• 'শেষ বিদায়েও' অশান্তি! নবদ্বীপ মহাশ্মশানে উদ্বেগ বাড়িয়ে যা ঘটছে, শুনলে আঁতকে উঠবেন
    News18 বাংলা | ২৪ জুলাই ২০২৬
  • : নিরাপত্তাহীন নবদ্বীপ মহাশ্মশান, কর্মীর অভাবে ব্যাহত পরিষেবা, বাড়ছে উদ্বেগ। নদিয়া জেলার অন্যতম প্রাচীন ও ব্যস্ত শ্মশান নবদ্বীপ মহাশ্মশান। জেলার বিভিন্ন প্রান্ত তো বটেই, প্রতিবেশী জেলা ও রাজ্য থেকেও বহু মানুষ তাঁদের প্রিয়জনের শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে এখানে আসেন। অনেকেরই শেষ ইচ্ছা থাকে মৃত্যুর পর এই মহাশ্মশানেই যেন দাহ করা হয়। সেই কারণে সারা বছরই এখানে মৃতদেহ সৎকারের চাপ থাকে। বর্তমানে শ্মশানে তিনটি বৈদ্যুতিক চুল্লি, কাঠের চুল্লি এবং মৃতদেহ সংরক্ষণের পরিকাঠামো রয়েছে। তবে পরিকাঠামো থাকলেও কর্মী সংকট ও নিরাপত্তার অভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

    শ্মশান সূত্রে জানা গিয়েছে, বর্তমানে একজন ডোম এবং একজন অপারেটরের অভাব রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নতুন নিয়োগ না হওয়ায় পরিষেবা চালাতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। পূর্বের অনেক কর্মী মারা গিয়েছেন বা শারীরিকভাবে অক্ষম হয়ে পড়েছেন। ফলে অস্থায়ী কর্মীদের দিয়েই কোনওরকমে পরিষেবা চালানো হচ্ছে। এমনকি ডোমের অভাবে অনভিজ্ঞ কয়েকজন যুবককে দিয়ে চুল্লির কাজ করাতে হচ্ছে বলেও অভিযোগ।

    সবচেয়ে বড় সমস্যা দেখা দেয় সন্ধ্যা ও রাতের শিফটে। শ্মশান কর্মীদের অভিযোগ, প্রায় প্রতিদিনই মৃতদেহের সঙ্গে আসা কিছু ব্যক্তি মদ্যপ অবস্থায় হইচই, গালিগালাজ ও ভাঙচুরের চেষ্টা করেন। অনেক সময় কর্মীদেরও হেনস্তার শিকার হতে হয়। কয়েকদিন আগে এক মদ্যপ যুবক বৈদ্যুতিক চুল্লিতে ঝাঁপ দেওয়ার চেষ্টা করলে উপস্থিত কর্মীদের তৎপরতায় বড় দুর্ঘটনা এড়ানো যায়। এরপর থেকেই নিরাপত্তার স্বার্থে চুল্লির সামনে ছয় জনের বেশি কাউকে যেতে দেওয়া হচ্ছে না।

    শ্মশানের ইনচার্জ সনৎ দত্ত বলেন, “আজকাল অনেকেই মৃতদেহ সৎকার করতে এসে মদ্যপান করে হইচই করেন। মৃতের পরিবারের সদস্যরা শোকে থাকলেও অন্যরা উৎসবের পরিবেশ তৈরি করেন। থানায় খবর দিলে পুলিশ পৌঁছনোর আগেই অধিকাংশ ক্ষেত্রে দুষ্কৃতীরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। তাই স্থায়ী নিরাপত্তারক্ষী অত্যন্ত জরুরি।”

    এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হলে খবর পেলেই দ্রুত পুলিশ পাঠানো হবে। যদিও শ্মশান কর্মীদের দাবি, তাৎক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থায়ী নিরাপত্তারক্ষী ও শূন্যপদে দ্রুত নিয়োগই এখন সময়ের দাবি। সম্প্রতি নবদ্বীপ পৌরসভা প্রশাসকের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। তাই নতুন প্রশাসনের কাছে দ্রুত এই সমস্যার সমাধানের আশায় রয়েছেন শ্মশানের কর্মীরা।
  • Link to this news (News18 বাংলা)