২৬ দিনের অনশন শেষ করার পরে প্রথমবার দেশবাসীর উদ্দেশে বার্তা শিক্ষাবিদ ও পরিবেশকর্মী সোনম ওয়াংচুকের। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কেন্দ্রের আশ্বাসে সন্তুষ্ট হয়ে অনশন প্রত্যাহার করেন তিনি। শুক্রবার সকালে ওয়াংচুক এক ভিডিয়ো বার্তায় বলেন,‘অনশনের ইতি... এ বার জবাবদিহির পালা..।' তিনি জানিয়েছেন, সরকার একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আশ্বাস দিয়েছে। লিখিত আশ্বাসগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় হলো, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্রছাত্রীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না। পাশাপাশি পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বিষয়টি সংসদে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার জন্য তোলা হবে।
শুক্রবার সকালে মেদান্তা হাসপাতাল থেকে প্রকাশিত একটি ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে এখনও দুর্বল এবং শয্যাশায়ী পরিবেশকর্মী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক। তিনি জানান, সরকার এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সাংসদদের কাছ থেকে আশ্বাস পাওয়ার পরই তিনি অনশন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন। এ ছাড়াও কেন্দ্রের পক্ষ থেকে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে যে, সাম্প্রতিক NEET প্রশ্নফাঁস কাণ্ড ঘিরে আত্মহত্যা করা পরীক্ষার্থীদের পরিবারের জন্য উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের ব্যবস্থা করা হবে। একই সঙ্গে, প্রশ্নফাঁসের ঘটনার প্রতিবাদে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্রছাত্রী ও যুবকদের বিরুদ্ধে কোনও মামলা দায়ের করা হবে না বলেও সরকার আশ্বাস দিয়েছে।
এই আশ্বাসগুলির ভিত্তিতেই ২৬ দিনের অনশন প্রত্যাহারের ঘোষণা করেন সোনম ওয়াংচুক। একই সঙ্গে পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষাব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সংসদে সর্বদলীয় আলোচনা হবে বলেও তাঁকে জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে ওয়াংচুক স্পষ্ট করেছেন, ‘এটি আন্দোলনের শেষ নয়। সরকারের আশ্বাস বাস্তবে কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। দেশের যুবসমাজের ভবিষ্যৎ রক্ষার লড়াই চলবে।’ তিনি আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পথে প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান।
সোনম ওয়াংচুকের দাবি অনুযায়ী, কেন্দ্রের তরফে যে আশ্বাসগুলি দেওয়া হয়েছে, সেগুলি হলো—
গত ২৮ জুন অনির্দিষ্টকালের অনশন শুরু করেছিলেন সোনম ওয়াংচুক। NEET-সহ বিভিন্ন সর্বভারতীয় পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে শুরু হওয়া আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়েই তিনি অনশনে বসেন। দীর্ঘ ২৬ দিন পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জে.পি. নাড্ডা এবং জিতেন্দ্র সিংয়ের সঙ্গে আলোচনার পরে তিনি অনশন প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন।
ওয়াংচুকের সিদ্ধান্তের পরই CJP-র প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে সাংবাদিকদের বলেন, ‘সোনম ওয়াংচুকের স্বাস্থ্যের কথা ভেবে আমরা স্বস্তি পেয়েছি। কিন্তু আমাদের আন্দোলন শেষ হচ্ছে না। যতদিন ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করছেন, ততদিন শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলবে।’
দীপকের দাবি, সরকারের তরফে যে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে, তা মূল সমস্যার সমাধান নয়। তাঁদের মতে, কেবল দ্রুত বিচার বা নতুন আইনের প্রতিশ্রুতি যথেষ্ট নয়। দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সরাসরি ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে।
এ দিকে, শুক্রবার দিল্লির রবি মার্গের কনস্টিটিউশন ক্লাবে বেলা সাড়ে ১২টায় কেন্দ্রের প্রতিনিধি এবং CJP-র প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠকেরও কথা রয়েছে। আন্দোলনকারীদের আশা, আলোচনার মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার এবং প্রশ্নফাঁস রোধে কার্যকর পদক্ষেপের রূপরেখা সামনে আসবে।