• ২০২৪ নিট প্রশ্ন ফাঁসের অভিযুক্তকে সিবিআই ক্লিনচিট
    বর্তমান | ২৪ জুলাই ২০২৬
  • নয়াদিল্লি: শুধু এবছর নয়, ২০২৪ সালেও নিট-ইউজি প্রশ্নপত্র ফাঁসকাণ্ডে উত্তাল হয়েছিল দেশ। টানা ১১ মাস চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়ে বেড়ানোর পর মূল অভিযুক্ত ধরা পড়েছিল জালে। বিহার পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল নিট প্রশ্নফাঁস কাণ্ডের ‘কিংপিন’ সঞ্জীব কুমার ওরফে সঞ্জীব মুখিয়াকে। সেই মুখিয়াকেই বৃহস্পতিবার ‘ক্লিনচিট’ দিয়ে দিল সিবিআই। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দাবি, সবিস্তারে তদন্তের পরও ২০২৪ নিট প্রশ্নফাঁসের সঙ্গে এই ব্যক্তির জড়িত থাকার বিষয়টি প্রতিষ্ঠিত করা যায়নি। তার বিরুদ্ধে মেলেনি কোনো প্রমাণ। তাই বিহার পুলিশের দায়ের করা প্রাথমিক এফআইআরে নাম থাকা সত্ত্বেও এই মামলায় ছাড় পেয়ে গেল সঞ্জীব মুখিয়া। ঘটনাচক্রে, এদিন সাতসকালেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঘোষণা করেছেন, চলতি বছরের প্রশ্নফাঁসে অভিযুক্তদের দ্রুত বিচারের লক্ষ্যে ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট গঠন করা হচ্ছে। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই সিবিআইয়ের দেওয়া এই ‘ক্লিনচিট’ বুঝিয়ে দিল ‘ককরোচ’ আন্দোলনের বাস্তবতা। প্রধানমন্ত্রী যতই দোষীদের কড়া শাস্তির আশ্বাস দিন না কেন, তা আসলে ‘ফুটো’ প্রতিশ্রুতি। আরও এক জুমলা!

    কিন্তু কে এই সঞ্জীব মুখিয়া? পুলিশের রেকর্ড বলছে, প্রশ্নপত্র ফাঁসের আন্তঃরাজ্য চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার বহু অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ২০২৪ সালের নিট-ইউজি প্রশ্নপত্র অজ্ঞাতপরিচয় এক ‘অধ্যাপকে’র কাছ থেকে হাতিয়ে মুখিয়া তা চড়া দামে বিক্রি করেছিল। সেই মামলাটি বিহার পুলিশের কাছ থেকে স্থানান্তর হয় সিবিআইয়ের হাতে। সঞ্জীবকেও নিজেদের হেপাজতে নিয়েছিল কেন্দ্রীয় এজেন্সি। এদিন সিবিআই বলেছে, বিস্তারিত তদন্তের মাধ্যমে প্রশ্নপত্র চুরি, বিতরণ ও তা থেকে সুবিধা পাওয়া প্রত্যেককে শনাক্ত করা হয়েছে। মোট ৪৫ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে পাটনা আদালতে একাধিক চার্জশিট পেশ করা হয়েছে। তবে মুখিয়ার বিরুদ্ধে কোনো প্রমাণ তদন্তকারীরা পায়নি। তাই সিবিআইয়ের পেশ করা কোনো চার্জশিটে মুখিয়ার নাম রাখা যায়নি। এর ফলে ২০২৪ সালের নিট কেলেঙ্কারিতে সে জামিন পেয়েছে। তবে মুখিয়ার বিরুদ্ধে আরও একাধিক মামলায় বিহার পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে। সেই মামলাগুলিতে তার বিচার বিভাগীয় হেপাজত বহালই থাকছে।
  • Link to this news (বর্তমান)