• শহরে মিছিল করতে চেয়ে ইমেল ‘ককরোচ’দের, সতর্ক লালবাজার
    এই সময় | ২৪ জুলাই ২০২৬
  • এই সময়: দিল্লির যন্তর-মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র আন্দোলন এখন দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রে। নিট-sর প্রশ্ন ফাঁস–সহ বিভিন্ন ইস্যুতে বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়াতে শুরু করেছে বিরোধী দলগুলিও। এ বার কলকাতাতেও মিছিল করতে চাইছেন সিজেপি সমর্থকরা। ইতিমধ্যে দু’বার, ১৯ ও ২১ জুলাই, ই–মেল মারফৎ আবেদন জমা পড়েছে লালবাজারের কাছে। শুক্রবার বিকেল ৪টেয় কলেজ স্কোয়ার থেকে রা‍নি রাসমণি রোড পর্যন্ত মিছিলের অনুমতি চাওয়া হয়েছে। যিনি মেল পাঠিয়েছেন, তিনি ককরোচ জনতা পার্টির সঙ্গী কী ভাবে সম্পর্কিত, খতিয়ে দেখছে লালবাজার। মিছিলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে কি না, বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত অবশ্য স্পষ্ট করেনি লালবাজার।

    এ দিকে বৃহস্পতিবার হুগলির গুপ্তিপাড়ায় একটি অনুষ্ঠান শেষে চলতি ঘটনাক্রম নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যে বক্তব্য রেখেছেন সেটাই আমাদের বক্তব্য। সমাজমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য পোস্ট করেছি। আন্দোলনে যুক্তিপূর্ণ দাবি থাকলে সরকার সেটা দেখবে। কিন্তু যদি অন্য কোনও স্বার্থ থাকে তা হলে সেটা আদায় নির্বাচন ছাড়া সম্ভব নয়।’ দিনকয়েক আগে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে মূলত বাম ছাত্রছাত্রীদের একটি বড় মিছিল বেরিয়েছিল ককরোচদের সমর্থনে। সেই প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘গণতান্ত্রিক আন্দোলন করা যায়। কিন্তু হস্টেল থেকে ছাত্রছাত্রীদের জোর করে মিছিলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’ এ বিষয়ে যাদবপুরের ভিসির সঙ্গেও কথা হয়েছে বলে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন। যদিও এ ব্যাপারে যাদবপুরের ভিসি চিরঞ্জীব ভট্টাচার্যর প্রতিক্রিয়া মেলেনি। যাদবপুরের এসএফআই নেতা শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘যা খুশি তাই বানিয়ে বলে দিলেই সত্যি হয়ে যায় না। যাদবপুরে জোর করে কাউকে মিছিলে হাঁটানো হয় না। এটা আমাদের সংস্কৃতি নয়।’ তবে সমাজমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীকে সমর্থন করে শুভেন্দু যে পোস্ট করেছেন, তার নির্যাস—‘যুবসমাজের ভবিষ্যৎ নিয়ে ছিনিমিনি খেলার দিন শেষ। মোদী সরকারের জিরো টলারেন্স নীতিতে দোষীরা কোনও ভাবেই রেহাই পাবে না।’

    কলকাতা পুলিশ সূত্রের খবর, ককরোচপন্থীদের যে আবেদন ইমেলে এসেছে, পরিস্থিতি বিচার করে অনুমতি দেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে পর্যালোচনা শুরু হয়েছে। বলে জানা গিয়েছে। আবেদনকারী দেদীপ্য গঙ্গোপাধ্যায় মেলে জানিয়েছেন, শুক্রবারের প্রস্তাবিত মিছিলে হাজার দেড়েক মানুষের জমায়েত হতে পারে। সম্ভাব্য সেই মিছিল নিয়ে কটাক্ষে রাজ্যের শিল্পমন্ত্রী তাপস রায় বলেন, ‘এ রাজ্যে কোনও রকম অশান্তি পাকানোর চেষ্টা হলে রেয়াত করা হবে না। পুলিশ অ্যালার্ট আছে। শুধুমাত্র রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে অশান্তির চেষ্টা করা হচ্ছে।’

    রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দিল্লিতে সিজেপি-র আন্দোলন প্রথমে ছাত্র-যুবদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে শুরু হলেও এখন জাতীয় রাজনীতির অন্যতম আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। সেই প্রেক্ষিতে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে কী ভাবে মোকাবি‍লা করা হবে, তারও রূপরেখা তৈরি রাখতে চায় লালবাজার। অন্য দিকে, পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য ছাত্র পরিষদের উদ্যোগে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কলেজ স্ট্রিট ক্যাম্পাস) সামনে আজ শুক্রবারই একটি কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে। বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলি আবার দুপুরে শিয়ালদহ থেকে ধর্মতলা পর্যন্ত মিছিলের ডাক দিয়েছে।

  • Link to this news (এই সময়)