• প্রতি মরশুমে ট্রলার ডুবিতে ক্ষুব্ধ মৎস্যজীবীরা, ইঞ্জিনে পুরনো যন্ত্রাংশের ব্যবহারেই কি দুর্ঘটনা?
    এই সময় | ২৪ জুলাই ২০২৬
  • সোমনাথ মাইতি, শঙ্করপুর

    মাছ ধরার মরশুম শুরু হলেই সমুদ্রে নামার তোড়জোড় শুরু করে দেন ট্রলার মালিকেরা। প্রায় প্রতি বছরেই ঘটে দুর্ঘটনাও। কখনও প্রাকৃতিক দুর্যোগ তো কখনও ধরা পড়ে ট্রলারের যান্ত্রিক ত্রুটি। আর এখানেই উঠছে প্রশ্ন। সম্প্রতি শঙ্করপুর থেকে রওনা হওয়া ‘জয় মা কালী’ ট্রলারের দুর্ঘটনায় কারণ হিসেবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিষয়টি উঠে এলেও যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল কি না সেই প্র​শ্নও উঠেছে।

    ট্রলার বা ফিশিং বোটে ইঞ্জিনে পুরোনো যন্ত্রাংশের ব্যবহারও দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে অভিযোগ মৎস্যজীবীদের। এ ব্যাপারে প্রশাসনের তরফে উপযুক্ত নজরদারির অভাবের অভিযোগও তুলেছেন তাঁরা। ‘জয় মা কালী’ ট্রলারের দুর্ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতে বৃহস্পতিবার শঙ্করপুরে ফের একটি ফিশিং বোট খারাপ হওয়ার ঘটনা সেই অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে। এ দিন সকালে শঙ্করপুর মৎস্যবন্দর থেকে সমুদ্রের ৫–৬ কিলোমিটার ভিতরে মাছ ধরতে যাওয়া একটি ফিশিং বোট খারাপ হওয়ার ঘটনা ঘটে। ইঞ্জিনে সমস্যার কারণে বোটটি সমুদ্রে খারাপ হয়ে যায়। খবর পেয়ে আর একটি বোট পাঠিয়ে খারাপ বোটটিকে টেনে আনা হয়েছে বলে দিঘা মোহনা কোস্টাল থানার পুলিশ জানিয়েছে।

    কাঁথি মৎস্যদপ্তর সূত্রে জানা গিয়েছে, দিঘা থেকে পেটুয়াঘাট উপকূলে সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া ফিশিং বোট, ট্রলার ও নৌকোর সংখ্য প্রায় তিন হাজার। যদিও মৎস্যজীবীরা জানাচ্ছেন সংখ্যাটা আরও অনেক বেশি। মৎস্যদপ্তরের নিয়মানুসারে সব ধরনের ফিশিং বোট ও ট্রলারকে রেজিস্ট্রেশন করতে হয় সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়ার আগে। মৎস্যজীবীদের অভিযোগ, আর্থিক কারণে ফিশিং বোট বা যন্ত্রচালিত নৌকো পুরোনো ইঞ্জিন ও যন্ত্রাংশের উপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণ না করেই সমুদ্রে মাছ ধরতে নেমে পড়ে। ফলে সমুদ্রে মাছ ধরার সময় ইঞ্জিন খারাপ হয়ে দুর্ঘটনাও ঘটে। পাশাপাশি প্রশাসনের তরফেও এ বিষয়ে তেমন কোনও পদক্ষেপ করা হয় না বলে অভিযোগ।

    সমস্যার কথা স্বীকার করে দিঘা ফিশারম্যান অ্যান্ড ফিশ ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক শ্যামসুন্দর দাস বলেন, ‘ট্রলারের ইঞ্জিন দু–তিন বছর অন্তর হদল করা হলেও বেশিরভাগ ফিশিং বোট বা যন্ত্রচালিত নৌকোর ক্ষেত্রে তা করা হয় না।’ একই বক্তব্য, শঙ্করপুর ফিশারম্যান অ্যান্ড ফিশ ট্রেডার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি সুভাষ নায়কের। তবে পুলিশ ও প্রশাসনের দাবি, মৎস্যজীবী সংগঠন থাকলেও মৎস্যজীবীরা সমুদ্রে যান অসংগঠিত ভাবে। ফলে কোন ফিশিং বোট, ট্রলার কোথা থেকে সমুদ্রে যাচ্ছে, কোথায় ফিরছে, দুর্যোগের সময়ে কোন এলাকা বা মৎস্যবন্দরে আছে তার তথ্য তাদের কাছে থাকে না। ফলে দুর্ঘটনা ঘটলে হিমসিম খেতে হয় পুলিশকে।

    দক্ষিণবঙ্গ মৎস্যজীবী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক দেবাশিস শ্যামল বলেন, ‘রেজিস্ট্রেশনের ঝামেলা এড়াতে এক শ্রেণির ফিশিং বোট, ট্রলার মালিকদের মধ্যে রেজিস্ট্রশন না করার প্রবণতা বেড়েছে। মৎস্যদপ্তরের নজরদারির অভাবে এটা বাড়ছে। কাঁথি মৎস্যদপ্তরের সহ–মৎস্য অধিকর্তা (সামুদ্রিক) সুমন সাহা বলেন, ‘পুরোনো ইঞ্জিনের ব্যবহার ও রেজিস্ট্রেশন না করার কথা শুনেছি। এ ব্যাপারে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

  • Link to this news (এই সময়)