• ৬ মাসের মধ্যে চূড়ান্ত রিপোর্ট সপ্তম পে কমিশনের, বর্ধিত বেতন মিলবে কবে?
    আজ তক | ২৪ জুলাই ২০২৬
  • সরকারি কর্মচারীদের জন্য  বড় ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার। টানা মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধির পর এবার রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে গঠন করা হয়েছে সপ্তম বেতন কমিশন । সরকারের এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে নতুন আশা ও ব্যাপক উৎসাহের আবহ তৈরি হয়েছে। ইতিমধ্যেই সপ্তম পে কমিশন নিয়ে বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে অর্থ দফতর। এই বিষয় নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছিলেন, চলতি অর্থবর্ষেই রাজ্যে সপ্তম বেতন কমিশন চালু করার লক্ষ্যে এগোচ্ছে রাজ্যের নতুন সরকার। এই উদ্দেশ্যকে সফল করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

    ৪ সদস্যের  উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি
    কমিশন গঠনের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন দিয়েছেন রাজ্যপাল আর এন রবি। এই বিষয়ে গঠন করা হয়েছে চার সদস্যের এক উচ্চপর্যায়ের বিশেষজ্ঞ কমিটি।  কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে অবসরপ্রাপ্ত আইএস অতনু চক্রবর্তীকে। তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের অর্থ মন্ত্রকের অর্থনৈতিক বিষয়ক দফতরের সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। কমিশনের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন নীতি গবেষণা কেন্দ্রের সিনিয়র গবেষক ডক্টর পার্থ মুখোপাধ্যায়। পাশাপাশি সদস্য করা হয়েছে আইআইএম কলকাতার অর্থনীতির অধ্যাপক ডক্টর পার্থ প্রতিম পালকে। এ ছাড়া কমিশনের সদস্য-সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন আইএএস তথা পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অর্থ দফতরের সচিব দেবী প্রসাদ করণম।

    কোন কোন দিক খতিয়ে দেখবে কমিশন ?
    মূলত, সরকারি কর্মীদের বেতন, ভাতা এবং ডিএ নিয়ে পর্যালোচনা করবে এই পে কমিশন। সরকারি কর্মী, বোর্ড ও কর্পোরেশনের কর্মচারীদের বেতন কাঠামো পর্যালোচনা করবে কমিশন। আবার, বর্তমান বেতন ও ভাতা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পরিবর্তনের সুপারিশ করবে সরকারের গঠন করা এই কমিশন। কাজের সঙ্গে জীবনের ভারসাম্য উন্নত করার সুপারিশ করবে পে কমিশন, এমনই উল্লেখ রয়েছে নবান্নের জারি করা  বিজ্ঞপ্তিতে।  ছয় মাসের মধ্যে রিপোর্ট পেশের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এই কমিটিকে।

    কমিশন সুপারিশ তৈরির সময়ে কেন্দ্রীয় সরকার, অন্য রাজ্যগুলির বেতন কাঠামো, রাজ্যের আর্থিক সামর্থ্য, সরকারি আয়-ব্যয়ের পরিস্থিতি এবং অষ্টম কেন্দ্রীয় বেতন কমিশনের সুপারিশকেও বিবেচনায় রাখতে পারবে বলে নির্দেশিকায় স্পষ্ট করা হয়েছে। সরকারি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, রাজ্য সরকারি কর্মচারীদের বর্তমান বেতন কাঠামো, মহার্ঘ ভাতা (DA), বিভিন্ন বিশেষ ভাতা, ভ্রমণ ভাতা, পদোন্নতির নীতি, পেনশন ও অন্যান্য সুবিধা খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় সুপারিশ করবে কমিশন। একই সঙ্গে বর্তমান কর্মীদের নতুন বেতন কাঠামোয় প্রাথমিক বেতন নির্ধারণ এবং পেনশনভোগীদের পেনশন সংশোধনের পদ্ধতি নিয়েও মতামত দেবে কমিশন।

    প্রসঙ্গত, ক্ষমতায় আসার মাত্র আড়াই মাসের মধ্যেই নিজেদের দেওয়া অন্যতম প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণ করল নতুন বিজেপি সরকার। আগামী ৬ মাসের মধ্যে এই কমিশনকে তাদের চূড়ান্ত সুপারিশ জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এক মাস আগেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেছিলেন, ‘আমি টার্গেট বেঁধে দিয়েছি ডিসেম্বরের মধ্যে পে কমিশনের রিপোর্ট দিয়ে দেবে। তাহলে জানুয়ারি মাসে কার্যকর করে দেব। সপ্তম পে কমিশন কার্যকর হলে ২৮-২৯ অর্থবর্ষে অষ্টম পে কমিশনও বিবেচনার সঙ্গে দেখবো ৷’ 

    সম্প্রতি সরকারি কর্মীদের DA নিয়েও নতুন ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী।   ধীরে ধীরে কেন্দ্র ও রাজ্যের ডিএ-এর ব্যবধান কমানো হবে বলে জানিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন, ‘২০০৮ এর এপ্রিল থেকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর অবধি বকেয়া থাকা ডিএ দেওয়া শুরু করেছিল মমতার সরকার। আমি আরও অনেকটা দিয়েছি। এছাড়াও বাকি থাকা ২০১৫ থেকে ২০১৯ এর ডিএটাও দিয়ে দেওয়া হবে। সামনেই পুজো, অক্টোবর মাসেই অগ্রিম বেতন দেওয়া হবে। সেই সময় বাজেটে ঘোষণা করা ২০% DA পেয়ে যাবেন’। অর্থাৎ আগামী অক্টোবর থেকেই বর্ধিত ২০% মহার্ঘ্য ভাতা যুক্ত হয়ে বেতন পাবেন রাজ্য সরকারের কর্মীরা।
  • Link to this news (আজ তক)