• হাইকোর্টে সার্বিক রক্ষাকবচ পেলেন না অভিষেক, শুনানিতে উঠল শুভেন্দুর প্রসঙ্গও
    এই সময় | ২৪ জুলাই ২০২৬
  • রাজ্যের নানা প্রান্তে দায়ের হওয়া এফআইআরের পরিপ্রেক্ষিতে কলকাতা হাইকোর্ট থেকে সার্বিক রক্ষাকবচ পেলেন না তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের পর্যবেক্ষণ, এ ভাবে সার্বিক রক্ষাকবচ দেওয়া সম্ভব নয়। তার মধ্যে পুলিশ-প্রশাসন অভিষেকের বিরুদ্ধে কোনও কড়া পদক্ষেপ করলে বিষয়টি আদালতকে জানানো যাবে বলেও বিচারপতি জানান।

    প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের পরে রাজ্যের তৎকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর বিরুদ্ধেও একের পর এক এফআইআর দায়ের হয়েছিল। তিনি কলকাতা হাইকোর্ট থেকে সার্বিক রক্ষাকবচ পেয়েছিলেন। এ দিন সেই প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন অভিষেকের আইনজীবী কপিল সিবাল। যদিও বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, আদালত সব পক্ষের বক্তব্য না শুনে কোনও নির্দেশ দেবে না।

    এ দিনের শুনানিতে ভার্চুয়ালি উপস্থিত সিবাল জানান, অভিষেকের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া পাঁচটি এফআইআর সামনে রেখে তাঁরা মামলা করেছেন। তবে এখনও পর্যন্ত সাংসদের বিরুদ্ধে মোট ৮টি অভিযোগ দায়ের হয়েছে। কোনও অভিযোগ পেলেই পুলিশ প্রাথমিক তদন্ত ছাড়াই এফআইআর করে দিচ্ছে। রাজনৈতিক হিংসার বশে মামলা হচ্ছে। তাই অভিষেকের বিরুদ্ধে আগামী দিনে অভিযোগ দায়ের করতে হলে যাতে আদালতের আগাম অনুমতি নেওয়া হয়, সেই আবেদন করেন সিবাল।

    পাল্টা রাজ্য পুলিশের হয়ে কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটার জেনারেল এসভি রাজু বলেন, ‘কী করে এতগুলো এফআইআরের বিরুদ্ধে একটা মামলা দায়ের করা হয়? এটা করা যায় না।’ বিচারপতি ভট্টাচার্যও প্রশ্ন তোলেন একটি মাত্র মামলা দায়ের নিয়ে। সিবাল পাল্টা যুক্তিতে বলেন, ‘বিরোধী দলনেতা থাকাকালীন শুভেন্দু অধিকারীর ক্ষেত্রে যদি ১৭ টি এফআইআরের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা যায়, তাহলে অভিষেকের ক্ষেত্রে ৫ টি এফআইআরের বিরুদ্ধে একটা মামলা কেন হবে না? এই হাইকোর্ট–ই এর আগে শুভেন্দু অধিকারীর ক্ষেত্রে নতুন করে কোনও এফআইআর করতে হলে এই আদালতের অনুমতি নিতে হবে বলে নির্দেশ দিয়েছিল। তা হলে অভিষেকের ক্ষেত্রে অন্তবর্তী নির্দেশ দিতে বাধা কোথায়? কারণ রাজ্যের সর্বত্র রোজ নতুন নতুন অভিযোগ দায়ের হচ্ছে। তা নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।’

    এসভি রাজু অন্তবর্তী নির্দেশের আবেদনে আপত্তি জানিয়ে বলেন, ‘মামলার গুরুত্ব বুঝে শুনানি করে তার পরে অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেওয়া হোক। এমন মামলায় প্রথমেই অন্তবর্তী নির্দেশ দেওয়া যায় না।’ যদিও সিবালের যুক্তি, ‘আরও নতুন তিনটে অভিযোগ দায়ের হয়েছে আমার মক্কেলের বিরুদ্ধে। এখনই কোনও নির্দেশ না দিলে এটা আরও বাড়বে।’ যদিও আদালত জানিয়ে দেয়, ৩০ জুলাই মামলার পূর্ণাঙ্গ শুনানি হবে।

  • Link to this news (এই সময়)