• বন্যা রুখতে তিস্তার বুকে ড্রেজিং, ৬০ কিমি জুড়ে পলি তোলার সিদ্ধান্ত, অনুমোদন সেচ দপ্তরের
    প্রতিদিন | ২৩ জুলাই ২০২৬
  • দীর্ঘ আলাপ-আলোচনা। অবশেষে অনুমোদন পেল তিস্তা নদীর খনন পরিকল্পনা। তিস্তা নদীর (Teesta River) নাব্যতা বাড়াতে গত দু’বছর ধরে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল সেচ দপ্তরের উত্তর-পূর্ব বিভাগ। মাঝে দুই বর্ষা পেরিয়ে অবশেষে অনুমোদন পেল তিস্তা নদীর গভীরতা বাড়ানোর পরিকল্পনা। এই বর্ষাতেই কাজের অনুমোদন দিয়ে দিয়েছে সেচ দপ্তর। অক্টোবরে বর্ষা বিদায় নিতেই তিস্তার খনন কাজ শুরু হয়ে যাবে বলে সেচ দপ্তর জানিয়েছে। তিস্তার পাশাপাশি একইসঙ্গে খনন কাজ শুরু হয়ে যাবে জলঢাকা আর করলা নদীর। তিস্তার পাশাপাশি এই দুই নদী খননেও ওয়ার্ক অর্ডার দিয়ে দিয়েছে সেচ দপ্তর।

    ২০২৩ সালে সিকিম পাহাড়ে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের প্রভাব পড়ে তিস্তায়। পাহাড় থেকে নেমে আসা বালি, পলি, পাথরের আস্তরনে গভীরতা কমে গিয়ে বেপরোয়া হয়ে ওঠে নদী। তাতে নিশ্চিহ্ন হয়ে যায় নদীর পাড়ের লালটং বস্তি ও চমকডাঙি গ্রাম। মানুষকে বর্ষায় উদ্ধার করে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে প্রশাসন। বেপরোয়া হয়ে ওঠা নদীকে নিজস্ব গতিপথে ফেরাতে ওই বছরই তিস্তা নদী খনের প্রস্তাব রাজ্য সরকারকে পাঠায় সেচ দপ্তর। নদী বিশেষজ্ঞদের নিয়ে দীর্ঘ সমীক্ষার পর পরিকল্পনা অনুমোদনের জন্য পাঠানো হয়। অবশেষে এল সেই অনুমোদন। জানা গিয়েছে, তিস্তা নদীবক্ষে খনন কাজের জন্য নদীকে বেশ কয়েকটি ভাগে ভাগ করে টেন্ডার প্রক্রিয়া করা হচ্ছে। তিস্তা নদীর সেবক পাহাড়ের পাদদেশ থেকে শুরু করে মাল, রাজগঞ্জ, সদর ব্লক হয়ে ময়নাগুড়ি পর্যন্ত প্রথম পর্যায়ে ৬০ কিলোমিটার নদী খনন করা হবে। 

    খনন প্রক্রিয়ার দায়িত্বে থাকবে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের এমডিটিসিএল (মিনারেল ডেভলপমেন্ট অ্যান্ড ট্রাডিং কর্পোরেশন লিমিটেড)। অনুমোদন আসার পর প্রথম পর্যায়ে তিস্তা সেতু থেকে নিয়ে প্রায় আট কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এই খনন কাজ চলছে। বরাতপ্রাপ্ত সংস্থাকে ইতিমধ্যেই কাজের ওয়ার্ক অর্ডার দিয়ে দিয়েছে সেচ দপ্তর। তিস্তা নদীর পাশাপাশি ময়নাগুড়ির সাপ্টিবাড়ি এলাকায় জলঢাকা নদীর ১ দশমিক ২ কিলোমিটার ও জলপাইগুড়ি শহরের বুক চিরে বয়ে চলা করলা নদীর ১৫ কিলোমিটার এলাকা খননের জন্য ইতিমধ্যেই ওয়ার্ক অর্ডার দিয়ে দিয়েছে সেচ দপ্তর। বর্ষার পরই পুরোমাত্রায় খনন কাজ শুরু যাবে বলে সেচ দপ্তরের চিফ ইঞ্জিনিয়র কৃষ্ণেন্দু ভৌমিক জানিয়েছেন।
  • Link to this news (প্রতিদিন)