• নগর উন্নয়নে ১০ পথে এগোচ্ছে সরকার...
    আজকাল | ২৪ জুলাই ২০২৬
  • দীক্ষা ভুঁইয়া: রাজ্যে দ্রুত নগরায়ণের প্রেক্ষাপটে আগামী দিনে পরিকল্পিত ও টেকসই নগর গড়ে তুলতে বিস্তৃত রূপরেখা প্রকাশ করল রাজ্য সরকার। ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের জন্য নগর রূপান্তরের লক্ষ্যে ১০টি মূল স্তম্ভ নির্ধারণ করেছে নগর উন্নয়ন দপ্তর। একইসঙ্গে নতুন পৌরসভা গঠন, নাগরিক পরিষেবার সময়বদ্ধ প্রদান, ডিজিটাল নজরদারি ব্যবস্থা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

    সরকারি নথি অনুযায়ী, বর্তমানে রাজ্যে ১১৮টি পৌরসভা, ৭টি পৌর কর্পোরেশন, ৩টি নোটিফায়েড এরিয়া অথরিটি এবং ৩টি ইন্ডাস্ট্রিয়াল টাউনশিপ অথরিটি রয়েছে। দ্রুত বাড়তে থাকা শহর ও শহরতলির পরিকাঠামোগত চাহিদা মেটাতে জয়গাঁ, কোলাঘাট, বাগনান, কামারপুকুর, তুলসীদিঘি, শিবানন্দি, গাজোল, চাঁচল এবং বেলদায় নতুন পৌরসভা গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

    নথিতে বলা হয়েছে, পরিচ্ছন্ন, পরিকল্পিত, অন্তর্ভুক্তিমূলক, জলবায়ু-সহনশীল এবং অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ নগর গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য। বড় শহরের পাশাপাশি ছোট শহর ও উপ-নগর এলাকায়ও সমান গুরুত্ব দিয়ে পরিকাঠামো উন্নয়ন করা হবে।

    ১০টি অগ্রাধিকার ক্ষেত্র-

    স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক পৌর প্রশাসন।

    বৈজ্ঞানিক কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও স্যানিটেশনের মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন শহর গড়ে তোলা।

    সর্বজনীন ও নির্ভরযোগ্য পানীয় জলের সরবরাহ।

    নিকাশি ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদি জলাবদ্ধতা নিরসন।

    সাশ্রয়ী আবাসন ও শহরের দরিদ্র মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়ন।

    উপ-নগর ও নবগঠিত নগর এলাকার পরিকল্পিত উন্নয়ন।

    জলবায়ু-সহনশীল ও পরিবেশবান্ধব নগর পরিকাঠামো গড়ে তোলা।

    ডিজিটাল পরিষেবা প্রদান এবং নাগরিক অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি।

    শহরের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবিকা সহায়তা ও সামাজিক সুরক্ষা।

    প্রকল্প ও সরকারি কর্মসূচির ফলাফলভিত্তিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা।

    এছাড়া প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প নির্দিষ্ট সময়সীমা, ভৌত অগ্রগতি (Physical Milestones) এবং আর্থিক অগ্রগতির ভিত্তিতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হবে। নাগরিক পরিষেবার মানোন্নয়নে প্রতিটি নগর স্থানীয় সংস্থাকে Citizen Service Charter প্রকাশ করতে হবে। ট্রেড লাইসেন্স, মিউটেশন, বিল্ডিং পারমিশন, জন্ম-মৃত্যু শংসাপত্র, পানীয় জলের সংযোগ, নিকাশি সংক্রান্ত অভিযোগ ও রাস্তার আলোর মেরামতের মতো পরিষেবা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেওয়ার লক্ষ্যে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

    দপ্তর একটি ডিজিটাল পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থাও চালু করবে, যার মাধ্যমে পরিষেবা প্রদানে বিলম্ব চিহ্নিত করা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

    সরকারি জমি দখল, অবৈধ নির্মাণ, অবৈধভাবে বর্জ্য ফেলা এবং পৌর প্রশাসনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণের কথাও নথিতে উল্লেখ রয়েছে। জিআইএস-ভিত্তিক মনিটরিং, ডিজিটাল নথি সংরক্ষণ এবং স্বচ্ছ অনুমোদন ব্যবস্থা চালুর মাধ্যমে নগর প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জনআস্থা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
  • Link to this news (আজকাল)