সোনম ওয়াংচুক অনশন ভেঙেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জানিয়েছেন, নিটের প্রশ্ন ফাঁস নিয়ে আরও কঠোর পদক্ষেপ করা হবে। তবুও প্রতিবাদের পথ থেকে সরতে অনড় ককরোচ জনতা পার্টি। গত ৩৫ দিন ধরে যন্তর মন্তরে আন্দোলন করেছে তারা। সেই প্রতিবাদের প্রধান দাবি ছিল শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা। পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে জানিয়েছেন, ধর্মেন্দ্র ইস্তফা না দেওয়া পর্যন্ত আগের মতোই চলবে তাঁদের প্রতিবাদ। সূত্রের খবর শুক্রবার দুপুরে সিজেপি সঙ্গে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধিদের বৈঠক হতে পারে।
কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা-সহ একগুচ্ছ দাবিতে দীর্ঘদিন ধরেই দিল্লির যন্তর মন্তরে চলছিল প্রতিবাদ কর্মসূচি। সেখানে যোগ দেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ তথা সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। অনির্দিষ্টকালের জন্য অনশন শুরু করেন। তারপর ককরোচ জনতা পার্টির ডাকে সোমবার পথে নামেন লক্ষাধিক পড়ুয়া। সংসদ ভবন অভিযানের ডাক দেন। সেই প্রতিবাদ রুখতে নির্বিচারে লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস ছোড়া, মহিলাদের ইচ্ছাকৃতভাবে আঘাত করার মতো নানা অভিযোগ উঠেছে দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে।
২৬ দিন পর অবশেষে অনশন ভেঙেছেন সোনম। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে দিল্লির বেসরকারি হাসপাতালে পৌঁছে তাঁকে নিজে হাতে খাইয়ে দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা। বেশ কয়েকটি শর্তে অনশন ভেঙেছেন সোনম। সেই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ককরোচরা। অভিজিৎ জানান, ‘সোনম স্যর অনশন ভেঙেছেন সেটা আমাদের জন্য খুবই স্বস্তির। নিজের জীবন বাজি রেখে গোটা দেশের চেতনাকে তিনি জাগিয়ে তুলেছিলেন। আমাদের দেশের জন্য আপনার প্রাণ অত্যন্ত মূল্যবান।’
কিন্তু অনশন শেষ হলেও আন্দোলন শেষ হচ্ছে না। অভিজিৎ জানিয়েছেন, যন্তর মন্তরে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ যেমন চলছিল তেমনই চলবে, ধর্মেন্দ্র প্রধান ইস্তফা না দেওয়া পর্যন্ত। জানা গিয়েছে, শুক্রবার দুপুর ১২টার পর কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের সঙ্গে ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিনিধি দলের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। এই আলোচনায় সরকারের প্রতিনিধিত্ব করবেন কেন্দ্রের শীর্ষস্থানীয় নেতারা। তারপর কি কেন্দ্রের সঙ্গে সহমত হয়ে আন্দোলনের পথ থেকে সরে আসবে পড়ুয়ারা?