বাড়ির দোতলায় গড়ে উঠেছিল মাদক কারবারের গোপন আস্তানা! ১০০ গ্রামের ছোট ছোট প্যাকেটে ভরা হচ্ছিল ব্রাউন সুগার। গোপন সূত্রের খবরে পুলিশের হানায় উদ্ধার বিপুল পরিমাণ নিষিদ্ধ মাদক। মালদহের গাজোলে বড়সড় মাদকবিরোধী অভিযানে সাফল্য পেল পুলিশ। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার গভীর রাতে গাজোলের শিক্ষকপল্লী এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ব্রাউন সুগার উদ্ধার করে গাজোল থানার পুলিশ। ঘটনায় বেআইনি মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শিক্ষকপল্লীর ওই বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরেই নিষিদ্ধ মাদক ব্রাউন সুগারের বেআইনি কেনাবেচা চলছিল। বিশেষ সূত্রে খবর পেয়ে গাজোল থানার আইসি কৌশিক বিশ্বাসের নেতৃত্বে বিশাল পুলিশ বাহিনী ওই বাড়িতে হানা দেয়। তল্লাশির সময় বাড়ির দোতলার একটি ঘর থেকে একাধিক ছোট ছোট প্যাকেটে ভরা ব্রাউন সুগার উদ্ধার হয়।
আরও পড়ুনঃ ২২ হাজার টাকার ঘুষের অভিযোগ, হাতেনাতে প্রমাণ! দুই ইনস্পেক্টরের বিরূদ্ধে কড়া অ্যাকশন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান, মাদক পাচারের সুবিধার জন্য প্রতিটি প্যাকেটের ওজন প্রায় ১০০ গ্রাম করে প্রস্তুত করা হচ্ছিল। খুচরো বাজারে সরবরাহের উদ্দেশ্যেই এইভাবে প্যাকেটজাত করা হচ্ছিল বলে মনে করা হচ্ছে। উদ্ধার হওয়া সমস্ত প্যাকেট মিলিয়ে প্রায় ৩ কেজি ব্রাউন সুগার বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। আন্তর্জাতিক বাজারে যার মূল্য কয়েক কোটি টাকা হতে পারে বলে তদন্তকারী সূত্রের অনুমান। অভিযানের পর ঘটনাস্থলেই ম্যাজিস্ট্রেট পর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়। তদন্তে উপস্থিত ছিলেন গাজোলের বিডিও সুমন ঘোষ। তিনি উদ্ধার হওয়া মাদক, প্যাকেটজাত করার সরঞ্জাম এবং অন্যান্য সামগ্রী খতিয়ে দেখেন। আইন মেনে বাজেয়াপ্তির পুরো প্রক্রিয়াও সম্পন্ন করা হয়।
ধৃত চারজনকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে গাজোল থানার পুলিশ। এই বিপুল পরিমাণ ব্রাউন সুগার কোথা থেকে আনা হয়েছিল, কারা এর মূল চক্রের সঙ্গে জড়িত, কোথায় পাচারের উদ্দেশ্যে এই প্যাকেটগুলি তৈরি করা হচ্ছিল এবং এর সঙ্গে আন্তঃজেলা বা আন্তঃরাজ্য কোনও মাদক চক্রের যোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্তের স্বার্থে আরও কয়েকজনকে নজরে রাখা হয়েছে এবং এই চক্রের সঙ্গে জড়িত অন্যদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।