• ঘুমন্ত অবস্থায় স্ত্রীকে খুনের অভিযোগ, যাবজ্জীবন চিকিৎসকের
    এই সময় | ২৪ জুলাই ২০২৬
  • এই সময়, বনগাঁ: ঘুমন্ত অবস্থায় চিকিৎসক স্ত্রীকে খুনের দায়ে বৃহস্পতিবার অভিযুক্ত স্বামীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দিলেন বনগাঁ আদালতের বিচারক। আসামি অরিন্দম বালা নিজেও একজন চিকিৎসক। গত তিন বছর ধরে মামলা চলার পর এ দিন বনগাঁ আদালতের অ্যাডিশনাল ডিস্ট্রিক্ট জাজ-২ কোর্টের বিচারক এই রায় শুনিয়েছেন। আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে, ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ (খুন) ধারায় অরিন্দম বালাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি ১ লক্ষ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন বছরের কারাদণ্ডের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। ১ লক্ষ টাকার মধ্যে ৫০ হাজার টাকা নিহতের পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছেন বিচারক। আদালতের এই রায়ে খুশি নিহত তরুণীর বৃদ্ধ বাবা–মা।

    বাগদা থানার মণ্ডপঘাটা গ্রামে বাড়ি পেশায় চিকিৎসক অরিন্দম বালার। তিনি কলকাতার একটি নামি সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক। ২০২১ সালে অরিন্দমের সঙ্গে প্রেম করে বিয়ে হয়েছিল রত্নোত্তমা দে–র। রত্নোত্তমা নিজেও একজন হোমিয়োপ্যাথি চিকিৎসক ছিলেন। অভিযোগ, বিয়ের কিছুদিন পর থেকেই পণের দাবি শুরু করেন অরিন্দম। কখনও কলকাতার ওই নামি হাসপাতালের কাছে ফ্ল্যাট কিনে দেওয়ার জন্য শ্বশুরবাড়ি থেকে টাকা নিয়ে আসার জন্য চাপ দিতেন স্ত্রীকে। কখনও গাড়ি কেনার জন্য। কিন্তু স্বামীর এই দাবি মানতে চাননি রত্নোত্তমা।

    স্বামীর অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে বাপের বাড়িতে চলে এসেছিলেন রত্নোত্তমা। পরে অরিন্দম শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে স্ত্রীকে নিয়ে এসেছিলেন। এর পর ২০২৩–এর ২০ অগস্ট রাতে ঘুমন্ত স্ত্রীকে ঘুমের ইঞ্জেকশন দেন অরিন্দম। পরে অস্ত্রোপচারের ছুরি দিয়েই স্ত্রীর গলার শিরা কেটে খুন করেন। খুনের পরেও স্ত্রীর দেহের পাশেই রাত কাটিয়েছিলেন ওই চিকিৎসক। পরের দিন সকালে অরিন্দম বাগদা থানায় গিয়ে খুনের কথা স্বীকার করেন। রত্নোত্তমার বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে বাগদা থানার পুলিশ অরিন্দমকে গ্রেপ্তার করে।

    মামলার সরকারি আইনজীবী সঞ্জয় দাস বলেন, ‘বিচারকের কাছে আমি এই নৃশংস খুনে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ সাজার আবেদন জানিয়েছিলাম। এটা একটা সোশ্যাল ক্রাইম।’ নিহত রত্নোত্তমার মা মনীষা দে বলেন, ‘ওর ফাঁসি হলে ভালো হতো।তবে এই রায়ে আমরা খুশি।’ নিহতের বাবা রাজীব কুমার দে বলেন, ‘পণের জন্য ফ্ল্যাট–গাড়ি কেনার টাকার দাবি করত জামাই। কিন্তু মেয়ে রাজি হয়নি। এতদিন বারাসত থেকে প্রতি শুনানিতে বনগাঁ কোর্টে হাজির থেকেছি বিচারের আশায়। বিচারক যে রায় শুনিয়েছেন তাতে আমরা সন্তুষ্ট।’

  • Link to this news (এই সময়)