NEET-UG পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষাব্যবস্থা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগে এখন দেশ জুড়ে বিক্ষোভের আবহ। ছাত্র আন্দোলনের তীব্রতা ক্রমশ বাড়ছে। কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে রাজধানী দিল্লি থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভ চলছে। এ বার আন্দোলনকারী ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে বার্তা দিলেন ভারতের কিংবদন্তি ক্রিকেটার সচিন তেন্ডুলকর। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডলে একটি পোস্টে এই নিয়ে মুখ খুললেন তিনি। জানালেন, যোগ্যতা বিচার করে এমন একটি স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন, যেখানে কোনও ছাত্রছাত্রীর যেন মনে না হয় কঠোর পরিশ্রমের মূল্য দেওয়া হয়নি। আর কী বললেন সচিন?
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে চলা আন্দোলন নিয়ে সরাসরি কোনও মন্তব্য না করলেও, সততা, পরিশ্রম এবং মেধার গুরুত্বের উপরে জোর দিয়েছেন সচিন। বাবার শেখানো মূল্যবোধের কথা মনে করালেন তিনি। এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্টে সচিন লেখেন, ‘আমার বাবা একজন অধ্যাপক ছিলেন। বহু ছাত্রছাত্রীর শিক্ষক ও পথপ্রদর্শক ছিলেন তিনি। ছোটবেলা থেকেই আমাকে একটি শিক্ষা দিয়েছিলেন— ব্যর্থ হওয়া মেনে নেওয়া যায়, কিন্তু প্রতারণা নয়। কখনও শর্টকাট বেছে নেবে না।’
ভারতের এই প্রাক্তন ক্রিকেটারের মতে, এমন একটি সংস্কৃতি গড়ে তোলা উচিত, যেখানে ফলাফলের চেয়ে পরিশ্রমকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং মেধাই হবে সাফল্যের একমাত্র মাপকাঠি।
সচিন লেখেন, ‘সমাজের প্রাপ্তবয়স্ক সদস্য হিসেবে আমাদের দায়িত্ব সংস্কৃতি গড়ে তোলা। যদি পরিশ্রমের বদলে শুধু ফলাফলকে গুরুত্ব দেওয়া হয়, তা হলে মানুষ মেধার বদলে শর্টকাটই খুঁজবে। আজ যদি ছাত্রছাত্রীরা মনে করে যে তাদের কঠোর পরিশ্রমের মূল্য দেওয়া হয়নি, তা হলে তাদের হতাশ হওয়া স্বাভাবিক। ভবিষ্যতে যাতে কোনও ছাত্রছাত্রীকে এমন পরিস্থিতির শিকার না হতে হয়, সেটা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত।’
এক নজরে
ভারতের তরুণ প্রজন্মকে দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি বলে উল্লেখ করেছেন সচিন। দেশের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে হলে তারুণ্যকে গুরুত্ব দিতে হবে, এমনটাই মত তাঁর। তাই তরুণদের সব সময় উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত রাখা সকলের কর্তব্য বলে জানান সচিন। শেষে নিজেদের সন্তানের কথাও তুলে ধরেছেন এই প্রাক্তন ক্রিকেটার। পোস্টে লেখেন, ‘আমি নিশ্চিত, আমরা এমন এক সমাধান খুঁজে বের করতে পারব, যা আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যৎকে আরও সুরক্ষিত করবে। ওদের স্বপ্নপূরণের আশা বেঁচে থাকবে। জয় হিন্দ!’
আগেই এই আন্দোলন নিয়ে সরব হয়েছিলেন সাহাল আব্দুল সামাদ, লালরিনজ়ুয়ালা ছাংতের মতো ফুটবলাররা। অভিনব বিন্দ্রার মতো তারকা অলিম্পিয়ানরাও মুখ খোলেন এই নিয়ে। এ বার কিংবদন্তি ক্রিকেটার সচিনের এই সমর্থন নিয়ে জোর চর্চা চলছে সবার মধ্যে।
সচিন তেন্ডুলকর বলেছেন, ‘ব্যর্থ হওয়া মেনে নেওয়া যায়, কিন্তু প্রতারণা নয়।’ তিনি এমন একটি স্বচ্ছ মূল্যায়ন ব্যবস্থার পক্ষে মত দিয়েছেন, যেখানে ছাত্রছাত্রীরা বিশ্বাস করতে পারে যে তাদের পরিশ্রমের যথাযথ মূল্যায়ন হয়েছে।
না। তিনি কোনও রাজনৈতিক দল বা ব্যক্তিকে সরাসরি আক্রমণ করেননি। বরং সততা, মেধা, পরিশ্রম এবং ন্যায়সঙ্গত মূল্যায়ন ব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়েছেন।
তিনি বলেছেন, যদি কোনও ছাত্রছাত্রীর মনে হয় যে তাদের কঠোর পরিশ্রমের মূল্য দেওয়া হয়নি, তবে হতাশ হওয়া স্বাভাবিক। ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি যাতে না তৈরি হয়, সেই দায়িত্ব সমাজের।
সচিনের মতে, ভারতের তরুণ প্রজন্মই দেশের সবচেয়ে বড় শক্তি। তাই তাদের স্বপ্ন, পরিশ্রম ও ভবিষ্যৎ রক্ষা করা সকলের দায়িত্ব।
তিনি জানান, তাঁর বাবা একজন অধ্যাপক ছিলেন এবং ছোটবেলা থেকেই তাঁকে শিখিয়েছিলেন যে ব্যর্থতা মেনে নেওয়া যায়, কিন্তু প্রতারণা কখনও নয়।
এর আগে সাহাল আব্দুল সামাদ, লালরিনজুয়ালা ছাংতে এবং অলিম্পিয়ান অভিনব বিন্দ্রাও শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ নিয়ে মন্তব্য করেছিলেন।