পুজোর পর ফেলে দেওয়া ফুলেই হবে ধূপ, আবির! দূষণ রুখতে বড় ঘোষণা অগ্নিমিত্রার
প্রতিদিন | ২৩ জুলাই ২০২৬
হিন্দু ধর্মীয় আচার অনুযায়ী, যে কোনও পুজোয় ফুল একটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। পুজো হয়ে গেলেও পড়ে থাকা ফুল নিয়েও রয়েছে সাধারণ মানুষের নানা রকমের সংস্কার। ভগবানের পায়ে থাকা ফুলে যেখানে সেখানে ফেলতে চান না অনেকেই! যদিও পরে সেই ফুলই আবর্জনার সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয় কিংবা পুকুর, নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। এক্ষেত্রে ক্রমশ বাড়ছে পরিবেশ দূষণের শঙ্কা। সেদিকে নজর রেখেই এবার মন্দিরে ব্যবহৃত পুজোর ফুল নিয়েই বড় উদ্যোগ রাজ্য সরকারের। পড়ে থাকা সেই ফুল দিয়েই তৈরি হবে এবার আবির। ফুলের নির্যাস বেরোবে ধূপের সুগন্ধে, এমনই উদ্যোগের কথা জানালেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল (Agnimitra Paul)।
সম্প্রতি কলকাতার চিনার পার্কে সিদ্ধার্থ ইউনাইটেড সোশ্যাল ওয়েলফেয়ার মিশনের উদ্যোগে আয়োজিত ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ১২৫তম জন্মবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে যোগ দেন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। সেখানেই বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, “প্রতিদিন রাজ্যের বিভিন্ন মন্দিরে বিপুল পরিমাণ ফুল-মালা ব্যবহার করা হয়। পুজো শেষে সেই ফুল নদী, পুকুর কিংবা আবর্জনার স্তূপে ফেলে দেওয়ায় পরিবেশ দূষণ বাড়ছে। এই সমস্যা মোকাবিলায় ব্যবহৃত ফুল সংগ্রহ করে তা থেকে ধূপকাঠি ও আবির তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হবে।” এক্ষেত্রে একদিকে যেমন কর্মসংস্থান বাড়বে অন্যদিকে পরিবেশ দূষণ কমানো সম্ভব হবে বলেই মত।
এই অনুষ্ঠানে মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী দুধ কুমার মণ্ডল-সহ বহু বিশিষ্ট মানুষ। অন্যদিকে সিদ্ধার্থ ওয়েলফেয়ার মিশনের সাধারণ সম্পাদক বুদ্ধপ্রিয় মহাথেরো বলেন, ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের আদর্শ ও মূল্যবোধ সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে দেওয়া প্রয়োজন। সেজন্য ভবিষ্যতেও এই ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে। শুধু তাই নয়, শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করতে সকলকে এগিয়ে আসার আহবানও জানান বুদ্ধপ্রিয় মহাথেরো।