• অভিষেককে আর রক্ষাকবচ নয়, বড় ধাক্কা হাইকোর্টে
    আজ তক | ২৩ জুলাই ২০২৬
  • হাইকোর্টে ধাক্কা খেলেন  অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ডায়মন্ড হারবারের সাংসদের মিলল না সার্বিক রক্ষাকবচ। রাজ্যজুড়ে তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একাধিক মামলায় একসঙ্গে বিশেষ রক্ষাকবচ চেয়ে কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় । তবে সেই আবেদন গ্রহণ হল না হাইকোর্টে। বৃহস্পতিবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে মামলাটির শুনানি হলেও, এই মুহূর্তে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বিশেষ সুরক্ষা দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে বলে আদালত মনে করেনি। 

    বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের প্রশ্ন ছিল, অভিষেকের তো রক্ষাকবচ রয়েছে। আবার কী প্রয়োজন? এর জবাবে তৃণমূল নেতার আইনজীবী কপিল সিব্বল জানান, রক্ষাকবচ আছে একটি মামলায়। ডিজে মন্তব্যের জেরে মামলায় রক্ষাকবচ রয়েছে। তাঁরা সার্বিক রক্ষাকবচের আবেদন করছেন। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, সব ক্ষেত্রে একইভাবে রক্ষাকবচ কীভাবে দেওয়া যায়? এতে তদন্তে ক্ষতি হতে পারে। আগামী ৩০ জুলাই এই মামলার পরবর্তী শুনানি। 

     অর্থাৎ আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ওই মামলার শুনানি মুলতবি রেখেছে কলকাতা হাইকোর্ট। বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, এই সময়ের মধ্যে তৃণমূল সাংসদের বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করা হলে বিষয়টি আদালতের নজরে আনা যাবে। তবে সব মামলা একত্রিত করে সার্বিক ভাবে অভিষেককে কোনও অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ দেওয়া যাবে না। সম্প্রতি অভিষেকের নামে ৮টি এফআইআর দায়ের হয়। ওই মামলায় রক্ষাকবচ চেয়ে হাইকোর্টে তিনি মামলা করেন।

    অভিষেকের  আইনজীবী কপিল সিব্বলের সওয়াল, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে মামলা করা হচ্ছে। ভবানীপুর, শিলিগুড়ি, নাকাশিপাড়া, বিষ্ণুপুর-সহ একাধিক থানায় অভিষেকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই নিয়ে বিচারপতির মন্তব্য, ‘একসঙ্গে সব মামলায় রক্ষাকবচ দেওয়া সম্ভব নয়। প্রতিটি ভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা দায়ের হয়েছে। একসঙ্গে সব মামলা জুড়ে রক্ষাকবচ চাইছেন কী ভাবে? এটা সম্ভব নয়।’ অভিষেকের আবেদনের বিরোধিতা করেন অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল এসভি রাজু। 

    এদিন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিরোধী দলনেতার প্রসঙ্গ টেনে আনেন সিব্বল। সিব্বলের সওয়াল, এর আগে একাধিক এফআইআর দায়ের হওয়ায় শুভেন্দু অধিকারীকে রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছিল। এমনকি ভবিষ্যতে আদালতের অনুমতি ছাড়া মামলা দায়ের করা যাবে না— সেই নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল। রাজ্যের আইনজীবী পাল্টা যুক্তি দেন, সেটি অন্তর্বর্তী নির্দেশ ছিল। আদালত জানায়, মুখ্যমন্ত্রীর প্রসঙ্গ তুলবেন না। তাঁর ক্ষেত্রে সার্বিক প্রোটেকশন ছিল না। কিছু মামলায় এককভাবে অন্তর্বর্তী রক্ষাকবচ অথবা আগাম জামিনে ছিল।
  • Link to this news (আজ তক)