এই সময়, আসানসোল: আসানসোল ও দুর্গাপুর— এই দুই শিল্পশহরের মধ্যে যোগাযোগ ব্যবস্থায় জোয়ার আনতে মেট্রো রেল চালুর তোড়জোড় শুরু করল রাজ্য সরকার। রাজ্য বিধানসভার বাজেটে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত আসানসোল, দুর্গাপুর ও শিলিগুড়ির মধ্যে মেট্রো চালুর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার ঘোষণা করেছিলেন। সেই ঘোষণার বাস্তবায়নে এ বার কারিগরি ও অর্থনৈতিক সম্ভাব্যতা (টেকনো-ইকোনমিক ফিজ়িবিলিটি) খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ‘রাইটস’ (রেল ইন্ডিয়া টেকনিক্যাল অ্যান্ড ইকোনমিক সার্ভিস)-কে। রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল জানান, আসানসোল-দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণে এই সমীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে।
মন্ত্রী জানান, ইস্পাত, কয়লা ও লোহা শিল্পে সমৃদ্ধ এই দুই মহকুমা এবং তৎসংলগ্ন গ্রামীণ এলাকার লক্ষ লক্ষ মানুষ প্রতিদিন কর্মসূত্রে যাতায়াত করেন। বর্তমানে সড়কপথে আসানসোল থেকে দুর্গাপুর যেতে এক থেকে দেড় ঘণ্টা এবং ট্রেনে প্রায় ৪০ মিনিট সময় লাগে। মেট্রো চলাচল শুরু হলে এই সময় অনেকটাই কমে আসবে। সরকারের লক্ষ্য, দ্রুত ও স্বাচ্ছন্দ্যময় যাত্রী পরিষেবা নিশ্চিত করে আসানসোল ও দুর্গাপুরকে স্মার্ট সিটিতে উন্নীত করা, যা ভবিষ্যতে মেগাসিটির রূপ নেবে।
রাইটসের দিল্লির এক উচ্চপদস্থ আধিকারিক জানান, রাজ্য সরকারের প্রস্তাব পাওয়ার পরেই তাঁরা এই প্রকল্পে কাজ করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। নির্দিষ্ট কিছু তথ্যের জন্য রাজ্যকে চিঠিও পাঠানো হয়েছে, যার উত্তর মিললেই পুরোদমে কাজ শুরু হবে। সমীক্ষার কাজ সুচারু ভাবে সম্পন্ন করতে রাইটসের দিল্লির বিশেষজ্ঞ এবং পশ্চিমবঙ্গে কর্মরত রেল বিশেষজ্ঞদের নিয়ে একটি পৃথক টিম তৈরি করা হচ্ছে। স্যাটেলাইট ইমেজিং বা এরিয়াল ভিউ এবং সরেজমিনে গ্রাউন্ড-লেভেল— এই দুই পদ্ধতিতেই সমীক্ষা চালানো হবে। শুধু ভূপ্রকৃতি নয়, দুই শহরের সম্ভাব্য যাত্রীসংখ্যা ও পরিষেবা ব্যবস্থার চিত্রও এতে উঠে আসবে।
রানিগঞ্জ থেকে পাণ্ডবেশ্বর পর্যন্ত বিস্তৃত কয়লাখনি অঞ্চলের ভৌগোলিক গঠন প্রসঙ্গে রাইটস জানিয়েছে, ভূগর্ভে কয়লা থাকলেও প্রকল্প নির্মাণে কোনও বড় বাধা তৈরি হবে না। সব মিলিয়ে কাজ শুরুর চার থেকে ছয় মাসের মধ্যেই সম্পূর্ণ রিপোর্ট জমা দেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। আসানসোল-দুর্গাপুরের মেট্রো রেল সমীক্ষার জন্য রাইটসের তরফে আলাদা করে একটি বিশেষ দলও তৈরি করা হবে। মেগাসিটি গড়ার এই মেগা উদ্যোগে স্বভাবতই খুশির হাওয়া শিল্পাঞ্চলের বণিকসভা থেকে শুরু করে সাধারণ নিত্যযাত্রীদের মধ্যে।