• প্রতিবাদের মাঝেই তুমুল শোরগোল ফেলে দিলেন বিকাশ
    আজকাল | ২৪ জুলাই ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: দিল্লির যন্তর মন্তরে আন্দোলনরত পড়ুয়াদের ওপর পুলিশি বর্বরতা এবং কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এ বার তোলপাড় শুরু হল কলকাতাতেও। নয়াদিল্লিতে শিক্ষার্থীদের ওপর অত্যাচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়ে কলকাতা হাইকোর্টের বি গেট থেকে একটি বিশাল প্রতিবাদ মিছিল বের করেন আইনজীবীরা, যা শহরের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে শেষ হয় সিটি সিভিল কোর্টে।

    কলকাতা হাইকোর্টের প্রবীণ আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে এই মিছিলে দলমত নির্বিশেষে বহু আইনজীবী শামিল হয়েছিলেন। মিছিল ও পরবর্তী সমাবেশ থেকে স্লোগান ওঠে—যেকোনো মূল্যে দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে হবে। আইনজীবীদের স্পষ্ট বার্তা, এভাবে দমনপীড়ন ও পুলিশি বর্বরতা চালিয়ে সাধারণ মানুষের মুখ বন্ধ করার যে চেষ্টা চলছে, তার বিরুদ্ধেই তাঁদের এই প্রতিবাদ কর্মসূচি। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের মাধ্যমেই যে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা সম্ভব, সেই দাবিই অত্যন্ত জোরালোভাবে তুলে ধরেন তাঁরা।

    উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা-সহ একগুচ্ছ দাবিতে প্রায় ৩৫ দিন ধরে দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচি চালিয়ে আসছিলেন শিক্ষার্থীরা। সেখানে যোগ দিয়ে অনশনে বসেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ তথা সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুক। এর পরেই 'ককরোচ জনতা পার্টি'র ডাকে হাজার হাজার পড়ুয়া সংসদ ভবন অভিযানের চেষ্টা করলে তাঁদের ওপর নির্বিচারে লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ এবং নারী শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি নির্যাতনের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ ওঠে।

    দিল্লির সেই অন্যায়ের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে প্রবীণ আইনজীবী বিকাশ ভট্টাচার্য অভিযোগ করেন, ২০১৪ সাল থেকে দেশে ক্রমাগত সংবিধানকে ধ্বংস করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে নির্দিষ্ট ভাবধারার লোক বসিয়ে দেশকে একনায়কতন্ত্রের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, সারা দেশে ভোটার তালিকা থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম বাদ দিয়ে ভোটাধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। পশ্চিমবঙ্গেও প্রায় ৩৫ লাখ নাম বাদ দেওয়া এবং ২৭ লাখের বেশি মানুষের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত করে তোলার কৌশলকে তিনি সরকারের "ফ্যাসিবাদী চাল" বলে আখ্যা দেন।

    পাশাপাশি রাজ্যের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, বাংলায় এর আগে কখনও হকার ও বস্তিবাসীদের এভাবে গণহারে উচ্ছেদ করা হয়নি, যার পেছনে গভীর করপোরেট স্বার্থ কাজ করছে। সত্যের আওয়াজ চেপে দিতে দেশজুড়ে চলতে থাকা দমননীতি ও দিল্লি চত্বরে ছাত্রদের ওপর আক্রমণের কঠোর সমালোচনা করেন তিনি। কলকাতা হাইকোর্ট থেকে সিটি সিভিল কোর্ট পর্যন্ত আয়োজিত এই মিছিল থেকে দেশের সংবিধান, সাংবিধানিক মূল্যবোধ এবং সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় সর্বস্তরের মানুষকে একজোট হওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
  • Link to this news (আজকাল)