প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে ধরনা দিচ্ছেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা স্বয়ং! মঙ্গলবার এমন বেনজির ঘটনার সাক্ষী ছিল গোটা দেশ। ‘আরশোলা’দের সমর্থনে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের সামনে রাহুল গান্ধীর ধরনা কতখানি যুক্তিযুক্ত সেই নিয়ে ইতিমধ্যেই সমালোচনা হচ্ছে। এবার রাহুলের সমালোচনা করলেন সোনম ওয়াংচুকের স্ত্রী (Sonam Wangchuk Wife) গীতাঞ্জলি আংমো। তাঁর কথায়, কংগ্রেসের এহেন আচরণ আসলে কুটিল রাজনীতি। নেতাদের উচিত ছিল যন্তর মন্তরে গিয়ে পড়ুয়াদের পাশে দাঁড়ানো।
মঙ্গলবার দুপুরে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গের বাসভবনের সামনে উপস্থিত হন কংগ্রেস নেতা-কর্মীরা। তারপর সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন অর্থাৎ ৭, লোক কল্যাণ মার্গের উদ্দেশ্যে শুরু হয় মিছিল। সেখানে যোগ দেন অখিলেশও। এরপরই মোদির বাসভবনের বাইরে আঁটসাঁট করা হয় নিরাপত্তা। ঘটনাস্থলে যান কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। দেখা করেন রাহুলের সঙ্গে। কিন্তু তাঁর আশ্বাসের পরও সারারাত মোদির বাসভবনের বাইরে ধরনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কংগ্রেস।
এইভাবে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে ধরনা দেওয়া নিয়ে শুরু হয়েছে সমালোচনা। এবার রাহুলদের তুলোধোনা করলেন অনশনরত সোনমের স্ত্রীও। একটি সাক্ষাৎকারে গীতাঞ্জলি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর বাড়ির সামনে যে প্রতিবাদ হয়েছিল সেটায় সততার অভাব ছিল। মানুষকে এইভাবে আর বোকা বানানো যাবে না। এই ভারত যথেষ্ট সচেতন। যারা সৎ নয়, তাদেরকে সমূলে উৎখাত করবে যুবসমাজ।” এখানেই শেষ নয়, গীতাঞ্জলির অভিযোগ, রাজনীতিবিদরা সোনমের জনপ্রিয়তাকে নিজের স্বার্থে কাজে লাগাতে চাইছেন। তবে কপট রাজনীতি সফল হবে না।
২৬ দিন ধরে চলছে সোনমের অনশন। গীতাঞ্জলি মনে করিয়ে দিয়েছেন, “ককরোচ জনতা পার্টি যে আন্দোলন করছে সেটায় কোনও রাজনীতি নেই। এই আন্দোলন দেখিয়ে দিয়েছে যে প্রত্যেক রাজনৈতিক নেতাকেই নিজেদের কথা অনুযায়ী কাজ করতে হবে। ফাঁকা বুলি আওড়ে কোনও লাভ নেই। আমাদের কাছে শাসক-বিরোধী কিছুই নেই। পার্লামেন্ট সর্বোচ্চ স্থান, তারা যেন শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করে, এটাই আমাদের দাবি।” নাম না কংগ্রেসকে বিঁধে গীতাঞ্জলি বলেছেন, রাজনৈতিক স্বার্থ নিয়ে যারা এই প্রতিবাদে নাম লেখাতে চাইছেন তারা ব্যর্থ হবেই।