আরও বিপাকে কুণাল! স্পিকারের সঙ্গে কী করেছেন বিধায়ক?
আজকাল | ২৪ জুলাই ২০২৬
দীক্ষা ভুঁইয়া
বিধানসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে প্রিভিলেজ মোশন আনলেন রাজ্যের মন্ত্রী শঙ্কর ঘোষ। শুক্রবার অধিবেশন চলাকালীন শঙ্কর অভিযোগ করেন, কুণাল স্পিকারের প্রতি অশোভন ও আক্রমণাত্মক আচরণ করেছেন এবং বিধানসভার কার্যক্রম পরিচালনায় বাধা সৃষ্টি করেছেন। এই আচরণ বিধানসভার মর্যাদা ও বিধানের পরিপন্থী বলেই তিনি দাবি করেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে প্রিভিলেজ মোশন আনা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে স্পিকার বিধানসভার নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানা গিয়েছে।
গত বুধবার, বিধানসভা অধিবেশনে বক্তব্য রাখছিলেন বিধায়কেরা। আখরুজ্জামান বক্তব্য রাখার সময়ই গন্ডগোলের সূত্রপাত। তাঁর বক্তব্যের মাঝেই, এগিয়ে যান কল্যাণ। শুরু হয় হইচইয়। এক সময় কুণালকে বিধানসভার কক্ষের মধ্যেই মার্শালদের টেনে-হিঁচড়ে বের করতে দেখা যায়। বিধানসভার স্পিকারের নির্দেশে মার্শালরা তাঁকে বের করে দেন। প্রাথমিকভাবে তিনি সাসপেন্ড করার হুঁশিয়ারি দেওয়া হলেও, পরে তাঁকে সাসপেন্ড করা হয়।
বৃহস্পতিবার বুধবারের ঘটনা নিয়ে বিধানসভায় কথা বলার অনুমতি চায় কালীঘাট তৃণমূল। বৃহস্পতিবার বিধানসভায় বক্তব্য রাখতে চান কালীঘাট তৃণমূলের বিধায়ক কুণাল। তাঁকে স্পিকার রথীন্দ্র বসু প্রশ্ন করেন যে কোন বিষয়ে কথা বলতে চান তিনি। উত্তরে শোভনদেব চ্যাটার্জি জানান, বুধবারের ঘটনা নিয়েই কথা বলতে চান তিনি। কিন্তু স্পিকার তাঁদের অনুমতি দেননি। তিনি বলেন, “বিধানসভার ইতিহাসে এই ধরনের ঘটনা খুব কম ঘটেছে, এই কলঙ্কজনক অধ্যায়ের আর পুনরাবৃত্তি হবে না।”
এই 'কলঙ্কজনক' শব্দ ব্যবহার নিয়ে আপত্তি তোলেন কুণাল-শোভনদেবরা। বারবার কুণাল বলতে থাকেন, ‘কলঙ্কজনক’ শব্দ ব্যবহার না করতে। এরপরই দু’পক্ষের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। পরিস্থিতি কিছু সময়ের জন্য উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং হাউসে হইচই শুরু হয়। স্পিকার অবশ্য তাঁর অবস্থানে অনড় থাকেন। তিনি স্পষ্ট করে দেন, আগের দিনের ঘটনা নিয়ে এদিন আর কোনও আলোচনা হবে না। শেষ পর্যন্ত অধিবেশন অন্য কর্মসূচির দিকে এগিয়ে যায়।
এরপরেই আজ কুণালের বিরুদ্ধে প্রিভিলেজ মোশন এনেছেন মন্ত্রী শঙ্কর। উল্লেখ্য, চলতি অধিবেশনে শাসক ও বিরোধী পক্ষের মধ্যে একাধিক ইস্যুতে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তারই মধ্যে কুণাল ঘোষের বিরুদ্ধে প্রিভিলেজ মোশন আনা রাজনৈতিক মহলে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।