এই সময়, নয়াদিল্লি: মহিলা সাংসদদের সঙ্গে দুর্ব্যবহারের অভিযোগে বুধবার তৃণমূল কংগ্রেসের লোকসভার সাংসদ এবং আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়কে সংসদের চলতি অধিবেশনের জন্য সাসপেন্ড করা হয়েছে৷ তার পরেও নিজের অবস্থানে অনড় এখনও কালীঘাটের ছত্রচ্ছায়ায় থাকা দলের বর্ষীয়ান সাংসদ। কল্যাণের দাবি, তৃণমূল ছেড়ে বিজেপি সমর্থিত এনসিপিআইয়ে যোগদানকারী ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদকে তিনি ‘গদ্দার’ বা ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলা বন্ধ করবেন না৷ বৃহস্পতিবার সকালে সংসদের মকর দ্বারের সামনে কল্যাণ হাজির হয়েছিলেন অন্যান্য দিনের মতোই৷ তাঁর গলায় ঝোলানো ছিল একটি প্ল্যাকার্ড, যেখানে লেখা ছিল ‘ভাজপা কে সাথ ২০ গদ্দার’৷ মকর দ্বারের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি ‘ভাজপা কে সাথ ২০ গদ্দার’ বলে স্লোগানও দিতে থাকেন৷ কল্যাণকে একাই স্লোগান দিতে দেখে একটা সময়ে তাঁর পাশে দাঁড়ান শিবসেনার (ইউবিটি) সাংসদ অরবিন্দ সাওয়ান্ত। উদ্ধব শিবিরের ছ’জন সাংসদও যে দলত্যাগ করেছেন, সেটা কল্যাণকে মনে করিয়ে দেন তিনি। এরপরে বেশ কিছুক্ষণ দু’জনেই স্লোগান দেন।
বুধবার যখন দিল্লিতে লোকসভা থেকে চলতি বাদল অধিবেশনের জন্য সাসপেন্ড করা হয় কল্যাণকে, সে দিনই কলকাতায় রাজ্য বিধানসভায় বিরোধী সচেতক আখরুজ্জামানের ভাষণে বাধা দেওয়ায় এক দিনের জন্য সাসপেন্ড করা হয় কালীঘাট শিবিরের তৃণমূল বিধায়ক কুণাল ঘোষকে। বিধানসভার অধ্যক্ষের নির্দেশে মার্শালরা কার্যত চ্যাংদোলা করে অধিবেশন কক্ষ থেকে বের করে দেন কুণালকে। এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে বুধবারই সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যদিও কল্যাণের সাসপেনশনের পরে ২৪ ঘণ্টা কেটে গেলেও এ নিয়ে কোনও বিবৃতি দেননি তৃণমূলনেত্রী। কালীঘাট–তৃণমূলের একুশে জুলাইয়ের মঞ্চে মমতার সঙ্গে কল্যাণের বাদানুবাদ এবং বুধবার সংসদ চত্বরে কল্যাণের সঙ্গে বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ শমীক ভট্টাচার্যের একান্ত আলাপচারিতায় নানা জল্পনা শুরু হয়েছে। তবে কল্যাণ বুধবারই জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি শিবির বদলাচ্ছেন না। দল ছাড়ার কোনও মানসিকতা তাঁর নেই।
বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কল্যাণ বলেন, ‘সাসপেন্ড করে আমাকে দমানো যাবে না৷ আমি একলাই কাফি৷ বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই চলবে৷ একইসঙ্গে লড়াই চলবে বাংলার ২০ জন বেইমানের বিরুদ্ধেও৷ এই বেইমানদের জন্য বিজেপির সাহস বেড়ে গিয়েছে৷’ এনসিপিআই সাংসদরা বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ৷ দলের বর্ষীয়ান সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের প্রতিক্রিয়া, ‘ওঁকে গুরুত্ব দিতে চাই না। ওঁকে নিয়ে যত বলা হবে, তত বেশি গুরুত্ব পেয়ে যাবেন।’
এই বিতর্কে তৃণমূলকে খোঁচা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। বলেন, ‘ওঁরা (তৃণমূল) নিজেরাই ভীষণ কনফিউজ়ড৷ কে কার পাশে দাঁড়াবেন, কে কার সঙ্গে হাঁটবেন, কে কার সঙ্গে কথা বলবেন, কে কার সাপোর্টে থাকবেন— ওঁরা আগে নিজেরা ঠিক করে নিন। ওঁরাই দেখুন, কে নারীবিদ্বেষী, আর কে নারীবিদ্বেষী নন৷ তবে যে মন্তব্য কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় করেছেন, তারই প্রেক্ষিতে স্পিকার ব্যবস্থা নিয়েছেন৷’
এ দিকে কল্যাণের সাসপেনশন প্রত্যাহারের দাবিতে বিরোধী শিবির একজোট হয়েছে। বৃহস্পতিবার সংসদের অধিবেশন শুরুর আগে বিরোধীদের একটি প্রতিনিধিদল যায় লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে। সেই দলে কংগ্রেস, তৃণমূল-সহ সব বিরোধী দলের প্রতিনিধি ছিলেন। ছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, কংগ্রেসের সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক কেসি বেণুগোপালও। মূলত নিট ইস্যুতে সংসদে অচলাবস্থা কাটানো নিয়েই আলোচনা করতে যান তাঁরা। তবে সংসদীয় সূত্রের দাবি, স্পিকারের সঙ্গে হওয়া এই বৈঠকেই কল্যাণের সাসপেনশন প্রসঙ্গটি ওঠে। বিরোধী প্রতিনিধিরা দাবি করেন, কল্যাণের সাসপেনশন অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।