'গেট ম্যানের শাস্তি হবে!' মুর্শিদাবাদে পুলকার দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা মুখ্যমন্ত্রীর
News18 বাংলা | ২৩ জুলাই ২০২৬
মুর্শিদাবাদের গোবিন্দপুর গ্রামে রেল দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবারের হাতে বৃহস্পতিবার রাজ্য সরকারের তরফে ৫ লক্ষ টাকা করে আর্থিক অনুদান তুলে দেন মুখ্যমন্ত্রী। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের বিভিন্ন আবেদনও শোনেন তিনি। কর্মসংস্থান ও চাকরির দাবির প্রেক্ষিতে ১৫ দিনের মধ্যে বিষয়টি দেখার আশ্বাস দেন মুখ্যমন্ত্রী।
এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে তামান্না পারভিন (৭), ইসানুর রহমান (৯), জেসিকা শবনম (৮), ফারহানা বেগম (৬) এবং সাইকেল আরোহী জামশেদ শেখ।
মৃত ইসানুর রহমানের মা আজিজা খাতুন মুখ্যমন্ত্রীর হাত থেকে অনুদানের চেক গ্রহণ করেন। তিনি জানান, তাঁর স্বামী জীবিকার তাগিদে সৌদি আরবে কর্মরত। ছেলে বড় হয়ে পরিবারের মুখ উজ্জ্বল করবে— এমনই স্বপ্ন ছিল তাঁদের। সেই স্বপ্ন দুর্ঘটনায় ভেঙে গিয়েছে। আজিজা খাতুন মুখ্যমন্ত্রীর কাছে আবেদন করেন, তাঁর স্বামীর জন্য মুর্শিদাবাদেই একটি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা হোক, যাতে পরিবার একসঙ্গে থাকতে পারে। তাঁর দাবি, মুখ্যমন্ত্রী ১৫ দিনের মধ্যে বিষয়টি দেখার আশ্বাস দিয়েছেন।
মৃত জেসিকা শবনমের মা শেফালী খাতুনও মুখ্যমন্ত্রীর কাছে চাকরির আবেদন জানান। তিনি বলেন, ভালো ভবিষ্যতের আশায় মেয়েকে একটি বেসরকারি স্কুলে ভর্তি করিয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগ, রেল গেটম্যানের গাফিলতির কারণেই তাঁর মেয়ের মৃত্যু হয়েছে।তিনি বলেন, “আমি গেটম্যানের সর্বোচ্চ শাস্তি চাই। পাশাপাশি আমাকে একটি চাকরি দেওয়া হোক। চাকরি না পেলে আমার দ্বিতীয় মেয়েকে মানুষ করতে পারব না।” মুখ্যমন্ত্রী তাঁর আবেদন শোনেন এবং বিষয়টি বিবেচনার আশ্বাস দিয়ে ১৫ দিনের সময় চান।
অনুদান প্রদান অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ফুলের মতো ছোট ছোট শিশুরা দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে। আমরা সহানুভূতি জানাতে এসেছি। অর্থ দিয়ে এই ক্ষতি কখনও পূরণ করা যায় না।” তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক তদন্তে রেল এবং পুলিশের রিপোর্টে রেল গেটম্যানের দায়িত্বজ্ঞানহীনতার বিষয়টি সামনে এসেছে। যদি তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে আইন অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।