• স্থগিতাদেশ সত্ত্বেও কেন বুলডোজ়ার, রুষ্ট কোর্ট, ভাটপাড়ায় আইন ভেঙে বিপাকে পুরসভা ও থানা
    এই সময় | ২৪ জুলাই ২০২৬
  • এই সময়, ভাটপাড়া ও কলকাতা: আদালতের স্থগিতাদেশ থাকা সত্ত্বেও ভাটপাড়া পুরসভার প্রাক্তন পুর প্রশাসক গোপাল রাউতের বাড়ি বুলডোজ়ার দিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে হাইকোর্টে তীব্র অস্বস্তিতে পড়তে হলো পুলিশ ও পুরসভাকে। ওই ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার কলকাতা হাইকোর্টে হাজিরা দিতে হয় ভাটপাড়া পুরসভার ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক এবং ভাটপাড়া থানার আইসিকে। তাঁদের আদালতের তীব্র ভর্ৎসনার মুখেও পড়তে হয়।

    অভিযোগ ছিল, কাঁকিনাড়া জুটমিলের জমি দখল করে বাড়ি তৈরি করেছিলেন ভাটপাড়া পুরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলার গোপাল রাউত। যা নিয়ে আদালতে মামলাও চলছিল। ভাটপাড়া পুরসভার তরফে ওই বাড়ি ভেঙে ফেলার নোটিস দেওয়া হয়েছিল গোপালকে। কিন্তু তাঁর পরিবার হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়। হাইকোর্ট ওই নোটিসে স্থগিতদেশ দিয়েছিল। কিন্তু এর পরও বুধবার গোপাল রাউতের বাড়ি ভাঙা শুরু করে দেয় ভাটপাড়া পুরসভা।

    এর বিরুদ্ধে প্রাক্তন পুরপ্রশাসকের পরিবার ফের হাইকোর্টে গেলে বিচারপতি রাজা বসুচৌধুরী ভাটপাড়া পুরসভার বর্তমান প্রশাসক এবং ভাটপাড়া থানার আইসিকে সশরীরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেন। বৃহস্পতিবার দু’জনেই কলকাতা হাইকোর্টে হাজির হলে বিচারপতির কঠিন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয় তাঁদের। এ দিন শুনানির সময় বিচারপতি জানিয়েছেন, ওই নির্মাণ অনুমোদন নিয়ে হয়েছে কি না তা জানতে প্রয়োজনীয় সব নথি তলব করা হবে। কিন্তু তার আগে আইনের শাসন ফেরা জরুরি। এর পরই বিচারপতি ভাটপাড়া পুরসভার প্রশাসকের কাছে জানতে চান, হাইকোর্ট নির্দেশ দেওয়ার পরও কী ভাবে বাড়িটি ভাঙা হচ্ছিল?

    এর উত্তরে প্রশাসক জানান, ‘বুধবার আমি সরকারি প্রশিক্ষণে ছিলাম, ফলে আদালতের নির্দেশনামা সময় মতো পাইনি। বিকেলে বিষয়টি জানতে পেরেই তৎক্ষণাৎ ভাঙার কাজ বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছি।’ এরপরই বিচারপতি বলেন, ‘কলকাতা হাইকোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল ভাটপাড়া পুরসভাকে ইমেল মারফত নির্দেশনামা পাঠিয়েছিল বেলা পৌনে একটা নাগাদ। কিন্তু তার পরও বেলা দুটো নাগাদ বাড়ি ভাঙার কাজ কী ভাবে শুরু হয়? কী ভাবে আদালতের নির্দেশ লঙ্ঘন হলো?’

    ভাটপাড়ার প্রশাসকের যুক্তি, তিনি নিজে ইমেল দেখভাল করেন না, অফিসের অন্যান্য কর্মীরা এটা করে থাকেন। তাই নির্দেশনামার বিষয়টি তিনি কিছু সময় পরে জানতে পারেন। এর পরই তিনি ব্যবস্থা নিয়েছেন। শুনানির শেষে বিচারপতি জানিয়েছেন আগামী ২৯ জুলাই পরবর্তী শুনানির আগে হলফনামা দিয়ে নিজেদের বক্তব্য জানাতে হবে ভাটপাড়া পুরসভার প্রশাসককে। যিনি ওই ইমেল দেখাশোনা করেন তাঁর সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য দিতে হবে। ভাটপাড়া থানার আইসি এ দিন আদালতকে জানিয়েছেন, তাঁরা আগেই হলফনামা জমা করেছেন।

    পুলিশের বক্তব্য, আগেই ওই জায়গায় পুলিশকর্মী মোতায়েন ছিল। পরে তাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। এর পর আবার নতুন করে একদল পুলিশকর্মী পাঠানো হয়েছিল। সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর আদালতের পর্যবেক্ষণ, পুলিশ ও প্রশাসনের বক্তব্যে অমিল রয়েছে। ফলে এর ফয়সালা হওয়া প্রয়োজন। এর পরই বিচারপতি ব্যারাকপুরের মহকুমাশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বাস্তব পরিস্থিতি নিয়ে রিপোর্ট দিতে হবে। আপাতত ওই জায়গায় কোনও নির্মাণকাজ বা ভাঙার কাজ করা যাবে না। এ দিনের শুনানির পর কাউন্সিলার গোপাল রাউতের ছেলে ধর্মেন্দ্র রাউত বলেন, ‘আদালতের উপরে আমাদের ভরসা আছে। কিন্তু ভাটপাড়া পুরসভা ও থানা যে ভাবে আদালতের নির্দেশ অমান্য করছে, সেটা মেনে নেওয়া যায় না।’

  • Link to this news (এই সময়)