধ্যায় (তিনি অনেক দিন আগেই কাউন্সিলর পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন বলে নিজেই দাবি করেছেন)। এছাড়া অধিকাংশ ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নিষ্ক্রিয়। যার ফলে কার্যত নাগরিক পরিষেবা মিলছে না বলে অভিযোগ করছেন সাধারণ মানুষ।
এলাকাবাসীদের দাবি, অল্প বৃষ্টিতেই জমে যাচ্ছে জল। পানীয় জল ঠিক ঠাক মিলছে না। আবর্জনা সময়ে সরছে না। খানাখন্দে ভর্তি রাস্তা। রাস্তা তৈরির কাজ থমকে গিয়েছে। নর্দমা পরিষ্কার হচ্ছে না। এমনকী ইনকাম সার্টিফিকেট, রেসিডেন্সিয়াল সার্টিফিকেটের দেওয়ার মতো কাজও অধিকাংশ কাউন্সিলর করছেন না।
আর এমনটা যে হচ্ছে, সেটা মেনে নিচ্ছে দমদম অঞ্চলের বিজেপি নেতৃত্বও। তবে তাঁদের দাবি, পুরসভার প্রশাসক এবং সরকারি কর্মীদের দিয়ে কাজ চলছে। মানুষ পরিষেবা পাচ্ছেন।
এই প্রসঙ্গে দমদমের বিজেপি নেতা অনির্বাণ সমাজপতি বলেন, 'অধিকাংশ কাউন্সিলর কাজ করছেন না। কোনও জনপরিষেবা দিচ্ছেন না। জনগণের পরিষেবার জন্য তো অসুবিধা হচ্ছেই। কিন্তু সমস্যাগুলি দেখছেন বিধায়ক অরিজিৎ বক্সী। পুরসভার কর্মীও আছেন। তাঁদের সঙ্গে একটা সমন্বয় রেখে কাজ হচ্ছে। সাধারণের যাতে কোনও অসুবিধা না হয়, সেটার চেষ্টা করা হচ্ছে।'
তিনি জানান, কাউন্সিলররা সাধারণ কাজও করছেন না। কোনও সার্টিফিকেট দিচ্ছেন না। অনির্বাণের কথায়, 'এমন একটা পরিস্থিতি এসে গিয়েছে, মনে হচ্ছে ব্যবসা করতে এসেছিল, ব্যবসাটা উঠে গিয়েছে। এখন অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে চলে যাবে। সেখানে বিধায়ক অরিজিৎ বক্সী বিধানসভা জুড়ে চারটে জায়গায় জনতার দরবার করছেন। সেখানেই চলছে সমস্যার সমাধান।'
তবে নাগরিক পরিষেবা না মেলায় বিজেপি এবং তৃণমূলকে একযোগে আক্রমণ করলেন দমদমের সিপিআইএম নেতা মানব লাহা। তিনি বলেন, 'তৃণমূল আর বিজেপির মধ্যে তো কোনও পার্থক্য নেই। একটা দলের নাম পরিবর্তন করে নতুন নামে চলছে। খুব সুপরিকল্পিতভাবে বিজেপি পুরসভাগুলোকে বন্ধ করে দিচ্ছে। পুরসভার কার্যকলাপ সমস্ত বন্ধ করে দিচ্ছে। এর পিছনেও একটা বড় আর্থিক কারণ জড়িয়ে আছে।'
নিজের কথার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, 'তৃণমূলের পুরসভা কিছু উদ্যোগ নিয়েছিল, সেটা ভাল হোক খারাপ হোক, এটা পরের বিতর্ক। কিন্তু যে উদ্যোগগুলো নেওয়া হয়েছিল, সেগুলি এই সময় দাঁড়িয়ে যদি সেই কাউন্সিলররা করে, তাহলে নতুন বোর্ড এসে কাঁচকলা পাবে। তাই বিজেপি পুরনো বোর্ড ভেঙে দিতে চাইছে। তারপর নতুন পৌরবোর্ড বসিয়ে কাটমানি খাওয়ার পরিকল্পনা করছে। এদের কাছে মানুষের পরিষেবার কোনও গুরুত্ব নেই।'
এমতাবস্থায় বামেরা সাধারণ মানুষের পরিষেবার স্বার্থে রাস্তায় নামার কাজ চালিয়ে যাবে বলে জানালেন মানব। পাশাপাশি বিজেপির কাছে তাঁর দাবি, যেভাবেই হোক যত দ্রুত সম্ভব মানুষকে পরিষেবা দিতে হবে।