• রাজ্যের পর্যটনে বড় পরিকল্পনা, দার্জিলিং সহ দুই গন্তব্যকে গ্লোবাল মানচিত্রে তুলতে উদ্যোগী পর্যটন মন্ত্রী শংকর ঘোষ
    বর্তমান | ২৪ জুলাই ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: রাজ্যে দুটি পর্যটনকেন্দ্রকে গ্লোবাল ডেস্টিনেশন হিসাবে তুলে ধরা হবে। এর মধ্যে একটি দার্জিলিং। অন্যটি সুন্দরবন অথবা মন্দারমণি। কেন্দ্রের আর্থিক বরাদ্দ মিলবে। কথা দিয়েছেন কেন্দ্রীয় পর্যটন মন্ত্রী গজেন্দ্র সিং শেখাওয়াত। বিধানসভায় বললেন রাজ্যের পর্যটন মন্ত্রী শংকর ঘোষ। তিনি বলেন, 'এতদিন রাজ্যের পর্যটন দপ্তর কুয়োর ব্যাঙ হয়ে ছিল। কিন্তু এখন আমরা রাজ্যের পর্যটন দপ্তরকে বিশাল সমুদ্রে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছি। পর্যটকদের যাতে হেনস্তা বা হয়রানির শিকার হতে না হয়, সেজন্য শিলিগুড়ি পুলিশের উদ্যোগে ইতিমধ্যে হেল্প লাইন চালু হয়েছে। গোটা রাজ্যের জন্য আমরা ট্যুরিজম দপ্তরের পক্ষ থেকে হেল্প লাইন চালু করছি। অ্যাপ চালু হচ্ছে। আগের সরকারের আমলে পর্যটন দপ্তর চরম অবহেলিত ছিল।'

    পর্যটন দপ্তরের বিলাসবহুল কটেজগুলি তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য তালাবন্ধ করে রেখে দেওয়া হত। শংকরের দাবি, ২০২২-২৩ সালে বাজেটে রাজ্যের পর্যটনের জন্য ৪৭৭ কোটি টাকা বরাদ্দ ধরা হয়েছিল। খরচ হয় ১২০ কোটি টাকা। ২০২৩-২৪ সালে বরাদ্দ ধরা হয় ৩৩১ কোটি টাকা। খরচ হয় ১২৩ কোটি টাকা। ২০২৪-২৫ সালে বরাদ্দ ধরা হয় ৫২১ কোটি টাকা। খরচ হয় ১৩২ কোটি টাকা। ২০২৫-২৬ সালে পর্যটনে বাজেট ধরা হয় ৫২৩ কোটি টাকা। খরচ হয় ১৪২ কোটি টাকা। শংকরের তোপ, আগের সরকারের আমলে একজন পর্যটন মন্ত্রী ছিলেন, যাঁর কাজ বলতে ছিল মাঝেমধ্যে গান শোনানো। হয়তো গান শোনানোর জন্যই তাঁকে পর্যটন মন্ত্রী করে রাখা হয়েছিল। শংকর বলেন, আমরা চারটি বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছি। কেন্দ্রের সহযোগিতায় মিরিক লেকের সংস্কার ও সৌন্দর্যায়নে খরচ হবে ১০০ কোটি। ৫৫ কোটি ব্যয়ে আমরা সুন্দরবনের নয়া প্রবেশদ্বার লেবুখালি সাজাব। ধান্যকুড়িয়া হেরিটেজ সাইট সংরক্ষণে খরচ করা হবে ১৫ কোটি। দার্জিলিং পাহাড়ে বিভিন্ন সাইট সাজিয়ে তুলতে খরচ হবে ১৪ কোটি। সুন্দরবনে পরিবেশ বান্ধব পর্যটন পরিকল্পনা রয়েছে। ২৬ জুলাই এনিয়ে আমি এলাকার মানুষের সঙ্গে কথা বলব। পর্যটনে রাজ্যে ১০৮ টি ধর্মীয় সার্কিট করা হচ্ছে। এর মধ্যে চারশোর বেশি মন্দির ও ধর্মীয় স্থানকে যুক্ত করে পরিকাঠামো উন্নয়নে কাজ হবে। আমরা হোমস্টে পলিসি তৈরি করছি। হোটেলগুলিকে ট্যুরিজম ইন্ডাস্ট্রির স্বীকৃতি দিয়ে যাতে ক্যাশ বেনিফিট ও নন ক্যাশ বেনিফিট দেওয়া যায়, তারও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রীসভায় পাশ হলে কার্যকর হবে। পর্যটনের প্রসারে পরিবেশের উপর যাতে বিরূপ প্রভাব না পড়ে সেদিকে নজর রেখেই কাজ করব।
  • Link to this news (বর্তমান)