হার মানবে সিনেমার দুর্ধর্ষ ক্লাইম্যাক্স। পুলিশের তাড়া খেয়ে খরস্রোতা নদীতে ঝাঁপ, চোখের সামনেই তলিয়ে গেল আস্ত ট্র্যাক্টর। পর্দায় অ্যাকশন সিনেমার রুদ্ধশ্বাস দৃশ্য দেখে যারা শিহরিত হন, জলপাইগুড়ির মালবাজারের এই বাস্তব ঘটনা তাদেরও তাজ্জব করে দেবে। কি ঘটেছিল? ভরদুপুরে পুলিশের তাড়া, আর সেখান থেকে বাঁচতে আস্ত ট্র্যাক্টর নিয়ে খরস্রোতা নদীতে ঝাঁপ!
অবৈধ বালি ও পাথর পাচারের এমনই এক ‘লাইভ অ্যাকশন’-এর সাক্ষী থাকল জলপাইগুড়ি ওদলাবাড়ির ঘিস নদী। প্রশাসনের কড়া নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, বর্ষাকালে নদী থেকে বালি বা পাথর তোলা সম্পূর্ণ বেআইনি। কিন্তু কে শোনে কার কথা! বৃহস্পতিবার দিনের আলোতেই ঘিস নদীর রেল সেতুর নীচে চলছিল দেদার বালি ও বোল্ডার লুট।
গোপন সূত্রে খবর পেয়েই আচমকা সেখানে হানা দেয় মালবাজার থানার পুলিশ। আর পুলিশ দেখেই শুরু হয় সেই অ্যাকশন। ধরা পড়ার ভয়ে ট্র্যাক্টর চালক ট্রলি-সহ সোজা নদী পার হয়ে পালানোর মরিয়া চেষ্টা করেন। কিন্তু ঘিস নদীর তখন বর্ষার ভরা জল, উত্তাল স্রোত। প্রকৃতির রোষের কাছে হার মানে মেশিনের শক্তি। মাঝনদীতেই আটকে পড়ে বোল্ডার বোঝাই ট্র্যাক্টরটি। চোখের সামনেই ধীরে ধীরে আংশিক জলের তলায় তলিয়ে যেতে থাকে সেটি।
অবস্থা বেগতিক বুঝে ঠিক সিনেমার ক্লাইম্যাক্সের হিরো বা ভিলেনদের মতোই খরস্রোতা জলে ঝাঁপ দিয়ে চম্পট দেয় চালক। এরপর শুরু হয় উদ্ধারকাজ। বিশালাকার এক জেসিবি মেশিন নামিয়ে টানা দু-তিন ঘণ্টার চেষ্টার পর জল থেকে টেনে তোলা হয় ডুবন্ত ট্র্যাক্টর ও ট্রলিটিকে। পুলিশ সেটিকে বাজেয়াপ্ত করে মালবাজার থানায় নিয়ে গিয়েছে।
এই ঘটনায় রীতিমতো চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। দিনের আলোতে অবৈধ বালি চোরদের এমন দুঃসাহস আর পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে পালানোর এই সিনেম্যাটিক কায়দা দেখে হতবাক স্থানীয়রাও। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের ধরতে ইতিমধ্যেই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। বেআইনি খনন রুখতে আগামী দিনে যে আরও বড়সড় অভিযান চালানো হবে, তা স্পষ্ট করে দিয়েছে প্রশাসন। তবে ঘিস নদীর বুকে এদিনের এই ‘অ্যাকশন থ্রিলার’ বহুদিন মনে রাখবে মালবাজারবাসী।