মালদায় BSF দপ্তরে গুলি চলার ঘটনায় দুই জওয়ান নিহত হয়েছেন। তবে গুলিবিদ্ধ হলেও অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন হুগলির পোলবার বাসিন্দা বিকাশ ব্রহ্ম (৪৩)। তাঁর শারীরিক পরিস্থিতি আপাতত স্থিতিশীল বলে জানা গিয়েছে। তবে দুশ্চিন্তায় রয়েছে বিকাশের পরিবার। শুক্রবার তাঁকে দেখতে মালদায় যাচ্ছেন তাঁর পরিবারের লোকজন।
বিএসএফের ১১৯ নম্বর এবং ৭১ নম্বর ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তর রয়েছে মালদহের বৈষ্ণবনগরে। বৃহস্পতিবার দুপুরে সেখানে আচমকাই সহকর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি চালানোর অভিযোগ ওঠে জওয়ান শিবম মিশ্রের বিরুদ্ধে। গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন অজয় কুমার সিংহ (৫১) এবং আম্বদর সুরেশ দরগু (৩৭)। গুরুতর জখম হন বিকাশ। তাঁরা প্রত্যেকেই ৭১ নম্বর ব্যাটেলিয়ানের জওয়ান বলে জানা গিয়েছে।
বিকাশকে সঙ্গে সঙ্গে মালদা মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। সেখানেই তাঁর চিকিৎসা চলছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, বিকাশের শরীর থেকে গুলি বের করা হয়েছে। তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল। ঘটনার খবর পাওয়া মাত্র বিকাশের এক সহকর্মীকে ফোন করেন তাঁর স্ত্রী স্বপ্না ব্রহ্ম। পরে স্বামীর সঙ্গেও কথা হয় তাঁর। কান্নাভেজা গলায় স্বপ্না বলেন, ‘পনেরো দিনের ছুটিতে বাড়ি এসেছিল। ৬ তারিখ ডিউটিতে যোগ দিয়েছে। রোজই ফোনে কথা হয়। তার মধ্যেই এই ঘটনা।’
বিকাশ ও স্বপ্নার দুই সন্তান। মা ও দাদার সঙ্গে পোলবার বাড়িতে থাকেন তাঁরা। ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে স্বপ্না বলেন, ‘আমার স্বামীর বিকেল ৪টে থেকে ডিউটি ছিল। হঠাৎ চিৎকার আর গুলির শব্দ শুনে ছুটে যায়।’ অভিযুক্ত জওয়ান আগেও একবার সহকর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছিলেন বলে দাবি স্বপ্নার। তিনি বলেন, ‘ওই জওয়ানকে একজন সেন্ট্রি বাথরুমে নিয়ে যাচ্ছিলেন। তাঁকে মেরে তাঁর বন্দুক কেড়ে নিয়ে তিনি এলোপাথাড়ি গুলি চালাতে শুরু করেন।’
সেই ঘটনাতেই অজয় ও আম্বদরের মৃত্যু হয়। বিএসএফ সূত্রে খবর, অজয়ের বাড়ি বিহারের ছাপরায়। অম্বদর মহারাষ্ট্রের গড়চিরৌলির বাসিন্দা। বিকাশের স্ত্রী স্বপ্না বলেন, ‘গত পঁচিশ বছর কাশ্মীর, পাঞ্জাব, অসম-সহ বিভিন্ন রাজ্যে পোস্টিং ছিল। এরকম কখনও ঘটেনি।’ তিনি জানান, ঘটনার পরে বিকাশের সঙ্গে তাঁর ফোনে কথা হয়েছে। স্বপ্নার কথায়, ‘বিকাশ বলেছে, চিন্তার কিছু নেই।’ তবে এ দিনই তাঁরা মালদায় যাচ্ছেন, বিকাশের সঙ্গে দেখা করবেন বলে, জানিয়েছেন স্বপ্না।
বৃহস্পতিবার বৈষ্ণবনগরে BSF-এর সদর দপ্তরে এক জওয়ান সহকর্মীদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়েছে বলে অভিযোগ। এতে দুই জওয়ানের মৃত্যু হয়েছে এবং একাধিক জওয়ান আহত হয়েছেন।
মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে তাঁর শরীর থেকে গুলি বের করা হয়েছে। হাসপাতাল সূত্রে জানা গিয়েছে, তাঁর শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল।
তিনি হুগলি জেলার পোলবার বাসিন্দা।
শুক্রবার স্ত্রী স্বপ্না ব্রহ্ম-সহ পরিবারের সদস্যরা মালদায় যাচ্ছেন। হাসপাতালে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করবেন।
পরিবারের দাবি, বিকেলের ডিউটির আগে গুলির শব্দ ও চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে গেলে এলোপাথাড়ি গুলিতে তিনি আহত হন।
অজয় কুমার সিংহ (বিহারের ছাপড়ার বাসিন্দা) এবং আম্বদর সুরেশ দরগু (মহারাষ্ট্রের গড়চিরৌলির বাসিন্দা) গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান।
পরিবারের দাবি, অভিযুক্ত জওয়ানকে বাথরুমে নিয়ে যাওয়ার সময় তিনি এক সেন্ট্রিকে আক্রমণ করে তাঁর বন্দুক ছিনিয়ে নেন এবং তারপর এলোপাথাড়ি গুলি চালান। এই অভিযোগের তদন্ত চলছে।
স্ত্রী স্বপ্না ব্রহ্ম জানিয়েছেন, ফোনে কথা বলে বিকাশ তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন। তাঁর কথায়, ‘চিন্তার কিছু নেই।’