দুই দিন ধরে তেড়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা, বড় Update হাওয়া অফিসের
আজ তক | ২৪ জুলাই ২০২৬
Weather News Bangla: শ্রাবণের শুরু। ক্যালেন্ডারের পাশাপাশি তার ইঙ্গিত দিচ্ছে আবহাওয়াও। আলিপুরের (Regional Meteorological Centre, Kolkata) সাম্প্রতিক পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২৪ ও ২৫ জুলাই উত্তর থেকে দক্ষিণ; সমগ্র পশ্চিমবঙ্গ জুড়েই বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাহাড় থেকে সমতল সর্বত্রই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনা। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। কোথায় কী পূর্বাভাস? সেই বিষয়ে জানতে এই প্রতিবেদনটি শেষ পর্যন্ত পড়ুন।
উত্তরবঙ্গে পাহাড় ও ডুয়ার্সে ভারী বৃষ্টির ভ্রুকুটি
আলিপুরের আপডেট অনুযায়ী, উত্তরবঙ্গের পাঁচ পাহাড়ি ও ডুয়ার্স সংলগ্ন জেলা; দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারে আগামী ৪৮ ঘণ্টায় বৃষ্টির দাপট সবচেয়ে বেশি থাকবে। এই জেলাগুলির এক বা একাধিক জায়গায় ৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা রয়েছে। সঙ্গে ৩০ থেকে ৪০ কিলোমিটার বেগে ঝোড়ো হাওয়া বইতে পারে। লাগাতার বৃষ্টির জেরে পাহাড়ি এলাকায় দৃশ্যমানতা কমতে পারে। নিচু এলাকাগুলিতে জল জমার সমস্যা দেখা দিতে পারে।
দক্ষিণবঙ্গের সব জেলাতেই বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ঝোড়ো হাওয়ার পূর্বাভাস
দক্ষিণবঙ্গেও বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। কলকাতা, হাওড়া, হুগলি, উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, ঝাড়গ্রাম, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমান, নদীয়া, মুর্শিদাবাদ, বীরভূম, বাঁকুড়া এবং পুরুলিয়া; গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গের প্রায় সব জেলাতেই বজ্রগর্ভ মেঘ থেকে বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
আগামী ৪৮ ঘণ্টা জুড়েই এই আবহাওয়া থাকবে বলে জানিয়েছেন আবহবিদরা। খোলা মাঠে কাজ করা কৃষক ও সাধারণ পথচারীদের বজ্রপাতের সময় নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের মতে, বর্তমানে বাংলা জুড়ে এই বৃষ্টির অনুকূল পরিস্থিতির নেপথ্যে দু'টি মূল কারণ। প্রথমত, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ০.৯ কিলোমিটার উঁচুতে মৌসুমি অক্ষরেখা(Monsoon Trough) অবস্থান করছে। সেটি জলপাইগুড়ি ও কোচবিহারের ওপর দিয়ে গিয়ে কাঁথি হয়ে দক্ষিণ-পূর্ব দিকে উত্তর-পূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে।
উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে এই অক্ষরেখাটি দক্ষিণ দিকে হেলে পড়েছে। দ্বিতীয়ত, উত্তর-পূর্ব আরব সাগর থেকে শুরু করে মধ্যপ্রদেশ, ছত্তীসগঢ়, ঝাড়খণ্ড, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ এবং বাংলাদেশের ওপর দিয়ে মণিপুর পর্যন্ত একটি শক্তিশালী পূর্ব-পশ্চিম ‘শিয়ার জোন’ (East-West Shear Zone) রয়েছে। এই জোড়া সিস্টেমের প্রভাবেই সাগর থেকে বিপুল জলীয় বাষ্প ডাঙায় ঢুকছে। এই দুই প্রভাবেই আপাতত বৃষ্টি চলবে বাংলায়।